(১১তম পর্বের পর থেকে),,,,,,,,,,,
খালা রুহিকে জিজ্ঞেস করছে কিন্তু
রুহি কিছুতেই বলছে না,,
হয়তো রুহি চাচ্ছে না যে আমাকে কেউ খারাপ
ভাবুক ।
খালাঃ বল কি করে এসব হলো?
রুহিঃ ...(নিশ্চুপ)
খালাঃ বল কেন করলি এমন ?
রুহিঃ ...(নিশ্চুপ)
খালাঃ ঠাসসসস । তোকে আমার মেয়ে
ভাবতেই লজ্জা করছে,,
বল কার সাথে এসব করেছিস । না বললে তোকে আজ মেরেই ফেলবো ,,,
খালা আবার রুহির গায়ে হাত উঠাতে
যাচ্ছিল,,,
আর ঠিক সে সময়,,,
আমিঃ আমার কারনে এসব হয়েছে ।
আমার মুখ থেকে এ কথা শুনে সবাই
বাকরুদ্ধ হয়ে গেলো,,,
কেউ যেন কথাটা বিশ্বাস করতে পারছে না,,,
হঠাৎ,,
আম্মুঃ ঠাসসসস । তোর কারনে একটা
মেয়ের জীবন নষ্ট হয়ে গেল,,,
ছি ছি আমি ভাবতেই পারছি না আমার
ছেলে হয়ে তুই এ কাজ করেছিস ।
খালা একবার আমার দিকে তাকাচ্ছে,,,
একবার রুহির দিকে তাকাচ্ছে,,,
খালা যেন কথাটা বিশ্বাস করতে
পারছে না ।
আম্মাঃ দুর হ আমার চোখের সামনে থেকে
।
খালাঃ ওকে ছেড়ে দে ।ওর আর কি দোষ,,,
আম্মুঃ ছেড়ে দিব মানে ?ওর কারনে আজ
একটা মেয়ের জীবন নষ্ট হয়েছে । ওকে
তো মেরে ফেললেও আমার মনের জ্বালা
মিটবে না,,,
খালাঃ রুহির ও তো দোষ আছে ।না হলে
এমন হতো না ।
আম্মুঃ তুই এখনো আমার সামনে দাঁড়িয়ে
আছিস হারামজাদা । যা এখান থেকে,,,
আমি যাচ্ছিলাম না আম্মু আমাকে ঠেলতে
ঠেলতে ঘরের বাইরে করে দিল ।
বের হবার সময় রুহির দিকে তাকালাম
তাকে দেখে বুকটা কষ্টে ফেটে যাচ্ছে,,,
গালটাতে আঙ্গুলের দাগ বসে আছে ।
চোখ দুটো কেদে কেদে ফুলে উঠেছে ।
নাহ ওর দিকে তাকানো যাচ্ছে না,,,
রুহির এই অবস্থা দেখে আমার চোখেও
পানি জমতে শুরু করে দিয়েছে ।
একটা মাত্র ভুলের জন্য কয়েকটা জীবন
নষ্ট হয়ে গেল ।
আমি খালাদের বাসা থেকে চলে আসলাম,,,
আমি রাস্তা দিয়ে আনমনে হাটছি আর ভাবছি যদি সেই ভুলটা না করতাম তাহলে হয়তো আজ আর এতো কষ্ট পেতে হতো না,,,
রাস্তা দিয়ে হেটে যাবার সময়
কে যেন আমায় ধাক্কা দিয়ে রোডে ফেলে দিল ।
রোডে পড়ার কারনে হাত পা ছিলে
গেছে ।উঠতে কষ্ট হচ্ছে,,,
তবে মনের ব্যাথার কাছে এ ব্যাথা কিছুই না ।
উঠে দেখি একটা মেয়ে আমার দিকে
রাগি লুক নিয়ে তাকিয়ে আছে ।
কে এই মেয়ে একে তো আগে কোনদিন
দেখিনি,,,
মনে হয় এই মেয়েটাই আমাকে
ধাক্কা দিয়ে রোডে ফেলে দিয়েছে,,,
মেয়েটাঃ এই যে মিঃ মরার এতো সখ
কেন ?
আমিঃ কে আপনি ?আর আমাকে ধাক্কা
দিলেন কেন ?দেখেন তো কতজাগা ছিলে
গেছে,,,
মেয়েটাঃ আপনার ভাগ্য ভালো আমি
ধাক্কা দিয়েছি । ট্রাকে দিলে তো
সোজা উপরে যেতে হতো,,,
হয়তো রাস্তা দিয়ে হাটার সময় ট্রাকের সামনে চলে গিয়েছিলাম ।তাই হয়তো মেয়েটা আমাকে ধাক্কা দিয়েছে,,,
আমিঃ ধন্যবাদ ,,
মেয়েটাঃ হুম ।চলুন গাড়িতে উঠে বসুন ।
আমিঃকেন ?
মেয়েটাঃ দেখছেন না কত জায়গা ছিলে রক্ত বের হচ্ছে ।
আমিঃ না ঠিক আছে ।
মেয়েটাঃ কি ঠিক আছে ?উঠুন বলছি ।
অনেক জোরাজুরি করার পর গাড়িতে উঠলাম ।গাড়িতে উঠার পর,,,
মেয়েটাঃ আপনার নাম কি ?
আমিঃ পলাশ
মেয়েটাঃ আমি তানজিলা । সবাই ভালোবেসে তানজু বলে ডাকে ।
আমিঃ হুম ভালো ।
তানজিলাঃ আপনাকে একটা প্রশ্ন জিগ্যেস করবো ?
আমিঃ করেন ।
তানজিলাঃ সঠিক উত্তর দিবেন কিন্তু ।
আমিঃ আমি যদি উত্তর টা জানি তাহলে দিব ।
তানজিলাঃ আপনি আত্মহত্যা করতে কেন গিয়েছিলেন ?
আমিঃ না তো ।একটু অনমনস্ক হয়ে গিয়েছিলাম আর কি ।আর তাছাড়াও আমি এতটা দুর্বল মনের মানুষ নয় যে আত্মহত্যার পথ বেছে নিব,,,
তানজিলাঃ ও ।আপনি জানেন আমি এসব মানুষদের একদম ঘৃনা করি যারা একটুতেই আত্মহত্যা করে ফেলে,,,
তানজিলা আমাকে জ্ঞান দিয়েই যাচ্ছে ।আত্মহত্যা করা এই সেই,,,
এমনিতেই ভালো লাগছে না,,,
তার উপর এত বকবকানি যেন আস্ত একটা রেডিও,,
অসহ্য লাগছে সবকিছু ।হাসপাতালাটাও মনে হচ্ছে অনেক দুরে হয়ে গেছে,,,
আসলে যে সময়টা খারাপ যায় তখন সবকিছুই খারাপ লাগে,,,
যাক বাবা অবশেষে হাসপাতালে এলাম ।
হাসপাতাল থেকে ছিলা যায়গা গুলোতে ব্যান্ডেজ করে হাসপাতালের বাইরে এলাম,,,
বিলটাও তানজিলা দিল,,,
পোশাক আশাক গাড়ি দেখে বুঝায় যাচ্ছে মেয়েটা কোনো বড়লোক ঘরের মেয়ে ।কিন্ত এতক্ষন তার সাথে থেকে যা বুঝলাম মেয়েটার মধ্যে কোন অহংকার নেয় ।
তানজিলাঃ চলো তোমাকে তোমার বাসায় দিয়ে আসি ।
আমিঃ আপনি আর কত করবেন আমার জন্য ?আমি একাই যেতে পারবো ।
তানজিলাঃ হ্যাঁ যান আর এবার বাসের সামনে পড়িয়েন ।চুপচাপ উঠে পড়ুন ।
আমি গাড়িতে উঠে বসলাম,,,
আমি যেখানে থাকি সে যায়গাটা বলে দিলাম ।তানজিলা গাড়ি চালাচ্ছে ।
একটু পর আবার রেডিও শুরু হয়ে গেল ।এত কথা কেউ বলতে পারে সেটা তানজিলার সাথে দেখা না হলে বুঝতেই পারতাম না,,,
বাসার সামনে এসে দাড়ালাম,,,
আমিঃ চলুন আমাদের বাসায় ।
তানজিলাঃ আজ না অন্য দিন আসবো ।এমনিতেই অনেক লেট হয়ে গেছে । বাই সি ইউ সুন,,,
আমি আর কিছু বললাম না,,,
বাসায় গেলাম,,,
দেখি আম্মু মাথায় হাত দিয়ে সোফায় বসে আছে ।
আমার জন্যই আজ এ অবস্থা,,,
আম্মু আমার শরিরের এ অবস্থা দেখেও কিছু বললো না,,,
অন্য সময় হলে হয়তো কি যে করতো তার দিশাই পেত না ।
আমি আমার রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে বিছানায় গা টা এলিয়ে দিলাম ।
কখন যে ঘুমিয়ে গেছি নিজেই জানি না ।ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিচে গেলাম । প্রচুর ক্ষুদা লেগেছে,,,
সকাল থেকে না খেয়ে আছি,,,,
আমিঃ আম্মু খেতে দাও ।
আম্মু কোনকথা না বলে রান্নাঘর থেকে খাবার নিয়ে এসে দিল,,,,
এতে আমার মনটা অনেক খারাপ হয়ে গেল,,,
খাওয়া শেষে যখন উঠবো তখন আম্মু আমাকে পাঞ্জাবি দিয়ে গেল আর বললো গোসল করে এখনি পরে আসতে,,,
আমিও উপরে গিয়ে গোসল সেরে পাঞ্জাবি পরে নিচে এসে দেখি কয়েকজন আত্মিয়স্বজন আর কাজি বসে রয়েছে,,,
আর রুহি বউ সেজে কাজির একপাশে বসে আছে,,,
আম্মুঃ রুহির পাশে গিয়ে বস ।
আমিও আম্মুর কথামতো রুহির পাশে গিয়ে বসলাম ভালোই ভালো বিয়েটা হয়ে গেল,,,
এদিকে আমি ভাবছি হয়তো সবকিছু মিটে গেছে শেষ পর্যন্ত,,,,
রাতে বাসরঘরে ঢুকলাম,,,
আমি জানতাম বউ বরকে সালাম করে।
কিন্তু ও তো নড়াচড়াও করছে না,,,
হয়তো জানে না,,,
আমি রুহির পাশে গিয়ে বসলাম ।
ওর ঘোমটা সরাতেই,,,
ঠাসসসস,,,,
চলবে......
(পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন)
সিনিয়র খালাতো বোন যখন বউ (পাঠ ১২)
177
Views
10
Likes
0
Comments
5.0
Rating

কোন মন্তব্য নেই