নীলাঞ্জনা খন্দকারের কথাগুলো শুনে বেশ অনেকটা অবাক হলেন অর্পিতা চৌধুরী! যে সংসারটা তিনি একুশ বছর ধরে একা হাতে এত যত্ন করে আগলে রেখেছেন,, আজ হঠাৎ একজন অচেনা অজানা মহিলা এসে ওনাকে এই সংসারটা ছেড়ে চলে যেতে বলছে! এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি! দাঁতে দাঁত ঘষে কোন মতে আরিয়ান চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলতে লাগলেন-
অর্পিতা চৌধুরী: আরিয়ান,, শেষবারের মতো বলছি এই রাক্ষসীটাকে এ বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলো। নইলে আজ আমার হাতে এই রাক্ষসীর মরণ লেখা আছে বলে রাখলাম।
অর্পিতা চৌধুরীর এ কথাটা শুনে একটু থমকে দাঁড়ালেন আরিয়ান চৌধুরী। কাঁপা কাঁপা গলায় কিছু একটা বলতে যাবেন এমন সময় নীলাঞ্জনা খন্দকার ভীষণ কর্কশ গলায় বলতে লাগলেন-
নীলাঞ্জনা খন্দকার: দাঁড়াও আরিয়ান,, তোমায় আর কিছু বলতে হবে না। আজ যা বলার সব আমি বলছি। এই পিশাচিনী কি বললি তুই! আমি এ বাড়ি ছেড়ে চলে না গেলে তোর হাতে আমার মরণ লেখা আছে!
তোর কথায় তো আমি ভয় পেয়ে গেছি রে! এখন আমার কি হবে! এত অল্প বয়স আমি মরতে চাই না! কেউ রক্ষা করো আমায়!!
কথাগুলো বলে নীলাঞ্জনা খন্দকার অট্টহাসিতে মেতে পড়লেন এবং খানিকক্ষণ পর রাগান্বিত গলায় বলতে লাগলেন-
নীলাঞ্জনা খন্দকার: কিরে, কি ভেবেছিস তুই! আমি তোকে সত্যি সত্যি ভয় পেয়ে গেছি! আরে লাইফে তোর মত লেডি মাস্তান কত দেখলাম,, তাদের কোন ভয় পেলাম না। আর তোকে ভয় পাব। তুই এটা ভাবলি কি করে!
আর সবচেয়ে মূল কথা হচ্ছে,, আমি যদি এই চৌধুরী বাড়ি ছেড়ে চলেই যাব তাহলে এলাম কেন? তাই বলি কি, বৃথা চেষ্টা আর অযথা শক্তির অপচয় না করে আমার কথামতো বরং আরিয়ানকে ডিভোর্স দিয়ে তোর ছেলেকে নিয়ে বাড়িটা ছেড়ে চলে যা! তাহলেই তো সব সমস্যা মিটে যায়।
তোর ছেলে তো বললোই যে, খেটে খেলে কোনদিনও নাকি ওর আর তোর ভাতের অভাব হবে না!
অর্পিতা চৌধুরী: তাহলে তুই এ বাড়ি ছেড়ে যাবি না!
নীলাঞ্জনা খন্দকার: আচ্ছা তুই কি বাংলা ভাষা বুঝিস না! বারবার করে বলছি আমি এই বাড়ি ছেড়ে কিছুতেই যাব না। আর তুই সেই ননসেন্স মানুষের মতো বারবার একই প্রশ্ন করে চলেছিস। জগতে বহু মূর্খ মানুষ দেখেছি, তবে তোর মত গণ্ডমূর্খ একটাও দেখিনি! আর তোর এই অযথা ওভারএকটিংটা বন্ধ কর! আমার খুব টায়ার্ড লাগছে। একটু রেস্ট নিতে হবে।
এই অসভ্য মহিলার বকবক শুনতে শুনতে কানে এক্কেবারে ঝালাপালা হয়ে গেল।
আরিয়ান তুমি বরং আমায় এখনকার মত গেস্ট রুমটা দেখিয়ে দাও। এই পিশাচিনীটা এ বাড়ি ছেড়ে চলে গেলে এরপর না হয় তোমার রুমে শিফট হয়ে যাবে।
কথাগুলো বলে নীলাঞ্জনা খন্দকার সেখান থেকে সরে যেতে যাচ্ছিলেন এমন সময় অর্পিতা চৌধুরী ওনার ঘাড়ে বটিটা আরো দৃঢ়ভাবে ধরে চড়া গলায় বলতে লাগলেন-
অর্পিতা চৌধুরী: এই একদম না,, ভুলেও এই কাজ করার চেষ্টা করিস না। এই বাড়িতে তুই একটা কাজের মেয়ে হওয়ার যোগ্য নোস,, আর আমাদের গেস্ট রুমে শুতে চাস। তোর সাহস তো কম নয়।
নীলাঞ্জনা খন্দকার: আমি আমার শ্বশুরবাড়ির যেকোনো রুম দখল করতে পারি, সেখানে তুই নাক গলানোর কে!
আর কি বললি তুই,, আমি এই চৌধুরী বাড়িতে একটা কাজের মেয়ে হওয়ারই যোগ্য নই! "অবশ্য ঠিকই বলেছিস রে তুই,, আমি সত্যিই এ বাড়িতে কোন কাজের মেয়ে হওয়ার যোগ্য নই।"
"এ বাড়িতে কাজের মেয়ে হওয়ার যোগ্য তুই!" নইলে কি আর আরিয়ান আমার সাথে সতেরো বছর ধরে কোন সম্পর্ক রাখে!
অর্পিতা চৌধুরী: তবে রে,, বারবার করে তোকে বললাম এ বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে! কিন্তু তুই তো শুনলি না!
এবার আর তোকে আমার হাত থেকে কেউ রক্ষা করতে পারবে না!
তীক্ষ্ণ কন্ঠে কথাগুলো বলে অর্পিতা চৌধুরী নীলাঞ্জনা খন্দকারের ঘাড় থেকে বটিটা হালকা একটু দূরে সরিয়ে নিয়ে যেইনা ওনার ঘাড়ে একটা কোপ দিতে যাবেন এমন সময় নীলাঞ্জনা খন্দকার দু'চোখ বন্ধ করে নিয়ে করুন স্বরে বলে উঠলেন-
নীলাঞ্জনা খন্দকার: যাবো!
নীলাঞ্জনা খন্দকারের মুখে এ কথাটা শুনে বটি সমিত হাতটা নিচে নামিয়ে রেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে অর্পিতা চৌধুরী আবার বললেন-
অর্পিতা চৌধুরী: কি বললি তুই,, সত্যিই তুই এ বাড়ি ছেড়ে চলে যাবি।
অর্পিতা চৌধুরীর কথায় নীলাঞ্জনা খন্দকার দাঁতে দাঁত ঘষে বলতে লাগলেন-
নীলাঞ্জনা খন্দকার: এত খুশি হস না, আমি আজ এ বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছি ঠিকই,, কিন্তু তা সারা জীবনের জন্য নয়! আমি একদিন আবার এ বাড়িতে ফিরে আসবো।
আজ তুই আমাকে যেভাবে অপমান করে এ বাড়ি থেকে বের করে দিচ্ছিস আমিও সেদিন ঠিক একই ভাবে তোকে অপমানিত করে এই চৌধুরী বাড়ি থেকে বের করে দেব!
কিন্তু সেদিন তুই আর মুখ ফুটে দুটো কথাও বলতে পারবি না! শুধু দেখবি আর জ্বলবি আর লুচির মত ফুলবি। কিছু বলতেও পারবি না,, আর কিছু করতেও পারবি না!
পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষায় করুন। এই পর্বটা কেমন হয়েছে অবশ্যই রিভিউ দিয়ে জানাবেন।
ভালো লাগলে অনুগ্ৰহ করে একটা লাইক দিয়ে যাবেন!
চেষ্টা করবো পরবর্তী পর্ব আরো আকর্ষণীয় করে তোলার!
ততক্ষণ পর্যন্ত সঙ্গেই থাকুন।
৮/ সংসার
94
Views
16
Likes
2
Comments
5.0
Rating

সকল মন্তব্যগুলো (2)
চমৎকার
অসাধারণ লেগেছে