আরিয়ান চৌধুরী: এই শোনো,, "কারো কষ্ট" "ভেঙে পড়া" "সিদ্ধান্ত" এসবের তোয়াক্কা এই আরিয়ান চৌধুরী করে না! আরিয়ান চৌধুরী শুধু নিজের আর নিজের নীলাঞ্জনা আর মিরাজ ব্যতীত আর কারো কথা কোনদিন ভাবেনি ভাবছে না আর ভাববেও না! আর কি বললে তুমি; ছেলেটারই তো বিয়ের বয়স হয়ে যাচ্ছে সেদিকে কোন খেয়াল নেই! আরে বিয়ের বয়স হয়ে যাচ্ছে তো বিয়ে করে ফেলুক। তার জন্য কি আমি আমার দীর্ঘ সতেরো বছরের ভালবাসাকে ভুলে যাব। যদিও কালকের আগ পর্যন্ত সে আমার ভালবাসা ছিল,, কিন্তু আজ থেকে নীলাঞ্জনা আমার বিবাহিতা স্ত্রী। ভেবেছিলাম ওকে সাদরে বরণ করে এ বাড়িতে তুলব,, কিন্তু তা আর হলো না! তবে আমার কোন আফসোস নেই,, সত্যি তো এটাই যে আমি আমার নীলাকে তার শ্বশুরবাড়ি দিতে পেরেছি। সবই আল্লাহর মহিমা... সবই আল্লাহর মহিমা...
কথাগুলো বলে আরিয়ান চৌধুরী অর্পিতা চৌধুরীর দিকে তাকাতেই লক্ষ্য করলেন ওনার পেছনে রেহান দাড়িয়ে। তাকে দেখে আরিয়ান চৌধুরী'র আর বুঝতে বাকি রইল না যে রেহান ওনার সমস্ত কথা শুনে ফেলেছে! তাই তিনি খানিক্ষণ মনে মনে কিছু একটা ভেবে তার (রেহানের) দিকে এগিয়ে যেতে লাগলেন!! তা দেখে রেহান আরিয়ান চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে কড়া গলায় বলতে লাগলো-
রেহান: থাক থাক.. আর এগোতে হবে না তোমায়। অনেকটা এগিয়েছো, এবার একটু রেস্ট নাও।
আর মা "অনেক হয়ে গেছে,, আজ বাবা আমার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিয়েছে!"
"চলো এই বাড়ি থেকে" আমরা আর থাকবো না এ বাড়িতে।
যে বাড়িতে তোমার কোন সম্মান নেই সে বাড়িতে আমি কিছুতেই তোমাকে রাখবো না। আরিয়ান চৌধুরী যদি আমার বাবা হয় তাহলে আমিও ওনার ছেলে। ওনার যদি জেদ থাকে তাহলে আমারও আছে।
ওনার যদি রাগ থাকে তাহলে আমারও রাগ আছে। চলো মা চলো,, খেটে খেলে কোনদিনও ভাতের অভাব হবে না। তবে এই সংসারে আর নয়! যতদিন তোমার রেহান বেঁচে আছে, কোনদিনও গলা উঁচু করে তোমার সাথে দুটো কথাও বলবে না! আর ইনার মত অসভ্য আচরণ তো দূরে থাক।। চলো মা চলো!
এই বলে রেহান তার মায়ের ডান হাতটা ধরে টানতে লাগলো। যাতে ওপরতলায় গিয়ে তার মা তাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী সমূহ বেগে ঢুকিয়ে নেয়। কিন্তু অর্পিতা চৌধুরী হঠাৎ এক ঝটকায় রেহানের থেকে নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে ভীষণ কর্কট গলায় বলতে লাগলেন-
অর্পিতা চৌধুরী: দাঁড়া রেহান,, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে একুশ বছর ধরে এই সংসারটাকে আমি আগলে রেখেছি। আর আজ কিনা একটা রাক্ষসী এসে এ বাড়িতে উদয় হয়েছে বলে আমি এই সোনার সংসার টা ছেড়ে চলে যাব। না,, এটা আমি কখনো করতে পারবো না! কখনোই না।...
এই বলে অর্পিতা চৌধুরী ড্রয়িং রুম থেকে বেরিয়ে কিচেনের দিকে চলে গেলেন। তা দেখে রেহান সিদ্ধান্ত নিল তার মা এ বাড়ি ছেড়ে চলে গেলে যাবে,, না গেলে না যাবে,, কিন্তু সে এই চৌধুরী বাড়ি থেকে চলে যাবেই।
তাই সে দৌড়ে গিয়ে একটা একটা করে সিঁড়ি ভেঙে ওপর তলার দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো। সিঁড়ি ভাঙতে ভাঙতে সে যখনই পাঁচ নম্বর সিঁড়ি থেকে ছ নম্বর সিঁড়িতে পা রাখতে যাবে এমন সময় হঠাৎ রেহান তার মায়ের গলা পেয়ে চমকে উঠলো। পেছনে ঘুরে তাকাতেই সে দেখতে পেল তার মা কিচেন থেকে একটা বটি নিয়ে এসে নীলাঞ্জনা খন্দকারের ঘাড় বরাবর ধরেছেন এবং তেজি কণ্ঠে বলছেন-
অর্পিতা চৌধুরী: "এই রাক্ষসী" কেন এসেছিস তুই এই বাড়িতে? নিশ্চয়ই আমার আর রেহানের জীবনটা ধ্বংস করতে! কিন্তু তা আমি কিছুতেই তোকে করতে দেব না। বহু কষ্ট. যন্ত্রণা. সহ্য করে আমি এই সংসারটাকে সোনার সংসারে রূপান্তর করতে পেরেছি! আর তুই কিনা উড়ে এসে জুড়ে বসে এই সোনার সংসারটা ভাঙার পরিকল্পনা করছিস। তোর সেই মনোবাঞ্জনা আমি কিছুতেই পূরণ হতে দেব না। ভালোয় ভালোয় বলছি এ বাড়ি ছেড়ে চলে যা! নইলে এক কোপে দেহ থেকে মাথাটা এক্কেবারে আলাদা করে দেব।
অর্পিতা চৌধুরীর কথাগুলো শুনে নীলাঞ্জনা খন্দকার একটুও ভয় না পেয়ে উঁচু গলায় বলতে লাগলেন-
নীলাঞ্জনা খন্দকার: আমি এই বাড়ি ছেড়ে কিছুতেই যাব না। এটা আমার সংসার,, বরং তুইই এ বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে পারিস।
আর আরিয়ানের সাথে তোকে বড্ড বেমানান লাগে! তাই বলে কি,, সাথে ওকে ডিভোর্সটাও দিয়ে দে। আরিয়ানের সাথে আমাকে খুব সুন্দর মানায়। আমাদের সুখে থাকতে দে। সেখানে আর তুই অযথা বাধা হয়ে দাঁড়াস না। তোর কত টাকা চাই আমায় বল। আমি দিয়ে দিচ্ছি,, তবুও তুই তোর সর্বনাশ টাকে নিয়ে এই বাড়ি ছেড়ে আজই চলে যা!
পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন। এই পর্বটা কেমন হয়েছে অবশ্যই রিভিউ জানাবেন।
অযথা রেটিং কমাবেন না।
আমার সকল গল্পগুলো পড়ার অনুরোধ রইলো। আর লাইক না দিয়ে কেউ যাবেন না কিন্তু!
অর্পিতা চৌধুরী আর নীলাঞ্জনা খন্দকারের কথোপকথন নিয়ে দু-লাইন না লিখে কেউ যাবেন না।
৭/ সংসার
83
Views
16
Likes
4
Comments
4.8
Rating

সকল মন্তব্যগুলো (4)
আরে ভাই ভুলে এমনটা হয়েছে। তাই বলে এমনটা বলবেন! এটা আশা করিনি
অসাধারণ লিখেছেন।
গল্পটা যদি খুবই খারাপ হতো তাহলে আর পড়তামনা।
পরবর্তী অংশ তাড়াতাড়ি চাই।