অর্পিতা চৌধুরী: এবার থামবে তোমরা,, আমার কিন্তু আর এসব ভালো লাগছে না! তোমরা বাপ ছেলেতে মিলে কি চাও আমি এ বাড়ি ছেড়ে চলে যাই!
আর তুই কি রেহান! সাতাশ বছর বয়সে দাঁড়িয়েও তোর এই শিক্ষা হয়নি যে নিজের বাবার সঙ্গে কিভাবে কথা বলতে হয়। "আর তোমাকেও বলি হারি" কেন,, ছেলেটার সাথে কি একটু ভালো আচরণ করা যায় না নাকি! সারাদিন শুধু সাপে নেউলে যুদ্ধ লেগেই রয়েছে! আচ্ছা মানুষের তো দিন দিন সুমতি হয়,, আর তোমাদের বাপ ছেলের বোধ বুদ্ধি কি দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে নাকি!
আরিয়ান চৌধুরী: সেটা না হয় তোমার আদরের ছেলেকেই জিজ্ঞেস করো!
কথাটা বলে ডাইনিং রুম থেকে বেরিয়ে একটা একটা করে সিঁড়ি ভেঙে ওপর তলার দিকে চলে যেতে লাগলেন আরিয়ান চৌধুরী। উনি চলে যেতেই রেহান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আপন মনে বলতে লাগলো- "উফ বাবা" এতক্ষণে আপদের থেকে বিপদমুক্ত হওয়া গেল! বাড়িটাতে এখন কত শান্তি নেমে এসেছে। স্যার (আরিয়ান চৌধুরী) যখন আশেপাশে থাকেন তখন একদণ্ড নিঃশ্বাস নিতেই কেমন জানি একটা অস্বস্তি লাগে বাড়িটাতে!
কথাটা বলতে বলতে ঘড়ির দিকে চোখ পড়তেই রেহান লক্ষ্য করল দশটা বেজে যাচ্ছে। তাই আবার মনে মনে বলতে লাগলো- "এ বাবা" দশটা বেজে যাচ্ছে! এর মধ্যে যদি অফিসে গিয়ে পৌঁছাতে না পারি তাহলে আবার শুরু করতে হবে রাত জেগে পড়াশোনা আর........
অর্পিতা চৌধুরী: কিরে রেহান,, কখন যাবি চাকরির ইন্টারভিউ দিতে!
পুরো কথাটা শেষ করতে পারল না রেহান! তার আগেই মায়ের গলা পেয়ে একটু থমকে দাঁড়ালো সে!
রেহান: এই তো এক্ষুনি যাচ্ছি!
ইতস্তত গলায় কথাটা বলে যেই রেহান ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার জন্য ডাইনিং রুম থেকে বের হতে যাবে এমন সময় অর্পিতা চৌধুরী তাকে উদ্দেশ্য করে মৃদু গলায় বললেন-
অর্পিতা চৌধুরী: যাচ্ছি নয় বল আসছি!
মায়ের কথাটা শুনে হালকা একটু লজ্জা পেল রেহান। প্রতিদিন তো বাড়ি থেকে বেরোবার সময় আসছি বলেই বেরোয়,, আজ যে যাচ্ছি কথাটা কেন বলল তা কিছুতেই ভেবে পাচ্ছে না সে!
*
হাঁটতে হাঁটতে নিজের গাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালো রেহান। ঝটপট করে গাড়িতে উঠে বসল সে! গাড়ি স্টার্ট করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিজের গন্তব্য স্থানের দিকে এগোতে লাগলো রেহান।
*
রেহান চৌধুরী। সদ্য এম.বি.এ কমপ্লিট করেছে! তাই সে ভাবলো- এভাবে ঘরে বসে না থেকে একটা চাকরির সন্ধানে নেমে পড়ি! "বিধাতার কি খেল" খুব সহজেই একটা চাকরির সন্ধান পেয়ে গেল সে। এখন শুধু ইন্টারভিউ দিয়ে যদি টিকতে পারে তাহলে কেল্লাফতে!
তবে তার মা তাকে বারবার করে বুঝিয়ে বলেছিল,, ঢাকা শহরে তোর বাবার সাত-সাতটা কোম্পানি থাকা সত্ত্বেও তুই কেন অন্য কোথাও গিয়ে চাকরি করবি! আর তোর বাবার সমস্ত সয়-সম্পত্তি সবই তো তোরই জন্য নাকি! তোকে আমি অন্য কোথাও গিয়ে চাকরি করতে দেব না! যদি তুই একান্ত ভাবে চাকরি করতে চাস তাহলে তুই বরং স্বপ্ন ছায়া ইন্ডাস্ট্রিজে বস হিসেবে জয়েন কর। যোগ্য সম্মানও পাবি প্লাস দ্বারে দ্বারে তোকে কোথাও চাকরির জন্য ঘুরে বেড়াতে হবে না! সফলতা যখন ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে তখন আবার সারা রাজ্য ঘুরবি কেন কাজের খোঁজে।
মায়ের বলা এই কথাগুলো শুনে মাঝেমধ্যে হালকা একটু রেগে যায় রেহান এবং রাগান্বিত গলায় তার মাকে বলে,, মা তুমি যে আজ বাবার এত কিছু দেখছো, যদি কাল তার একটাও আমাদের না থাকে! যদি সবকিছু অন্য কারো হাতের মুঠোয় চলে যায় তখন আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো! নিশ্চয়ই রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে হবে!
এই পর্যন্ত বলে থেমে গিয়ে রেহান যেদিকে কোথায় সেদিকে চলে গিয়েছে।
কিন্তু অর্পিতা চৌধুরী'র বুঝতে বাকি থাকে না যে রেহান ওনাকে কি বলতে চায়,, তিনি রেহানের মনের মধ্যে চাপা রাখা কথাগুলো ঠিকই বুঝতে পারতেন কেন রেহান এমন আচরণ করছে কেনই বা এ কথাগুলো বলছে সে তার হৃদয়ের গভীরে কিসের ব্যথা সবই বুঝতে পারেন তিনি জন্মের পর থেকেই তাকে তার বাবা খুব একটা সময় দেননি বলে চলে! তাই এখনো রেহান এবং আরিয়ান চৌধুরীর মধ্যে কোন বাবা ছেলের মতো ভালো বন্ডিং গড়ে ওঠেনি।
এজন্যই ছেলে বাবাকে স্যার এবং আপনি বলে সম্বোধন করে,, আর বাবা ছেলেকে তুমি বলে সম্বোধন করেন। তবে সম্পর্কটা তখনো এতদূর গড়ায় নি। সেদিন একটা চরম সত্যি প্রকাশ হয় এই চৌধুরী বাড়িতে।
কি এই চৌধুরী বাড়ির ইতিহাস। কোন সত্য প্রকাশ পেতে চলেছে!
জানতে হলে অবশ্যই চোখ রাখতে হবে পরবর্তী পর্বগুলোতে।
আজ এই পর্যন্তই থাক!
পরবর্তী পর্ব আসছে খুব শিঘ্রই.......
৫/ সংসার
104
Views
17
Likes
2
Comments
5.0
Rating

সকল মন্তব্যগুলো (2)
পরের পর্ব দেও তাড়াতাড়ি অপেক্ষায় আছি 🤔🤔
very nice