৪/ সংসার

আজকেই চলে যাও না,, কে আটকিয়েছে তোমায়!

আঁচল চৌধুরী'র কথার শেষে বেশ শান্ত গলায় কথাটা বললেন অর্পিতা চৌধুরী। ওনার কথাটা শুনে আরিয়ান চৌধুরী অর্পিতা চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে ক্ষিপ্ত কণ্ঠে বলতে লাগলেন-

আরিয়ান চৌধুরী: চুপ করো অর্পিতা,, আর একটা কথাও নয়! Just stop your mouth. আমার বোনকে নিয়ে আর কোনো কথা বলবে না তুমি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমার বোন এ বাড়িতেই থাকবে। তাতে যদি কারো আপত্তি থাকে তাহলে সে আজ, এখন, এই মূহুর্তে এ বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে পারে।

আরিয়ান চৌধুরী 'র কথাগুলো শেষ হতেই অর্পিতা চৌধুরী আঁচল চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে তীক্ষ্ণ কণ্ঠে বলতে লাগলেন-

অর্পিতা চৌধুরী: এই কালনাগিনী,, তোর গায়ের সমস্ত বিষ সারা বাড়িতে ছড়িয়ে দিয়েছিস তাহলে! এই সোনার সংসার টা তুই ভাঙতে চাস না,, তোর সেই স্বপ্ন আমি কোনোদিন'ও পূরণ হতে দেব না। আমি নিজের জীবন দিয়ে হলেও এ বাড়িটাকে রক্ষা করে যাব। তাই বারবার করে বলে রাখছি-
বাড়ির মানুষগুলোর আর যদি কোনো ক্ষতি করার চেষ্টা তুই করিস তাহলে আমার মতো খারাপ ভাবি পৃথিবীতে আর কেউ হবে না। কথাটা কান খুলে শুনে রাখ আঁচল।

অর্পিতা চৌধুরী'র কথাগুলো শুনে প্রচন্ড রেগে গেলেন আরিয়ান চৌধুরী। এক পা-দু পা করে অর্পিতা চৌধুরী'র সামনে এসে দাঁড়ালেন তিনি। বেশ কিছুক্ষণ বড় বড় চোখ করে ওনার দিকে তাকিয়ে থেকে চড়া গলায় বললেন-

আরিয়ান চৌধুরী: খুব বাড়াবাড়ি করে ফেলছিস তুই!

কথাটা বলে অর্পিতা চৌধুরী'র গায়ে হাত তোলার জন্য হাত ওঠাতেই দৌড়ে এসে রেহান আরিয়ান চৌধুরী'র হাতটা আটকাল।
বহু চেষ্টা করেও আরিয়ান চৌধুরী রেহানের থেকে নিজের হাতটা ছাড়াতে না পেরে আবার চড়া গলায় বলতে লাগলেন-

আরিয়ান চৌধুরী: খুব বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু রেহান। আমার হাতটা ছাড়ো বলছি! যেখানে যাচ্ছিলে সেখানে যাও না। অযথা আমাদের স্বামী স্ত্রীর ব্যাপারে নাক গলাতে আসছো কেন?

আরিয়ান চৌধুরী 'র কথাগুলো শুনে রেহান ওনার হাতটা ছেড়ে দিল এবং রাগান্বিত স্বরে বলতে লাগলো-

রেহান: কি বললেন আপনি স্বামী-স্ত্রী! আচ্ছা বলুন তো,, স্বজ্ঞানে আপনি কোনদিনও অর্পিতা চৌধুরীকে নিজের স্ত্রী হিসেবে মর্যাদা দিয়েছেন কিনা! ওনার সাথে কোনদিনও ভালো ভাবে দুটো কথা বলেছেন কিনা! দীর্ঘ আঠাশ বছরের সংসার জীবনে আপনি কোনদিন ও জানতে চেয়েছেন; ওনার কিসে ভালো লাগে,, আর কিসে খারাপ লাগে! না,, তা আপনি জানতে চাননি! কিন্তু শুধু শুধু আপনার বোন আমার মায়ের নামে মিথ্যে নালিশ করলে আপনি আমার মায়ের উপর অযথা অত্যাচার শুরু করে দিয়েছেন। কিন্তু আমার মা আপনার বোনকে নিয়ে কোন নালিশ জানালে তার কি কোন বিচার করেছেন আপনি কোনদিনও! এক গাল হেসে সব কথা উড়িয়ে দিয়ে শুধু দিনের পর দিন বলে গেছেন; ভাই আর বোনটাকে ছোট থেকে খুব কষ্ট করে মানুষ করে এসেছি! নিজে না খেয়ে ওদের খাইয়েছি! তাই ওদের উপর হাত তুললে কিংবা রাগ দেখিয়ে কিছু বললে আমারি খুব কষ্ট হয়। তুমি আমাকে ক্ষমা করো অর্পিতা।
আমি এটার কোন বিচার করতে পারবো না,, আমি ওটার কোন বিচার করতে পারবো না,, আমি সেটার কোন বিচার করতে পারবো না! আরে মানুষ তো আপনি আমাকেও করেছেন। কিন্তু আমি যদি কোন দোষ করি আপনি আমার গায়ে হাত তোলেন না! সাত পাঁচটা কটু কথা শোনেন না! এখন চুপ করে আছেন কেন বলুন! সারা জীবন তো নিজের বোনকেই প্রটেক্ট করে এলেন। বোনের বিপদে ঢাল হয়ে পাশে দাঁড়ালেন। কিন্তু কোনদিনও আমি কিংবা আমার মা কোন বিপদে পড়লে তা থেকে উদ্ধার করে আনার কোন চেষ্টা আপনি করেছেন!

এ পর্যন্ত বলে রেহান থেমে গেল। সে থামতেই অর্পিতা চৌধুরী তাকে (রেহানকে) উদ্দেশ্য করে কড়া গলায় বলতে লাগলেন-

অর্পিতা চৌধুরী: এবার থাম রেহান,, তুই তোর বাবাকে আর কিছুই বলবি না! মানুষটা একটা গোটা সপ্তাহ পর আজ একটু বাড়িতে ফিরে এসেছে! আর তুই কি শুরু করে দিয়েছিস টা কি মানুষটার সাথে! তোর ইন্টারভিউয়ের সময় হয়ে যাচ্ছে! তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়,, নইলে অফিসে পৌঁছাতে দেরি হয়ে যাবে!

রেহান: সে হবে ক্ষণ,, কিন্তু সবচেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট কথা হলো এই গোটা সপ্তাহ তিনি বাড়িতে আসেন নি কেন? কোথায় ছিলেন তিনি! যে রাতেও একটু বাড়ি ফিরে আসতে পারেন নি! এমন কোন কাজের মধ্যে তিনি এতটাই ব্যস্ত ছিলেন যে বাড়ি ফেরার কথাটাই ভুলে গিয়েছিলেন!

রেহানের কথাগুলো শুনে আরিয়ান চৌধুরী চোখ গুলো লাল বানিয়ে তার দিকে বেশ খানিকক্ষণ তাকিয়ে থেকে অর্পিতা চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে ভীষণ কর্কশ গলায় বলতে লাগলেন-

আরিয়ান চৌধুরী: দেখো অর্পিতা দেখো,, কি সন্তান জন্ম দিয়েছে তুমি! বাবার সাথে কেমন আচরণ করতে হয় তাও ঠিক করে জানেনা। এমন সন্তান তো থাকার চেয়ে না থাকাটাই বেশি ভালো!

আরিয়ান চৌধুরীর কথাটা শেষ হতে রেহান ওনাকে উদ্দেশ্য করে দিনে গলায় বলতে লাগলো-

রেহান: ঠিক সেম কথাটা যদি আমি আপনাকে বলি যে,, আপনার মতো বাবা থাকার চেয়ে না থাকাই বেশি ভালো। নিশ্চয়ই শুনতে খুব ভালো লাগবে না!

রেহান কেন এমন আচরণ করছে আরিয়ান চৌধুরী 'র সাথে! আর আরিয়ান চৌধুরী'ই বা কেন এমন আচরণ করছেন রেহানের সাথে! রেহান কেন আরিয়ান চৌধুরীকে আপনি বলে সম্বোধন করছে! এর পেছনে কোন ইতিহাস রয়েছে।
পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন! আশা করি খুব শিঘ্রই নিয়ে আসবো পরবর্তী পর্ব। এই পর্বটা কেমন হয়েছে অবশ্যই রিভিউ, রেটিং দিয়ে জানাবেন।
101 Views
17 Likes
2 Comments
5.0 Rating
Rate this:
(17)

মন্তব্য

সকল মন্তব্যগুলো (2)

Reader photo
Hasib All Akash
26-Aug-2024, 11:44 PM

naxt

মোঃ আলমগীর হোসেন (আতিক)
মোঃ আলমগীর হোসেন (আতিক)
27-Aug-2024, 01:09 AM

দিয়ে দিয়েছি

Reader photo
সুপ্রভাত দত্ত
23-Aug-2024, 07:35 PM

বাঃ

মোঃ আলমগীর হোসেন (আতিক)
মোঃ আলমগীর হোসেন (আতিক)
23-Aug-2024, 07:37 PM

ধন্যবাদ