আজ থেকে প্রায় সাত বছর আগের কথা। 2017 সালের 17ই আগষ্ট রোজ বৃহস্পতিবার। সারা ঢাকা শহর কর্মব্যস্ত।
সাত সকালে আরিয়ান চৌধুরী একজন মোটামুটি 35 বছর বয়সী মহিলা সাথে একটা মোটামুটি 16 বছরের কিশোরকে নিয়ে বাড়িতে ঢুকেছেন। তা দেখে বাড়ির সবাই হতভম্ব হয়ে একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে। কেউ বুঝতে পারছে না এই মহিলা আর এই কিশোর কে!
এমন সময় অর্পিতা চৌধুরী ওপর তলা থেকে নিচতলায় নেমে এলেন। নিচে এসে এ দৃশ্য দেখে আরিয়ান চৌধুরীকে প্রশ্ন করলেন-
অর্পিতা চৌধুরী: আরিয়ান,, এই মহিলা আর এই কিশোর কে?
অর্পিতা চৌধুরী'র প্রশ্নটা শুনে আরিয়ান চৌধুরী কিছু একটা বলতে যাবেন এমন সময় তিনি অনুভব করলেন কেউ ওনার কাঁধের ওপর হাত রেখেছে। তাই তিনি অর্পিতা চৌধুরী'র প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে পেছনে ঘুরে তাকালেন এবং দেখতে পেলেন সেই মাঝবয়সী মহিলাটিকে! মহিলাটি মাথা এপাশ থেকে ওপাশ করে আরিয়ান চৌধুরীকে কিছু না বলার জন্য ইশারা করছেন! ওনার (মহিলাটির) সারা মুখে বিষণ্ণতার ছাপ!
তা দেখে আরিয়ান চৌধুরী মুখ খোলার জন্য আরো বেশি আগ্ৰহী হয়ে ওনাকে উদ্দেশ্য করে করুণ স্বরে বলতে লাগলেন-
আরিয়ান চৌধুরী: আর বাঁধা দিও না নিলা! অনেক তো চুপ করে রইলাম! তাতে কোন লাভ হলো কি? আজ আমায় বলতে দাও কিছু! আচ্ছা তুমি কি চাও না,, সমাজের দশটা লোক জানতে পারুক কে তোমার স্বামী! কার সন্তান তুমি তোমার গর্ভে ধারণ করেছ! তুমি কি চাও না,, কাল থেকে মিরাজ স্কুলের সমস্ত টিচারদের, ফ্রেন্ডদের, গিয়ে বলুক সত্যি আসলে কে তার বাবা! নীলা আমি সত্যিই পারছি না এই সম্পর্কটাকে অবৈধ সম্পর্কের পরিচয় দিতে! আমি চাই পৃথিবীর সবাই জানতে পারুক এই সম্পর্কটা একটা বৈধ সম্পর্ক! তাতে তুমি পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িও না নীলা! আজ মন খুলে আমায় সব বলতে দাও তুমি! "প্লিজ নীলা প্লিজ" আমাকে আর বাধা দিও না।
কথাগুলো শেষ করে আরিয়ান চৌধুরী অর্পিতা চৌধুরীর মুখোমুখি এসে দাঁড়ালেন এবং একটু উঁচু গলায় বলতে লাগলেন-
আরিয়ান চৌধুরী: অর্পিতা তোমার না আমার কাছ থেকে কিছু প্রশ্নের উত্তর জানার ছিল! আজ আমি তোমার সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি। তোমার প্রথম প্রশ্নটি ছিল- রেহান হওয়ার পর থেকে তুমি আমায় আর আগের মতো সময় দাও না কেন?
উত্তরটা হচ্ছে- রেহান হওয়ার পর থেকে তোমার প্রতি আমার আসক্তিটা কমে গেছে! এক দন্ডের জন্যও তোমাকে আমার আর ভালো লাগেনি!
দ্বিতীয় প্রশ্নটা ছিল- রেহান হওয়াতে তুমি কি অখুশি !
- হ্যাঁ আমি খুশি ছিলাম। কারণ- রেহানকে সময় দিতে গেলে আমি আমার নিলা আর মিরাজকে সময় দিতে পারতাম না! তাই আমি রেহান হওয়াতে অত্যন্ত অখুশি ছিলাম।
আর তৃতীয় প্রশ্নটা ছিল- তুমি আজকাল ঠিকমতো বাড়িতে ফিরে আসো না কেন?
কারণ একটাই- আমি তখন আমার সত্যিকারের ভালোবাসার সাথে সময় কাটাই। যার ফলে আর বাড়ি ফিরে আসতে ইচ্ছে করে না। তাই দিনরাত আমি সেখানে থাকতেই স্বচ্ছন্দ্যবোধ করতাম।
আর আজকেরটা হল চার নম্বর প্রশ্ন! কি যেন প্রশ্নটা করলে তুমি!
এই বলে আরিয়ান চৌধুরী অর্পিতা চৌধুরীর বলা শেষ প্রশ্নটা ভাবতে লাগলেন এবং কিছুক্ষণ পর আবার বলতে লাগলেন-
"ও হ্যাঁ মনে পড়েছে,, প্রশ্নটা হল"-
এই মাঝ বয়সি মহিলা আর এই কিশোর টি কে?
এই প্রশ্নের উত্তরও আছে আমার কাছে অর্পিতা! সত্যিটা হলো এই মাঝ বয়সী মহিলা আমার সেই ভালোবাসা..... ওহ্ সরি... আমার নতুন বৈধ স্ত্রী এবং এই কিশোর টি হচ্ছে আমার আর নীলার একমাত্র আদরের সন্তান মিরাজ চৌধুরী।
আরিয়ান চৌধুরী 'র এই কথাটা ওনার মা আয়েশা চৌধুরীর শুনতে পেরেই নিজের আসন থেকে উঠে এসে মিরাজকে নিজের বুকে জড়িয়ে ধরলেন এবং মৃদু গলায় বলতে লাগলেন-
আয়েশা চৌধুরী: "কিরে দাদুভাই" কেমন আছিস তুই? এই বুড়িটার কাছে তোর আসতে ইচ্ছে করে না বুঝি!
কি সুন্দর দেখতে হয়েছে আমার সোনা দাদু ভাইটাকে? কি রে কোনো কথা বলছিস না যে! কিছু খাবি?
মিরাজের মুখে কোন কথা নেই! তাই আয়েশা চৌধুরী নিশ্চিন্ত হলেন মিরাজের নিশ্চয়ই খিদে পেয়েছে। তাই বোধহয় মুখে কিছু প্রকাশ করছে না! তাই তিনি মিরাজকে নিয়ে ডাইনিং রুমের দিকে চলে গেলেন।
*
আয়েশা চৌধুরী ও মিরাজ চলে যাওয়ার পর আরিয়ান চৌধুরী আবার অর্পিতা চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগলেন-
আরিয়ান চৌধুরী: অর্পিতা,, তোমার কি আমাকে জিজ্ঞেস করার মতো আরো কোন প্রশ্ন আছে? থাকলে জিজ্ঞেস করতে পারো! আজ এই আরিয়ান চৌধুরী তোমার সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত!
আরিয়ান চৌধুরীর কথাগুলো শুনে রেগে আগুন হয়ে গিয়েছেন অর্পিতা চৌধুরী। রাগের মাথায় আরিয়ান চৌধুরীর ডান গালে ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিয়ে রাগী ও কান্না মিশ্রিত কন্ঠে বলতে লাগলেন-
অর্পিতা চৌধুরী: ছিঃ আরিয়ান ছিঃ,, এত বড় একটা পাপ করে কিভাবে তুমি গলা উঁচু করে এ কথাগুলো বলতে পারছো! তোমার কি লাজ-লজ্জা বলতে কিছু নেই! ছিঃ ,,তুমি যে এতটা নিচে নেমে আসতে পারো তা আমি কোনদিনও ভাবতে পারিনি। আজ রেহান বাড়ি ফিরে এসে যদি এই দৃশ্যটা দেখে তাহলে সে কতটা ভেঙে পড়বে তুমি জানো। কেন ছেলেটারই তো বিয়ের বয়স হয়ে যাচ্ছে,, সেদিকে কোন খেয়াল নেই ! সে যদি জানতে পারে তার বাবার আরো একজন স্ত্রী এবং আরও একটি ছেলে আছে তাহলে সে কতটা কষ্ট পাবে তুমি জানো! হয়তো এই বাড়ি ছেড়ে চিরকালের জন্য চলে যাওয়ারই কোন সিদ্ধান্ত নিয়ে বসবে!
আজ এই পর্যন্তই থাক! পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন! এই পর্বটা কেমন হয়েছে অবশ্যই রিভিউ দিয়ে জানাবেন। আর অযথা রেটিং কমাবেন না! আমি কিছু সমস্যার কারণে নতুন পর্ব দিতে একটু দেরি হচ্ছে।
যারা গল্পটা পড়ছেন প্লিজ লাইক দিয়ে যাবেন। সকল পাঠকদের উদ্দেশ্যে করে বলছি।
৬/ সংসার
101
Views
20
Likes
4
Comments
4.9
Rating

সকল মন্তব্যগুলো (4)
nice
পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম
সুন্দর হয়েছে
ভালই হয়েছে , পরর্বতী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম