পরিণীতা

তথাপি দাঁড়াইয়া আছে দেখিয়া বলিল, মিছে দাঁড়িয়ে রইলে কেন, যাও।-- বলিয়া মুখের সম্মুখে বই তুলিয়া লইল।

মিনিট পাঁচেক চুপ করিয়া থাকার পরে ললিতা আবার আস্তে আস্তে জিজ্ঞাসা করিল, যাব?

যেতেই ত বললুম, ললিতা।

শেখরের ভাব দেখিয়া ললিতার থিয়েটার দেখিবার সাধ লোপ পাগল, কিন্তু না গেলেও যে নয় ।

কথা হইয়াছিল, সে অর্ধেক খরচ দিবে, এবং চারুর মামা অর্ধেক দিবে।

চারুদের ওখানে সকলেই তাহার জন্য অধীর হয়ে অপেক্ষা করছে এবং যত বিলম্ব হইতেছে, তাহাদের অধৈর্য ও খুঁজিয়া পাইল না।

অনুমতি না পাইয়া যাবে -- এত সাহস তাহার ছিল না।

আবার মিনিট দুই তিন নিঃশব্দে থাকিয়া বলিল , শুধু আজকের দিনটি -- যাব?

শেখর বইটা একপাশে ফেলিয়া দিয়া ধমকাইয়া উঠিল, বিরক্ত কোরো না ললিতা, যেতে ইচ্ছে হয় যাও , ভাল - মন্দ বোঝবার তোমার যঠেসট বয়স হয়েছে।

ললিতা চমকাইয়া উঠিল ।
শেখরর কাছে বকুনি খাওয়া তাহার নতুন নহে;
অভ্যাস ছিল বটে, কিন্তু দু- তিন বৎসরের মধ্যে এরকমটি শুনে নাই।

ওদিকে বন্ধুরা অপেক্ষা করিয়া আছে, সেও কাপড় পড়িয়া প্রস্তত হইয়াছে, ইতিমধ্যে টাকা আনিতে আসিয়া এই বিপত্তি ঘটিয়াছে।

এখন তাহাদের কাছেই বা সে কি বলিবে।
কোথাও যাওয়া আসা সম্বন্ধে আজ পর্যন্ত তাহার শেখরের তরফ হইতে অবাধ স্বাধীনতা ছিল, সেই জোরেই একেবারে কাপড় পড়িয়া সাজিয়া আসিয়াছিল, এখন শুধু সেই স্বাধীনতাই এমন রূঢ়ভাবে খব হইয়া গেল,

46 Views
0 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this:
(0)

মন্তব্য

কোন মন্তব্য নেই