তোমাদেরই আশ্রয়ে আমি আছি, তোমার বাবা আমাকে ছোট ভাইয়ের মতোই দেখেন।
শেখর মাথা নাড়িয়া বলিল, আচ্ছা তা দেখব।
গুরুচরণ বলিলেন, ভুলো না বাবা, দেখো;
ললিতা তো আট বছর বয়স থেকে তোমার কাছেই লেখা পড়া শিখে মানুষ হচ্ছে তুমিও তো দেখতে পাচ্ছ, ও কেমন বুদ্ধিমতী কেমন শান্তশিষ্ট। একফোঁটা মেয়ে আজ থেকে ওই আমাদের রাধাবাড়া করবে, দেবে ধোবে সমস্তই, এখন ওর মাথায় এই চিন্তা।
এই সময়ে ললিতা একটিবার চোখ তুলিয়াই নামাইয়া ফেলিলো। তাহার ওস্ঠাধরের উভয় প্রান্ত ঈষৎ প্রসারিত হইল মাত্র। গুরুচরণ একটা নিঃশ্বাস ফেলিয়া বলিলেন, ওর বাপই কি কিছু কম রোজগার করেছে কিন্তু সমস্ত এমন করে দান করে গেল যে, এই একটা মেয়ের জন্যও কিছু রেখে গেল না।
শেখর চুপ করিয়া রহিল, গরুচোরন নিজেই আবার বলিয়া উঠিলেন, আর রেখে গেল নাই বা বলি কি করে ?
সে যত লোকের যত দুঃখ ঘুচিয়েছে তার সমস্ত ফলটুকুই আমার এই মা টিকে দিয়ে গেছে, তা নইলে কি এইটুকু মেয়ে এমন অন্নপূর্ণা হতে পারে! তুমিই বল না শেখর,
সত্যি কি না ?
শেখর হাসিতে লাগিল, জবাব দিল না।।
সে উঠিবার উপক্রম করিতেই গুরুচরণ জিজ্ঞাসা কোরিয়া উঠিলেন,
এমন সকালেই কোথায় যাচ্ছ ?
শেখর বলিল, ব্যারিস্টারের বাড়ি __ একটা কেস আছে। বলিয়া উঠিয়া দাঁড়াইতেই গুরুচরণ আর একবার স্মরণ করাইয়া বলিলেন,
কথাটা একটু মনে রেখো বাবা। ও একটু শ্যামবর্ণ বটে কিন্তু এমন
পরিণীতা
56
Views
0
Likes
0
Comments
0.0
Rating

কোন মন্তব্য নেই