সুন্দর তাহার দেহের বাঁধন যে, দেখিলে। ৩৫ ৩৬ অধিক মনে হতো না। আবার এই সুন্দর আবরণের মধ্যে যে মাতৃহৃদয়টি ছিল তাহা আরোও নবীর আরও কোমল। তিনি পারাগায়ের মেয়ে; পারাগেয়ে জন্মিয়া সেখানেই বড় হয়েছিল বটে, কিন্তু শহরের মধ্যেও তাহাকে এতদিনের জন্য বে মানান দেখায় নাই। শহরে চাঞ্চল্য, সজীবতা এবং আচার ব্যবহারও যেমন তিনি স্বচ্ছন্দে গ্রহণ করিতে পারিয়া ছিলেন,
জন্মভূমির নিবিড় নিস্তব্ধতা ও মাধুর্যও তেমনি হারাইয়া ফেলেন নাই।
এই মা টি যে শেখরের কত বড় গর্বের বস্ত্র ছিল, সে কথা তাহার মাও জানিতেন না। জগদীশ্বর শেখরকে অনেক বস্ত্র দিয়েছিলেন। অন্যান্য রূপ, ঐশ্বর্য ,বুদ্ধি কিন্তু এই জননীর
সন্তান হইতে পারার ভাগ্যটাকেই সে কায়মনে
ভগবানের সবচেয়ে বড় দান বলিয়া মনে করিতো।
মা বলিলেন, বেশ বলে চুপ করে রইলি যে রে।
শেখর আবার হাসিয়া মুখ নিচু করিয়া বলিল, যা জিজ্ঞেস করলে তাই তো বললাম।
মাও হাসিলেন।বলিলেন ,কই বললি? রঙ কেমন ফর্সা?
কার মত হবে?
আমাদের ললিতার মতো?
শেখর মুখ তুলে বলিল, ললিতা তো কালো মা, ওর চেয়ে ফর্সা।
মুখ চোখ কেমন?
তাও মন্দ নয়।
তবে কর্তাকেও বলি?
এবার শেখর চুপ করিয়া রইলো।
মা কনকাল পুত্রের মুখের দিকে চাইয়া থাকিয়া হঠাৎ জিজ্ঞাসা করিয়া উঠিলেন ,হ্যাঁ রে, মেয়েটি লেখাপড়া শিখেছে কেমন!
শেখর বলিল ,সেতু জিজ্ঞাসা করিনি মা
অতিশয় আশ্চর্য হইয়া মা বলিলেন, জিজ্ঞেস করিস নি কি রে?
পরিণীতা
101
Views
0
Likes
0
Comments
0.0
Rating

কোন মন্তব্য নেই