পরিণীতা

যেটা আজকাল তোদের সবচেয়ে দরকারি জিনিস সেটাই জেনে আসিস নি।
শেখর হাসিয়া বলিল, না মা, ও আমার মনেই ছিল না।
ছেলের কথা শুনিয়া এবার তিনি রীতিমতো বিস্মৃতি হইয়া ক্ষনকাল তাহার মুখপানে চাহিয়া থাকিয়া হাসিয়া উঠিয়া বলিলেন, তবে তুই ওখানে বিয়ে করবিনে দেখছি?
শেখর কি একটা বলিতে যাইতেছিল, কিন্তু এই সময় ললিতাকে ঘরে ঢুকিতে দেখিয়ে চুপ করিয়া গেল।
ললিতা ধীরে ধীরে ভুবনেশ্বরীর পিছনে আসিয়া দাঁড়াইল, তিনি বা হাত দিয়ে তাহাকে সমুখের দিকে টানিয়া আনিয়া বলিলেন, কি মা।
ললিতা চুপিচুপি বলিল,কিছু না মা।

ললিতা পূর্বে ইহাকে মাসিমা বলিতে, কিন্তু তিনি নিষেধ করিয়া দিয়া বলিয়াছিলেন, তোর আমি মাসি হইনে ললিতা, মা হই।
তখন হইতে সে মা বলিয়া ডাকিতো।
ভুবনেশ্বরী তাহাকে বুকের আরো কাছে টানিয়া লইয়া আদর করিয়া বলিলেন, কিছু না?
তবে বুঝি আমাকে শুধু একবার দেখতে এসেছিস।
ললিতা চুপ করিয়া রহিল।
শেখর কহিল দেখতে এসেছে, রাঁধবে কখন?
মা বলিলেন, রাঁধবে কেন?
শেখর আশ্চর্য হইয়া জিজ্ঞাসা করিল, কে তবে ওদের রাঁধবে মা?
ওর মামাও সেদিন বললেন, ললিতাতাই রান্নাবান্না সব কাজ করবে।
মা হাসিয়া উঠিলেন।
বলিলেন, ওর মামার কি, যা হোক একটা বলিলেই হল।
ওর বিয়ে হয়নি, ওর হাতে খাবে কি?
আমাদের বামোণনঠাকুণকে পাঠিয়ে দিয়েছি, তিনিই রাধাবেন,বড় বৌমা আমাদের রান্নাবান্না করছেন, আমি দুপুরবেলা ওদের বাড়িতেই আজকাল খাই।
শেখর বুঝিল, মা এই দুঃখী পরিবারের গুরুভার হাতে
53 Views
0 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this:
(0)

মন্তব্য

কোন মন্তব্য নেই