পরিণীতা

চোখ এমন হাসি, এত দয়ামায়া পৃথিবীর খুঁজে বেড়ালেও কেউ পাবে না। শেখর মাথা নারাইয়া হাসিমুখে বাহির হইয়া গেল।
এই ছেলেটির বয়স পঁচিশ ছাব্বিশ।এম. এ . পাস কোরিয়া এতদিন শিক্ষানবিশি করিতেছিল, গত বছর হইতে এ্যাটণি হইয়াছে। তাহার পিতা নবীন রায় গুড়ের কারবারে লক্ষপুতি হইয়া কয়েক বৎসর হইতে ব্যবসা ছাড়িয়া দিয়া ঘরে বসিয়া তেজারতী করিতেছিলেন। বড় ছেলে অবিনাশ, উকিল__ছোট ছেলে এই শেখরনাথ। তাহার প্রকাণ্ড তেতলাবাড়ি পাড়ার মাথায় উঠেছিল এবং ইহারই একটা খোলা ছাদের সহিত গুরুচরণের ছাদটা মিশিয়া থাকায় উভয় পরিবারে অত্যন্ত আত্মীয়তা জন্মাইয়াছিল। বাড়ির মেয়েরা এই পথেই যাতায়াত করিত।
শ্যামবাজারের এক বড়লোকের ঘরে বহুদিন হইতেই শেখরের বিবাহের কথাবার্তা চলিতেছিল। সেদিন তাহরা দেখিতে আসিয়া আগামী মাঘের কোন একটা শুভদিন স্থির কোরিয়া যাইতে চাহিলেন।
কিন্তু শেখরের জননী স্বীকার করিলেন না। ঝিকে দিয়া বাহিরে বলিয়া পাঠাইলেন, ছেলে নিজে দেখিয়া আসিয়া পছন্দ করিলে তবে বিবাহ দিব । নবীন রায় চোখ ছিল একটু টাকার দিকে, তিনি গিন্নির এই গোলমেলে কথায় অপ্রশন্ন হইয়া বলিলেন, এ আবার কি কথা ?
মেয়ে তো দেখাই আছে। কথাবার্তা পাকা হয়ে যাক, তারপরে আশীর্বাদ করবার দিন ভালো করে দেখলেই হবে।
তথাপি গিন্নী সম্মত হইলেন না। পাকা কথা কইতে দিলেন না। নবীন রায় সেদিন রাগ করিয়া অনেক বেলায় আহার করিলেন এবং দিবানিদ্রাটা বাহিরে ঘরেই দিলেন।
শেখরনাথ লোকটি কিছু সৌখিন। সে তেতোলায় যে ঘরটিতে থাকে
41 Views
0 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this:
(0)

মন্তব্য

কোন মন্তব্য নেই