পরিনিতা

যাকে পাঠিয়েছেন, তাকেই আদর আহ্লাদ করে ডেকে নেওয়া উচিত।
গুরুচরণ মুহূর্তকাল মৌন থাকিয়া বলিলেন, আদর আহ্লাদ করা উচিত সে আমিও জানি। কিন্তু বাবা, ভগবানও সুবিচার করেন না। আমি গরিব, আমার ঘরে এত কেন ?
এই বাড়িটুকু পর্যন্ত তোমার বাপের কাছে বাধা পড়িয়েছে, তা পড়ুক, সে জন্যও দুঃখ করিনে শেখর কিন্তু হাতে হাতেই দেখ না বাবা, এই যে আমার ললিতা মা বাপ মরা সোনার পুতুল, একে শুধু রাজার ঘরেই মানায়। কি করে একে প্রাণ ধরে যার তার হাতে দেই বল তো ?
রাজার মুকুটে যে কোহিনুর জ্বলে তেমনি কোহিনুর রসিকৃত করে আমার এই মা টিকে ওজন করিলেও দাম হয় না।
কিন্তু কে তা বুঝবে ?
পয়সার অভাবে এমন রত্নকেও বিলিয়ে দিতে হবে। বল দেখি বাবা, সে সময়ে কি রকম শেল বুকে বাজবে ?
১৩ বছর বয়স হল কিন্তু হাতে আমার এমন তেরোটা পয়সা নেই যে একটা সম্বন্ধ পর্যন্ত স্থির করি। গুরুচরণের দুই চোখ অস্ত্রপূর্ণ হইয়া উঠলো। শেখর চুপ করিয়া রহিলো।
গুরুচরণ পুনরায় কইলেন, শেখরনাথ, দেখতো বাবা, তোমার বন্ধু বান্ধবদের মধ্যে যদি এই মেয়েটার কোন গতি করে দিতে পার।
আজকাল অনেক ছেলে শুনেছি টাকা কড়ির দিকে চেয়ে দেখে না,
শুধু মেয়ে দেখেই পছন্দ করে। তেমনি যদি দৈবাৎ একটি মিলে যায় শেখর,
তাহলে বলছি আমি __ আমার আশীর্বাদ তুমি রাজা হবে। কি আর বলবো বাবা, এ পাড়ায়
49 Views
0 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this:
(0)

মন্তব্য

কোন মন্তব্য নেই