পরিনিতা

বেলা বারোটার মধ্যে বিলাতে হিসাব পাঠাইতে হইবে। কাল বড় সাহেব হুকুম যারি কোরিয়াছেন, ময়লা বস্ত্র পরিয়া কেহ অফিসে ঢুকিতে পারিবে না, ফাইন হইবে, অথচ গত সপ্তাহ হইতে রজকের সন্ধান মিলিতেছে না, সংসারের অর্ধেক কাপড় চাপড় লইয়া সে বোধ করি নিরুদ্দেশ।। গুরুচরণ আর ঠেস দিয়া বসিয়া থাকিতেও পারিলেন না , হুক্কাটা উঁচু করিয়া ধরিয়া এলাইয়া পড়িলেন। মনে মনে বলিলেন, ভগবান, এই কলিকাতা শহরে প্রতিদিন কত লোক গাড়ি ঘোড়া চাপা পরিয়া অপঘাতে মরে, তারা কি আমার চেয়েও তোমার পায়ে বেশি অপরাধী!
দয়াময়! তোমার দয়ায় একটা ভারী মটর গাড়িও যদি বুকের ওপর দিয়া চলিয়া যায়!
আন্নাকালী জল আনিয়া বলিল, বাবা উঠো, জল এনেছি। গুরুচরণ উঠিয়া সমস্তটুকু এক নিঃশ্বাসে পান করিয়া ফেলিয়া বলিলেন, আঃ যা, মা, গেলাসটা নিয়ে যা। সে চলে গেলে, গুরুচরণ আবার শুইয়া পরিলেন। ললিতা ঘরে ঢুকিয়ে বলিল, মামা, চা এনেছি, ওঠ ।
চায়ের নামে গুরুচরণ আর একবার উঠে বসিলেন । ললিতার মুখের পানে চাহিয়া তাহার অর্ধেক জ্বালা যেন নিভিয়া গেল, বলিলেন সারারাত জেগে আছিস মা, আয় আমার কাছে একবার বস।
ললিতা সলজ্জহাসো কাছে বসে বলিল, আমি রাত্তিরে বেশি জাগে নি মামা। এই জীর্ণ শীর্ণ গুরুভাবগ্রস্ত অকালবৃত্ত মাতুলের হৃদয়ের প্রচ্ছন্ন সুগভীর ব্যাথাটা তার চেয়ে বেশি এ সংসারে আর কেউ অনুভব করিত না।
গুরুচরণ বলিলেন, তা হোক, আয় আমার কাছে আয়।
ললিতা কাছে আসিয়া বসেতেই
102 Views
1 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this:
(0)

মন্তব্য

কোন মন্তব্য নেই