চিরদিনই তুমি যে আমার (অন্তিম পর্ব)
রাজীব ইসলামের কথাগুলো শুনে সানজিদা চৌধুরী মাথা ঘুরে পড়ে যাচ্ছিলেন এমন সময় রৌদ্র মা বলে একটা চিৎকার দিয়ে দৌড়ে এসে ওনাকে ধরলো।
রৌদ্র: (অস্থির হয়ে) মা. Are you ok.
সানজিদা চৌধুরী: (নিজেকে সামলে নিয়ে) হ্যাঁ,, আমি ঠিক আছি।
রৌদ্র: (রাজীব ইসলামকে উদ্দেশ্য করে) আমার মাকে নিয়ে আর একটাও বাজে কথা বলবেন না আপনি! তাহলে কিন্তু আমি আপনার জিহ্বা টেনে ছিঁড়ে ফেলবো। আপনি আমার মায়ের সম্বন্ধে কি জানেন! আমার মায়ের মতো সতী লক্ষী গোটা পৃথিবীতে আর একটাও নেই! Understood.
রাজীব ইসলাম: সতী লক্ষী বলেই তো ডিভোর্সি তাই না!
রাজীব ইসলামের কথাটা শুনে রৌদ্র প্রচন্ড রেগে কিছু একটা বলতে যাবে এমন সময় সানজিদা চৌধুরী তার বা কাঁধের ওপর একটা হাত রেখে ধিমে গলায় বলতে লাগলেন-
সানজিদা চৌধুরী: থাক রৌদ্র,, এদের মতো চোর, বাটপার, মিথ্যেবাদী লোকের সাথে কথা বলে নিজের আত্ম-সম্মানটা ধূলোর সাথে মিশিয়ে দিস না! আমার নিজের প্রতিই ঘেন্না হচ্ছে এমন একটা বাড়িতে সমন্ধ করেছি বলে! ছিঃ, মানুষ কখনো মানুষের সাথে এমন আচরন করে,, এই বাড়িতে না আসলে তো কোনদিনও জানতে পারতাম না! বাড়িতে চল, এখানে আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে!
রৌদ্র: হ্যাঁ মা চলো,, আমারও কেমন জানি একটা অস্বস্তি হচ্ছে এই বাড়িটাতে থাকতে!
আফিয়া ইসলাম: বাড়ি পরে যাবেন। আমি একজন উকিল কে ফোন করেছি। উনি নাকি আর দশ মিনিটের ভেতর এখানে এসে পৌঁছাবেন। উনি এসে ছায়া আর রৌদ্রের ডিভোর্সটা করিয়ে দেবেন।
সানজিদা চৌধুরী: ঠিক আছে। তবে ডিভোর্সটা করিয়ে বিয়েটা কার সাথে দেবেন? জানতে পারি!
আফিয়া ইসলাম: আপনাকে সেটা বলতে আমি বাধ্য নই!
সানজিদা চৌধুরী: অবশ্যই আপনি আমাকে সেটা বলতে বাধ্য।...
আফিয়া ইসলাম: আমার একটা বান্ধবীর ছেলের সাথে ওর বিয়ে দেব,, হয়েছে.. শান্তি...
সানজিদা চৌধুরী: আপনার বান্ধবীর সাথে বিয়ে দেবেন মানে! আপনি যদি এই ছেলেটার সাথে ওর বিয়ে না দেন,, তাহলে কিন্তু আমি এ বাড়িতে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ লাগিয়ে দেব,, বলে রাখলাম!
আফিয়া ইসলাম: আচ্ছা,, আপনি অযথা আমার মেয়েকে নিয়ে এত টানাটানি করছেন কেন বলুন তো! আমার মেয়েকে আমি যেখানে খুশি সেখানে বিয়ে দেব,, তাতে আপনার কি!
সানজিদা চৌধুরী: আমার কি! দাঁড়ান,, আর দুই মিনিট Wait করুন!
আফিয়া ইসলাম: কেন? দুই মিনিট পর কি হবে!
সানজিদা চৌধুরী: সেটা সময়ই বলে দেবে!
এই পর্যন্ত বলে থেমে গেলেন সানজিদা চৌধুরী। ওনার কথাটা শুনে আফিয়া ইসলাম ও রাজীব ইসলাম একে অপরের দিকে চাওয়াচাওয়ি শুরু করলেন। সেখানে উপস্থিত সকলে হতভম্ব হয়ে এই দৃশ্য দেখে দেখছে! কারো মাথায় কিছুই ঢুকছে না!
*
এটাই কি ইসলাম বাড়ি।........
বলতে বলতে সেখানে এসে হাজির হলো পাঁচ - ছয়জনের একটি পুলিশের দল।
সানজিদা চৌধুরী: হ্যাঁ,, এটাই ইসলাম বাড়ি। আমিই আপনাদের আসতে বলেছি। এই যে এই মহিলা আর এই লোকটা মিলে মেয়েটার জীবনটা ধ্বংস করে দিতে চাচ্ছিল।
একজন পুলিশ অফিসার: এই,, তাড়াতাড়ি এদেরকে Arrest করে গাড়িতে নিয়ে তুল। আমি কিছুক্ষণ পর আসছি!.......
ওনার কথা শুনে দু-তিন জন পুলিশ এগিয়ে এসে আফিয়া ইসলাম আর রাজীব ইসলামের হাতে হাতকড়া পড়ালো এবং গাড়ির দিকে নিয়ে যেতে লাগলো।
আফিয়া ইসলাম আর রাজীব ইসলাম যাওয়ার আগে ভিষণ কর্কশ গলায় বলে গেলেন এর প্রতিশোধ ওনারা নেবেন।
তাদের কথা শুনে সেই পুলিশ অফিসারটি অম্লান হেসে বললেন,, সেটা জেলের ভেতর গিয়ে নিও..
*
পুলিশ অফিসার: ধন্যবাদ মিসেস চৌধুরী,, আপনাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ এই সয়তান দুটোকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য।
সানজিদা চৌধুরী: ধন্যবাদ!
পুলিশ অফিসার: তা বিয়ের কনে কোনটা! এখানে তো দেখছি দু'জন বিয়ের শাড়ি পড়ে দাঁড়িয়ে আছে।
পুলিশ অফিসারের কথা শুনে সানজিদা চৌধুরী ছায়া'র কাছে গিয়ে তার দুই কাঁধ দুই হাত রেখে মৃদু হেসে বললেন-
সানজিদা চৌধুরী: এইটা বিয়ের কনে!
সানজিদা চৌধুরীর কথাটা শুনে পুলিশ অফিসার ছায়া'র সামনাসামনি এসে দাঁড়িয়ে অম্লান হেসে বললেন-
পুলিশ অফিসার: বাহ্ , মেয়ে তো খুব সুন্দর। তা পাত্র বাবাজি কোথায়!
পুলিশ অফিসারের কথাটা শুনে এবার রৌদ্র মেঘের কাছে এগিয়ে গিয়ে তার দুই কাঁধে নিজের দুই হাত রেখে মৃদু হেসে বলল-
রৌদ্র: এই যে,, পাত্র বাবাজি।
পুলিশ অফিসার: (ম্লান হেসে) পাত্র বাবাজি,, এসে একটু হবু বউয়ের পাশে দাঁড়াও। একটা সেলফি হয়ে যাক সবাই মিলে।
পুলিশ অফিসারের কথাটা শুনে মেঘ ছায়া'র পাশাপাশি গিয়ে দাঁড়ালো। এরপর সবাই মিলে একটা ফটো তোলার পর পুলিশ অফিসার সেখান থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলেন।
কিছুক্ষণ পর উকিল এসে ডিভোর্স করিয়ে দিয়ে গেল। আর কাজী সাহেব এসে ছায়া মেঘের বিবাহ কার্য সম্পন্ন করে গেল।
*
বাসর ঘরে একলা একলা বসে আছে ছায়া। এখনো মেঘের কোন পাত্তা নেই। তাতে বেশ কিছুটা রেগে গেছে সে! মনে মনে মেঘকে বকছে এমন সময় ঘরে এসে হাজির হলো মেঘ।
তাকে দেখে ছায়া মুখটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিল। তা দেখে মেঘ মৃদু হেসে ছায়া'র পাশে এসে বসলো।
ছায়া তার দিকে না তাকিয়েই বলল-
ছায়া: এখানে এসেছো কেন? যেখানে ছেলে সেখানেই যাও না।
মেঘ: প্লিজ ছায়া তুমি রাগ করোনা,, আসলে বন্ধুরা সব........ (পুরোটা বলতে না দিয়ে)
ছায়া: থাক. আর কিছু বলতে হবে না তোমায়! যাও গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো!
মেঘ: ঘুমিয়ে পড়বো মানে! ছায়া আজ আমাদের বাসর রাত।
ছায়া: তো!
মেঘ: তো, এখন আমি তোমার সাথে রোমান্স করবো।
ছায়া: কিন্তু,, আমি এখান ওসব করার মুডে নেই।
মেঘ: রাগ করোনা লক্ষী বউটি আমার।
আমি দেরিতে এসে দোষ করেছি তাই না! দাঁড়াও,, আমি কান ধরে ওঠবস করছি! তাও তুমি রাগ করে থেকো না।..
এই বলে মেঘ কান ধরে ওঠবস করতে লাগল। ছায়া রাগ করে থাকতে পারলো না। অনিচ্ছা সত্ত্বেও হা.হা.হা করে হেসে উঠলো এবং মেয়েকে উদ্দেশ্য করে বলল-
ছায়া: তুমি পারোও বটে! যাও,, ক্ষমা করে দিয়েছি তোমায়।
ছায়া'র কথাটা শুনে মেঘ তার পাশে এসে বসলো। তার (ছায়া'র) হাতের ওপর নিজের হাতটা রেখে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ধিমে গলায় বলল-
মেঘ: জানো ছায়া,, আমি যে আজ কতটা খুশি কাউকে বলে বোঝাতে পারবো না!
এই দিনটা দেখার জন্য আমি অনেকগুলো দিন অপেক্ষা করেছি।
তোমার হাতে হাত রাখবো বলে আমি কারো হাতে হাত রাখি নি। তোমাকে ভালোবাসবো বলে আমি আর কাউকে ভালবাসি নি। তুমি কথা দাও আমায়,, জীবনে শত শত ঝড় - ঝাপটা এলেও তুমি আমায় ছেড়ে যাবে না। বলো,, তুমি সারাজীবন আমারই রয়ে যাবে! বলো,, চিরদিনই তুমি যে আমার।
ছায়া: কথা দিলাম। চিরদিনই তুমি যে আমার। আর অন্য কেউ নয়।
তুমি আমার জীবনে প্রথম এবং শেষ ভালোবাসা। আমার জীবনে আমি আর অন্য কাউকে ভালোবাসি নি,, আর বাসবোও না।
মৃত্যুর দুয়ারে দাঁড়িয়েও আমি বলবো,, আমি শুধু তোমাকে ভালোবাসি। শুধু তোমাকে। শুধু তোমাকেই!
বাকিটা সবাই নিজে নিজে বুঝে নেবেন।
কারণ- বাকিটা ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান।
অন্তিম পর্ব কেমন হয়েছে অবশ্যই রিভিউ দিয়ে জানাবেন।
এরকম গল্প আরো পেতে চাইলে আমাকে জানাবেন।
সমাপ্ত................................................
93
Views
21
Likes
9
Comments
5.0
Rating

সকল মন্তব্যগুলো (9)
You are an amazing writer.... I love your stories.
অনবদ্য লেখনী,, ধন্যবাদ লেখককে,, এত সুন্দর একটি গল্প আমাদের উপহার দেওয়ার জন্য। অনুরোধ রইলো,, এরকম অসাধারণ অসাধারণ অসাধারণ গল্প আরো দেওয়ার।
অনবদ্য লেখনী
দারুণ হয়েছে অন্তিম পর্ব
দারুণ হয়েছে অন্তিম পর্ব
অসম্ভব সুন্দর লিখেছেন
চমৎকার
দারুন
চমৎকার সমাপ্তি