চিরদিনই তুমি যে আমার (পর্ব ০৩)

আচমকা মেঘের এমন ভাবে সদর দরজার সামনে এসে দাঁড়াতে চমকে উঠলো সবাই। মেঘ'কে দেখে ভিষণ ভয় পেয়ে গেলেন আফিয়া ইসলাম এবং রাজিব ইসলাম! খানিকক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থেকে আফিয়া ইসলাম কাঁপা কাঁপা গলায় বললেন-

আফিয়া ইসলাম: একি,, তু,, তু,, তুমি এখানে! তোমাকে তো আমি.........

এই পর্যন্ত বলে থেমে গেলেন আফিয়া ইসলাম। তা দেখে মেঘ মুচকি হেসে বলল-

মেঘ: আমাকে কি.. বলুন!

আফিয়া ইসলাম: তোমাকে তো আমি গ্যারেজে আটকে রেখেছিলাম।

আফিয়া ইসলামের এমন কথা শুনে সেখানে উপস্থিত সকলে ওনার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকালো।

মেঘ: শুনুন- সত্যিকারের ভালবাসা'কে কখনো আটকে রাখা যায় না। শিকল দিয়ে বেঁধে রাখলেও সে শিকল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসবে তার ভালোবাসা'কে রক্ষা করতে! আর আপনি তো শুধু আমাকে জাস্ট একটু আটকিয়ে'ই রেখেছিলেন। তবু কি লাভ হলো বলুন! সেই তো আমি চলেই এলাম।

এতক্ষণ ধরে চুপ করেই ছিলেন সানজিদা চৌধুরী! মেঘের এমন কথা শুনে এবার তিনিও মুখ খুললেন!

সানজিদা চৌধুরী: বেয়ান,, এসব কি বলছে এই ছেলেটা! আর আপনি ওকে গ্যারেজে আটকিয়ে রেখেছিলেন কেন? আমার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে! তাড়াতাড়ি বলুন,, এই ছেলেটা কি বলতে চাচ্ছে!

মেঘের গলা শুনে ছায়া মাথার ঘোমটাটা উঠিয়ে নিতে যাবে এমন সময় তার কাঁধে একটা হাত রাখলেন রাজিব ইসলাম। এরপর তার (ছায়া'র) কানে ফিসফিস করে বলতে লাগলেন-

রাজিব ইসলাম: এই খবরদার,, একদম ঘোমটা ওঠাবি না! ঘোমটা ওঠালে কিন্তু মেঘের রক্তাক্ত লাশটাই দেখতে পারবি! আর কিচ্ছু না!

বাবার এমন কথাগুলো শুনে ভিষণ ভয় পেয়ে গেল ছায়া। কাঁপা কাঁপা গলায় বলল-

ছায়া: ঠিক আছে, তবে তোমরা মেঘের কোনো ক্ষতি করো না!

*


সানজিদা চৌধুরী 'র কথাগুলো শুনে মেঘ কিছু একটা বলতে যাবে এমন সময় আফিয়া ইসলাম বেশ কর্কশ গলায় বলতে লাগলেন-

আফিয়া ইসলাম: এসব ওর নাটক বেয়ান। ও একটা বখাটে ছেলে। সারাক্ষণ মেয়েদের জ্বালাতন করে। ও আমাকে বলেছিল; আলো'র সাথে ওর বিয়ে দিতে। আমি তা করিনি বলে ও আজ এই বিয়ে ভাঙতে এসেছিল। তাই আমি ওকে গ্যারেজে আটকে রেখেছিলাম!

সানজিদা চৌধুরী এবার মেঘ'কে উদ্দেশ্য করে চড়া গলায় বললেন-

সানজিদা চৌধুরী: এই ছেলে এই,, তুমি যে'ই হও না কেন! তা দেখে আমার লাভ নেই! আমার কথা হলো- বিয়ের আগে তুমি আলো'র সাথে কি করেছো, করেছো! তা দেখে আমার কোনো লাভ নেই। কিন্তু এখন আলো আমার ছেলের বৌ। তুমি এখন ওকে এভাবে ডিস্টার্ব করতে পারো না! আশা করি আমার কথা বুঝতে পেয়েছো!

মেঘ: (লম্বা একটা ঘোমটা দিয়ে রাখা ছায়া 'র দিকে তাকিয়ে) আন্টি,, আপনি কি SURE যে ওই ঘোমটার আড়ালে আলো'ই রয়েছে!

সানজিদা চৌধুরী: (অবাক হয়ে) মানে! তুমি কি বলতো চাচ্ছো! আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না!

মেঘ: exactly তাই! ওই ঘোমটার আড়ালে আলো নেই! আছে....... (পুরোটা বলতে না দিয়ে)

আফিয়া ইসলাম: এই ছেলে এই,, কি বলতে চাচ্ছো তুমি! ও..... সবাই যাতে আমার আলো'র মুখ দেখে ফেলে,, আর আমার আলো'র কোন ক্ষতি হয়,,তাই তুমি এসব করতে এসেছো তাই না! যদি এসব করতে আসো,, তাহলে তুমি খুব বড়ো ভুল করছো! আমি নিজের জীবন দিয়ে দেব তবুও কাউকে আমার আলো'র মুখ দেখতে দেব না।

মেঘ: ঠিক আছে আন্টি,, মেনে নিলাম আপনার কথা! ঘোমটার আড়ালে আপনার বড়ো মেয়ে আলো'ই রয়েছে! তাহলে আপনার মেজো মেয়ে ছায়া কোথায়? আজ তার বড়ো বোনের বিয়ে! কিন্তু সে কোথায়? সে তো এতক্ষণ পর্যন্ত কারো চোখেই পড়ে নি! কি কেউ দেখেছেন,, আফিয়া ইসলামের মেজো মেয়ে ছায়া'কে!

মেঘের কথাগুলো শুনে সেখানে উপস্থিত সকলে একে ওপরের দিকে তাকানো শুরু করলো। তা দেখে এবার প্রচন্ড ভয় পেয়ে গেলেন আফিয়া ইসলাম ও রাজিব ইসলাম। আফিয়া ইসলাম মেঘের কথাগুলো শুনে কি বলবেন কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না! তিনি চুপ করে মূর্তির মতো এক জায়গায় স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তা দেখে এবার রাজিব ইসলাম বললেন-

রাজিব ইসলাম: এই ছেলে এই,, কি শুরু করেছো টা কি তুমি! এটা একটা ভদ্রলোকের বাড়ি। এখানে এসব অসভ্যতামো একদম চলবে না বুঝতে পেরেছো! আর কি বলছো তুমি; আমার মেজো মেয়ে ছায়া কোথায়?
এখন আমার বড়ো মেয়েকে ছেড়ে মেজো মেয়ে'কে ধরেছো।
এতই যখন জানার ইচ্ছে! যাও বলছি- আমার মেজো মেয়ে একটু অসুস্থ। তাই তাকে তার একটা বান্ধবীর বাসায় রেখে এসেছি। হয়েছে,, তোমার সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছো। তাহলে এবার এখান থেকে যাও!

মেঘ: তাহলে আপনি কি এখনও বলতে চাচ্ছেন এই লম্বা ঘোমটা'র আড়ালে আপনার বড়ো মেয়ে আলো'ই রয়েছে।

রাজিব ইসলাম: হুম,, তা নয় তো কি!

মেঘ: যদি ওখানে বড়ো মেয়ে থেকে থাকে তাহলে এখানে কে!

এই বলে মেঘ সেই স্থান থেকে কিছুটা সড়ে দাঁড়ালো। ঠিক তখনই সেখানে এসে দাঁড়ালো একটি বিয়ের শাড়ি পড়া মেয়ে আর একটি শেরওয়ানি, পা'জামা পড়া ছেলে!


কি হবে এরপর! এই বিয়ের শাড়ি পড়া মেয়েটি'ই কি আলো! আলো'কে দেখে চৌধুরী বাড়ির লোকেরা কেমন রিয়েক্ট করবে ইসলাম পরিবারের সদস্যদের ওপর! এবার ছায়া 'র কি হবে! ছায়া-মেঘের কি বিয়ে হবে! নাকি অন্য কিছু অপেক্ষা করছে তাদের জন্য!
জানতে হলে অবশ্যই চোখ রাখতে হবে চিরদিনই তুমি যে আমার গল্পের পরবর্তী পর্বে!
এই পর্বটা যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই রিভিউ, রেটিং দিয়ে যাবেন।
গল্পের কোথাও ভুল মনে অবশ্যই রিভিউ দিয়ে জানাবেন। আর অযথা রেটিং কমাবেন না!

87 Views
19 Likes
2 Comments
4.8 Rating
Rate this:
(19)

মন্তব্য

সকল মন্তব্যগুলো (2)

Reader photo
রাজশ্রী
18-Sep-2024, 10:40 PM

চমৎকার

Reader photo
আমি তোমায় ভালোবাসি
22-Aug-2024, 08:20 AM

পরবর্তী পর্ব তাড়াতাড়ি দেবেন

মোঃ আলমগীর হোসেন (আতিক)
মোঃ আলমগীর হোসেন (আতিক)
22-Aug-2024, 05:56 PM

অবশ্যই তাড়াতাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করতেন