বিয়ের শাড়ি পরা মেয়েটিকে দেখে চমকে উঠলো সেখানে উপস্থিত সকলে! সানজিদা চৌধুরী খানিকক্ষণ মেয়েটির দিকে তাকিয়ে থেকে অবাক হওয়া কণ্ঠে বললেন-
সানজিদা চৌধুরী: একি আলো তুমি,, তুমি ওখানে! তাইলে এই ঘোমটার আড়ালে কে!
মেঘ: কি আন্টি,, মিললো তো আমার কথা! ওই ঘোমটার আড়ালে আলো নেই,, আছে আলোর বোন ছায়া। আর আমি আলোকে নয় ভালোবাসি ছায়াকে! বুঝতে পেরেছেন!
মেঘের কথাগুলো শুনে সানজিদা চৌধুরী তড়িঘড়ি করে ছায়া'র দিকে এগিয়ে যেতে লাগলেন। এক্কেবারে ছায়া'র সামনাসামনি এসে দাঁড়িয়ে তার মাথার ঘোমটাটা একটানে সড়িয়ে দিলেন। যার কারণে স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠলো ছায়া'র শ্যামল বর্ণের মুখখানি!
*
এ দৃশ্য দেখে প্রচন্ড রেগে গেলেন সানজিদা চৌধুরী। খানিকক্ষণ আফিয়া ইসলামের দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে কড়া গলায় বললেন-
সানজিদা চৌধুরী: কি! এই কারণেই আপনি ছায়া'র মাথা থেকে ঘোমটাটা সড়াতে দিচ্ছিলেন না তাই না! কিন্তু কি লাভ হলো বলুন,, শেষপর্যন্ত তো সত্যেরই জয় হলো!
সানজিদা চৌধুরী'র কথাগুলো শুনে আফিয়া ইসলাম করুন স্বরে বলতে লাগলেন-
আফিয়া ইসলাম: আপনি আমায় ক্ষমা করুন বেয়ান! এ ছাড়া যে আমার মাথায় আর কোনো উপায় আসছিল না!
সানজিদা চৌধুরী: (আফিয়া ইসলামকের দিকে আঙুল তুলে) চুপ, একদম চুপ! আপনার ওই নোংরা মুখ দিয়ে আমায় বেয়ান বলে ডাকবেন না! আপনার কাছ থেকে আমি এটা কখনোই আশা করিনি! আপনার বড় মেয়ে আলো অন্য একজনকে ভালোবাসে আপনি সেটা জানা সত্ত্বেও ওর সাথে আমার ছেলের বিয়ে দিচ্ছিলেন। এখন সে বিয়ে করতে পারবে না বলে পালিয়ে গেছে,, তাই আপনি আপনার আরেক মেয়ের সাথে আমার ছেলের বিয়ে দিয়ে দিলেন! আপনি একবারও ভাবলেন না এতে আপনার মেয়ের জীবনটা নষ্ট হয়ে যেতে পারে!
কি হলো চুপ করে আছেন কেন! কিছু বলুন! আর কি-ই বা বলবেন কথা বলার মতো মুখ এখন আর আপনার আছে নাকি!
সানজিদা চৌধুরী'র কথাগুলো শুনে এবার খানিকটা রেগে গেলেন আফিয়া ইসলাম! রাগে গজগজ করতে করতে তিনি বললেন-
আফিয়া ইসলাম: চুপ করুন আপনি! আমি আর আপনার কোনো কথা শুনতে চাই না! কি চাচ্ছেন এখন আপনি,, ছায়া আর রৌদ্রের ডিভোর্স করাবেন! না... কষ্ট করে সেটা আর আপনাকে করতে হবে না! আমি নিজে ছায়া-রৌদ্রের ডিভোর্স করাব! আর সেটা আজই.....
সানজিদা চৌধুরী: এই দাঁড়ান দাঁড়ান,, ওই নোংরা মুখে এত বড় বড় ডায়লগ মারবেন না! আমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ছায়া-রৌদ্রের ডিভোর্স করাব! আর এই ছেলেটার সাথে আমি ছায়া'র বিয়ে দেব।
আফিয়া ইসলাম: আপনি কি ছায়া'র গার্ডিয়ান নাকি যে এই ফকিরের বাচ্চা ফকিরটার সাথে ওর বিয়ে দেবেন!
রৌদ্র: মা,, কি হচ্ছে টা কি! ওনাদের মেয়ে ওনারা যা ইচ্ছে তাই করবে! সেখানে তোমার নাক গলিয়ে কোনো লাভ নেই! ওনারা চাইলে এই ছেলেটার সাথে ওর বিয়ে দেবেন,, আর না চাইলে দেবেন না! তবে আমি আজই এই মেয়েটাকে ডিভোর্স দেব!
সানজিদা চৌধুরী: এটা ওনাদের নিজের মেয়ে নয় রে রৌদ্র বাবা! যদি নিজের মেয়েই হতো তাহলে ওকে এভাবে জেনেশুনে তোর সাথে বিয়ে দিত না! ওনাদের তো এই জ্ঞানটুকু আছে যে,, তুই কোনোদিন ওই মেয়েকে নিজের স্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে পারবি না! ওকে তুই ডিভোর্স দিয়ে দিবি কিংবা সারাজীবন ওর ওপর অত্যাচার চালাবি!
রাজীব ইসলাম: এই থামুন তো আপনারা। অনেকক্ষণ ধরে শুনছি আপনাদের মা-ছেলের বকবক! আপনারা এই মুহূর্তে আমার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান! নইলে কিন্তু আমি ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করতে বাধ্য হবো!
সানজিদা চৌধুরী: এই থামুন,, কোনো দেশের রাজা - রাষ্ট্রপতি হয়ে যাননি আপনি! যে আমাদের এভাবে অপমান করে তাড়িয়ে দেবেন। আগে একটু ভদ্রতা শিখুন,, তারপর কোথাও মেয়ের জন্য সম্পর্ক খুঁজতে যাবেন। আপনাদের যা আচার- আচরণ,, দেখুন,, শেষপর্যন্ত ছোট মেয়েটার বিয়েটা'ই দিতে পারেন কিনা!
রাজীব ইসলাম: আপনি আমায় আচার - আচরণ শেখাচ্ছেন!
সানজিদা চৌধুরী: যদি আগে থেকেই শিখে রাখতেন,, তাহলে হয়তো এখন আমায় এভাবে আপনাকে আচার - আচরণ শেখাতে হতো না।
রাজীব ইসলাম: যার নিজের আচরণের কোনো ঠিক নেই,, সে আবার আমাকে শেখাবে আচার - আচরণ!
সানজিদা চৌধুরী: কি বলতে চাচ্ছেন টা কি আপনি!
রাজীব ইসলাম: যদি আপনার আচরণ ঠিক থাকতো,, তাহলে তো আপনার স্বামী আপনাকে কখনো ডিভোর্স দিয়ে চলে যেতেন না মিসেস চৌধুরী!
চলবে............................................................
আবার কোন ইতিহাস ফিরতে চলেছে! কেমন হবে নতুন অধ্যায়। মেঘ-ছায়ার বিয়েটা কি হবে! নাকি অন্য কিছু অপেক্ষা করছে তাদের দু-জনের জন্য।
জানতে হলে অবশ্যই চোখ রাখতে হবে চিরদিনই তুমি যে আমার গল্পের পরবর্তী পর্বে!
এই পর্বটা কেমন হয়েছে অবশ্যই রিভিউ দিয়ে জানাবেন। আর প্লিজ কেউ অযথা রেটিং কমাবেন না।
চিরদিনই তুমি যে আমার (পর্ব ০৪)
95
Views
21
Likes
6
Comments
5.0
Rating

সকল মন্তব্যগুলো (6)
চমৎকার
দারুণ
খুব সুন্দর! পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষায় রইলাম
চমৎকার প্রকাশ
ভালো হয়েছে।
তাড়াতাড়ি পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম 🙄💗💗