চিরদিনই তুমি যে আমার (পর্ব ০২)

মেঘ কোনো বাধা না পেয়ে দ্রুত পায়ে সদর দরজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এমন সময় হঠাৎ কেউ তার মাথায় লাঠি দ্বারা আঘাত করলো। মেঘ ধীরে ধীরে পেছনে ঘুরে তাকাতেই দেখতে পেল আফিয়া ইসলামের হাতে একটা লাঠি। লাঠির আঘাতের কারণে মেঘ মুহূর্তেই মাটিতে গড়িয়ে পড়লো। চেষ্টা করলো একটা চিৎকার দেওয়ার। কিন্তু তার মুখ থেকে কোনো আওয়াজ'ই বের হচ্ছে না। পুরোপুরি মাটিতে গড়িয়ে পড়তেই মেঘ অজ্ঞান হয়ে গেল।

এরপর আফিয়া ইসলাম আর দুই দারোয়ান মিলে তাকে একটি বস্তায় পুরে নিয়ে গ্যারেজের দিকে চলে গেলেন।
গ্যারেজের এক জায়গায় ঠিক করে মেঘের বডিটা রেখে দিয়ে তিনজন আবার বাইরে বেরিয়ে এলেন।

আফিয়া ইসলাম: এই ভালো করে শোনো দু'জনে,, অপরিচিত কাউকে দেখলে বা কাউকে দেখে সন্দেহ হলে তাকে আটকে রেখে আমাকে অবশ্যই খবর দেবে। আমি এসে তারপর দেখব,, তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া যায় কিনা!

দারোয়ান দু'জন মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ সূচক সম্মতি জানালো। এরপর আফিয়া ইসলাম তড়িঘড়ি করে বাড়ির ভেতরের দিকে এগোতে লাগলেন।

************************

এদিকে ছায়া তখনো অস্থির হয়ে একটি চেয়ারে বসে আছে। তার সারা মুখে বিষণ্ণতার ছাপ।  মেঘকে নিয়ে খুব ভয় পেয়ে আছে সে। তার মা ততক্ষণে গেটের কাছে চলে গেছে। মেঘের এখন কি অবস্থা। তার মা মেঘের কোন ক্ষতি করে দেবে না তো।

ছায়া মনে মনে এই কথাগুলো ভাবছে হঠাৎ আবার ড্রয়িং রুমে প্রবেশ করলেন আফিয়া ইসলাম।

সানজিদা চৌধুরী: কি হলো বেয়ান,, আপনি না বললেন; বাইরে আপনার একজন গেস্ট এসেছে। তাকে আপনি আনতে যাচ্ছেন। কই আপনার গেস্ট,, কোথায় তিনি?

আফিয়া ইসলাম: ওর নাকি খুব তাড়া আছে। তাই সে আমার সাথে দেখা করেই চলে গেছে। আসলে ও তো দেশের বাইরে থাকে,, একটু পর তার ফ্লাইট। ক'দিন বাদে সে নাকি আবার দেশে ফিরে আসবে। তখন নাকি সে আলো'কে দেখতে যাবে।

আফিয়া ইসলামের কথাগুলো ঠিক সুবিধের মনে হলো না সানজিদা চৌধুরী'র। ওনার এমন কথাগুলো শুনে সানজিদা চৌধুরী মনে মনে বলতে লাগলেন-

সানজিদা চৌধুরী: যত তাড়াতাড়ি'ই ফ্লাইট থাকুক না কেন,, উনি একবার হলেও তো আলো'কে দেখে যেতে পারতেন। আলো'র সাথে দেখা না করে উনি কিভাবে চলে যেতে পারলেন! নাকি আফিয়া ইসলাম কিছু লুকোনোর চেষ্টা করছেন! ওনার হাবভাব দেখে তো মনে হচ্ছে খুব খুশি খুশি লাগছে! একজন গেস্ট বাড়িতে না এসে বাইরে থেকে চলে গেল; এতে তো আফিয়া ইসলামের মুখ বেজার করে রাখার কথা! নাকি উনি যে মন খারাপ করে আছেন,, এটা আমাদের বুঝতে দিচ্ছেন না! হয়তো এটাই হবে,, ধুর আমি এত ভালো একটা মানুষের সম্পর্কে এসব কি আবোল তাবোল............

আর কিছু বলতে পারলেন না সানজিদা চৌধুরী! আবার ওনার কানে ভেসে এলো আফিয়া ইসলামের কিছু মৃদু গলায় বলা কথা!

আফিয়া ইসলাম: কি হলো বেয়ান! কি ভাবছেন মনে মনে!

সানজিদা চৌধুরী: কই,, কিছু না তো!

আফিয়া ইসলাম: তাহলে বেয়ান,, কাজী সাহেব'কে বিয়ে পড়ানো শুরু করতে বলি।

সানজিদা চৌধুরী: হ্যাঁ, অবশ্যই। শুরু করতে বলুন।

আফিয়া ইসলাম: কাজী সাহেব,, তাহলে আপনি বরং বিয়ে পড়ানো শুরু করে দিন।

কাজী সাহেব: ঠিক আছে। (ম্লান হেসে)

এই বলে কাজী সাহেব নিজের কার্য আরম্ভ করলেন। বিয়ের পড়ানোর সব কার্যক্রম এক এক করে শেষ করে এবার কাজী সাহেব ছায়াকে কবুল বলতে বললেন। ছায়া কাজী সাহেবের কথা শুনে কিছু না বলে চুপ করে রইলো। তার মাথায় এখন মেঘকে নিয়ে হাজারো চিন্তার মেলা। মেঘ কোথায়! কি করছে! তার মা মেঘের কোন ক্ষতি করে দেয় নি তো! তার ইচ্ছে করছে এক দৌড়ে বাড়ি থেকে বাইরে বেরিয়ে যেতে! আর সেখানে স্থির হয়ে বসে থাকতে পারছে না সে!

ছায়া কবুল বলছে না দেখে আফিয়া ইসলাম তার (ছায়ার) কাছে এসে তার কানে ফিসফিস করে বললেন-

আফিয়া ইসলাম: কাজী সাহেব কবুল বলতে বলছে,, তুই কবুল বলছিস না কেন? ও... মেঘকে নিয়ে চিন্তা হচ্ছে। শোন- তুই যদি কবুল না বলিস তাহলে এখন পর্যন্ত তো শুধু মেঘকে আটকিয়ে রেখেছি,, এবার হয়তো তাকে.......... (পুরোটা বলতে না দিয়ে)

ছায়া: না,, প্লিজ তুমি মেঘ'কে কিছু কোরো না।

আফিয়া ইসলাম: তাহলে কাজী সাহেব যা বলছে তা কর। "বল কবুল"

ছায়া: বলছি,, তুমি শুধু মেঘের কিছু কোরো না।

আফিয়া ইসলাম: হুম,, তাহলে কবুল বল।

আফিয়া ইসলামের কথাটা শুনে ছায়া কবুল বলার চেষ্টা করছে,, কিন্তু কিছুতেই তার মুখ থেকে কোনো আওয়াজ'ই বের হচ্ছে না। তার চোখের সামনে ভেসে উঠছে মেঘের সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো।

কাজী সাহেব: কি হলো মা,, বলো কবুল।

ছায়া চুপ করে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। কিছুই বলছে না সে।

আফিয়া ইসলাম আবার ছায়ার কানের কাছে নিজের মুখ এনে ফিসফিস করে বললেন-

আফিয়া ইসলাম: কি হলো,, এখনো চুপ করে আছিস যে! কবুল বলবি নাকি........ (পুরোটা বলতে না দিয়ে)

ছায়া: বলছি.. বলছি.. প্লিজ তুমি মেঘে'র কোনো ক্ষতি করো না।

আফিয়া ইসলাম: যদি মেঘ'কে বাঁচাতে চাস,, তাহলে এই মূহুর্তে কবুল বল!

ছায়া: কবুল!

অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিয়ের নিয়ম অনুযায়ী তিনবার কবুল বলল ছায়া। ছায়া'র কবুল বলাতে সবাই খুশি হয়ে আলহামদুলিল্লাহ বললেন।


এরপর কাজী সাহেব, রৌদ্রের পরিবারের লোকেরা, আফিয়া ইসলামের কিছু গেস্ট সহ সবাই খেতে বসে পড়লেন। ছায়াকে খাওয়ানোর জন্য শিখা তাকে একটা অন্য ঘরের দিকে নিয়ে চলে গেল!
ছায়া রুমে পৌঁছে আবার কাঁদতে আরম্ভ করে দিল। তা দেখে শিখা আবার তার ফোনটা ছায়া'র দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল-

শিখা: এই নে আপু,, ফোনটা ধর,, মেঘ ভাইয়াকে বরং আরেকবার কল দে! দেখ সে কোথায় আছে,, আর কি করছে!

শিখা'র কথা শুনে ছায়া তার হাত থেকে ফোনটা নিজের হাতে নিতে যাবে এমন সময় আফিয়া ইসলাম ছুটে এসে ছায়া'র হাতটা আটকালেন। শিখার দিকে খানিকক্ষণ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে ঠাস করে তার (শিখার) বা গালে একটা চড় বসিয়ে দিলেন। আর ছায়ার মাথার লম্বা ঘোমটাটা আবার ফেলে দিয়ে টানতে টানতে তাকে নিচতলায় নিয়ে এলেন। আফিয়া ইসলাম নিচে এসে দেখলেন সবার খাওয়া শেষ। সবাই বিদায় নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। আফিয়া ইসলাম ছায়া সহ সবাইকে বিদায় দিতে লাগলেন। রৌদ্রের পরিবারের লোকেরা বিদায় পেয়ে ছায়াকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার জন্য সদর দরজার কাছে এসে দাঁড়িয়েছে এমন সময় মেঘ হন্তদন্ত হয়ে ছুটতে ছুটতে সদর দরজার সামনে এসে দাঁড়ালো।



কি হবে এরপর! এবার কি সত্যিটা জেনে যাবে রৌদ্রের পরিবারের লোকেরা! কি ঘটতে চলেছে ইসলাম পরিবারের সদস্যদের ওপর! জানতে হলে অবশ্যই চোখ রাখতে হবে পরবর্তী পর্বে।



প্রিয় পাঠক-পাঠিকাবৃন্দ,,
আজ এই পর্যন্তই থাক!
২য় পর্ব কেমন হয়েছে অবশ্যই রিভিউ দিয়ে জানাবেন।
রেটিং দিতে ভুলবেন না!
পর্ব ০৩ "আসছে খুব শিঘ্রই"
100 Views
21 Likes
3 Comments
4.8 Rating
Rate this:
(18)

মন্তব্য

সকল মন্তব্যগুলো (3)

Reader photo
পাঠক
20-Sep-2024, 11:10 AM

চমৎকার

Reader photo
নীল
19-Sep-2024, 11:05 PM

super 👍👍👍👍👍👍👍👍👍

Reader photo
রাজশ্রী
18-Sep-2024, 10:39 PM

চমৎকার