অচেনা মেয়ে (পাট ৯) শেষ

পলাশ
পলাশ
লেখক
গল্পঃ অচেনা মেয়ে
পর্বঃ ০৯ (শেষ)
লেখকঃ পলাশ
👇
👇
👇
কখন ঘুমিয়েছি জানি না । অনেক ভোরে আবার ঘুম ভাঙলো । ফোন চেক করলাম । দেখি কেউ ফোন বা ম্যাসেজ দেয়নি । তাহলে কি তাসফিয়ার কথাই সত্যি হলো,,,,, ও কি সত্যিই আমাকে ধোকা দিলো । এসব ভাবতে ভাবতে চোখে অজান্তেই পানি এসে গেল ।

তারপর কলেজে চলে গেলাম । একা একা ক্লাস করলাম । তাদের অনেকবার ফোন দিলাম কিন্তু বন্ধই পেলাম । তাই মন খারাপ করে বাসায় চলে এলাম ।

তিন মাস পর,,,,,,
👇
👇
👇
আমি ডিপ্রেশনে চলে গেছি । ওদের সাথে আর কথা হয় না । মনে হয় জান্নাত নামের কোনো মেয়েই নেই । আর তাসফিয়া কেন ফোন বন্ধ রাখছে তাও জানি । বাসা থেকেও আর বের হই না । মাঝে মাঝে আম্মু এসে কেঁদে চলে যায় । আর বলে কি হয়েছে আমার ছেলের ।

আমিও আম্মুকে সব কথা খুলে বলেছি । আম্মু আমাকে বলল,,,,

আম্মুঃ তোর ভালোবাসা সত্যি হয়ে থাকলে অবশ্যই তুই জান্নাত কে পাবি ।

আম্মুর কথায় মিথ্যা আশ্বাস নিয়ে আরো কয়েকটি দিন পার করলাম । একদিন রুমে শুয়ে আছি হঠাৎ দেখি ফোনের রিংটোনটা বেজে উঠলো । অনেক চমকে গেলাম । তিন মাসে কারো ফোন আসে নি ।

তাড়াতাড়ি করে ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখলাম সেই চির চেনা নাম্বার । চোখের পানি ঝরঝর চরে পড়তে লাগলো । তাড়াতাড়ি করে ফোন রিসিভ করতেই,,,,,

আমিঃ হ্যালো জান্নাত । কেমন আছো তুমি । এত দিন কই ছিলে । কেন ফোন করো নি । তোমার পিচ্চি কেমন আছে একবারও খোঁজ নিতে ইচ্ছে হয় নি তোমার । (এক নিশ্বাসে কথা গুলো বললাম)

জান্নাতঃ আমি তোমার সাথে আজ দেখা করতে চাই । লোকেশন পাঠিয়ে দিচ্ছি । আর হ্যাঁ বার্থডে তে যেগুলো দিয়েছি ওগুলো পড়ে আসবে ।

আমিঃ ঠিক আছে ।

আজকে অনেক দিন পর একটু হাসলাম । তারপর জান্নাতের কথা মতো আমি তার দেয়া ব্লাক পাঞ্জাবী পড়ে বিকেলে জান্নাতের দেয়া ঠিকানায় চলে গেলাম ।

এসে দেখি জান্নাত আগে থেকেই এসে বসে আছে । কিন্তু উল্টো দিকে ঘুরিয়ে আছে ।

আমিঃ জান্নাত ।

জান্নাত এদিকে ঘুরলো । আমি জান্নাতের চেহারা দেখে মাথা ঘুরে গেল । এ আমি কাকে দেখছি । চোখ ছানা বড়া হয়ে গেল । কারন এটা তো তাসফিয়া ।

আমিঃ আরে তাসফিয়া তুমি । তুমি এতো দিন কোথায় ছিলে । আর জান্নাত কোথায় ?

তাসফিয়াঃ আমিই জান্নাত আমার পিচ্চি টাহ ।

আমিঃ কি বলছো এগুলো । ফাজলামি কইরো না প্লিজ ।

তাসফিয়াঃ ঠিক আছে জান্নাতকে ফোন দাও ।

আমি তাড়াতাড়ি করে ফোন বের করে জান্নাতকে ফোন করলাম । দেখি তাসফিয়ার ফোন বেজে উঠলো ।

তাসফিয়াঃ এখন আমার নাম্বারে ফোন দাও ।

আমি তাসফিয়াকে ফোন করলাম । দেখি আবার ওর ফোন বেজে উঠলো ।

আমিঃ কেমনে সম্ভব ।

তাসফিয়াঃ এক সিম দিয়ে আমি জান্নাত সেজে তোমার সাথে কথা বলতাম আর আরেক সিম দিয়ে তাসফিয়া সেজে মেসেজ করতাম ।

আমিঃ তাহলে তোমার নাম কি ।

তাসফিয়াঃ আমার নাম তাসফিয়া জান্নাত ।

আমিঃ তাহলে যে তুমি আমাকে প্রোপোজ করলে সেটা ।

তাসফিয়াঃ আমি দেখছিলাম তুমি জান্নাত কে না দেখেও কতটা ভালোবাসো । আসলে তুমি জান্নাতের চেহারাকে নয় সত্যিই তুমি ওর মনকে ভালোবেসেছো । যেটা আমার অনেক ভালো লাগছে ।

আমিঃ তাহলে আমি কি পাস করছি ।

তাসফিয়াঃ হুমম আমার পিচ্চি টাহ । গোল্ডেন প্লাস পাইছো ।

আমিঃ কিন্তু এতো দিন কেন কথা বলো নি । ফোন ও বন্ধ রেখে ছিলে কেন ।

তাসফিয়াঃ আসলে আব্বুর হার্ট ব্লক হয়ে গিয়েছিল । তাই আব্বুর সাথে সিঙ্গাপুর গেছিলাম চিকিৎসার জন্য । তাই এই সিম বন্ধ ছিলো । কালকেই রাতেই আসছি বাংলাদেশে । এসেই তোমাকে ফোন করছি । এই কয়মাস আমারো দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছিলো তোমার সাথে কথা না বলে থাকতে

বলেই কাঁদতে লাগলো । আমি তার চোখ মুছে দিয়ে বললাম । আর কাঁদতে হবে না সিনিয়র বউ । এখন থেকে সব সময় আমি তোমারই থাকবো । বলেই তাকে জড়িয়ে ধরলাম ।

ভালোবাসার মানুষকে জড়িয়ে ধরে থাকলে ফিলিংস ই অন্যরকম হয় । মনে হয় সময় এখানেই থেমে যাক ।
👇
👇
একমাস পর আমাদের পরিবারের স্বমতেই আমি তাসফিয়া কে বিয়ে করি । আজ আমার বাসর রাত । তবে অনেক নার্ভাস ফিল হচ্ছে ।

বন্ধুদের খোচা খেতে খেতে বাসর ঘরে বীর পুরুষের মতো প্রবেশ করেই ফেললাম । প্রবেশ করার পূর্বে হার্টবিট কিছুটা কম থাকলেও প্রবেশ করার পর এটা চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে লাগলো ।

লাজুক ছেলেটি একটা মেয়ের সাথে থাকবে,,,, এগুলো ভাবতে ভাবতে কপাল ঘামতে শুরু করে দিলো । এতো ভয় পাওয়ার কি আছে , তার সাথেই তো সারাজীবন থাকতে হবে ,,,,,

ভয় পাওয়ার কিছু নেই পলাশ, এভাবে নিজেই নিজেকে সাহস দিতে লাগলাম । এরকম পরিস্থিতিতে এই অসহায় ছেলেটিকে কেউ সাহায্য করার ও নেই । তার পর নিজেকে শক্ত করলাম । একটু একটু করে জান্নাতের দিকে এগিয়ে গেলাম । সে চুপটি করে বসে আছে । আমি তার ঘোমটা খুলে মুখ দেখার জন্য নিজেকে শক্তভাবে প্রস্তুত করলাম ।

কিন্তু বেচারা হাত কিছুতেই তার ঘোমটা খোলার সাহস পাচ্ছিলো না । জান্নাত বুঝতে পারলো আমি ভীষন ভাবে লজ্জিত তাই ও নিজেই নিজের ঘোমটা তুললো । তার সুন্দরমুখ টা দেখে আমি হতভাগ হয়ে চেয়ে থাকলাম আর অবাক হলাম । তার হরিণী চোখ আর ঘন মেঘ বর্ণ চুল আমাকে ভাষাহীন করেছে ।

জান্নাতঃ এই যে পিচ্চি টাহ । এতো লজ্জা পাচ্ছো কেন । লজ্জা তো আমার পাওয়ার কথা ।

আমিঃ ইয়ে মানে,,,,না কিছু না । দুরে গিয়ে টেবিলে
রাখা পানি পান করলাম ।

বুঝতে পারলাম জান্নাত মুচকি মুচকি হাসছে । এবার একটু সাহস পেলাম । আবার তার কাছে গেলাম ।

আমিঃ আচ্ছা একটা কথা বলবো ??

জান্নাতঃ হুম

আমিঃ ছাদে যাবে এখন ?? খুব সুন্দর পূর্ণিমা!

জান্নাতঃ হুম

আমিঃ আজকে সারা রাত গল্প করে কাটাই চলো !

আমার এমন আবদার শুনে খুব খুশি হলো জান্নাত । দুজনে ছাদে গেলাম । চাদের আলোয় জান্নাত কে যেন জান্নাতের হুর ই মনে হচ্ছে ।

আমিঃ আচ্ছা জান্নাত পৃথিবীতে সবচেয়ে সুন্দর সম্পর্ক কোনগুলো ?? আর ভালোবাসা কোনগুলো??

জান্নাত চাঁদের দিকে তাকিয়ে উত্তর দিলো,,,,

জান্নাতঃ প্রথম যখন আমি তোমার বাসায় পা দিলাম তখন তোমার মা আমাকে শক্ত করে বুকে
ধরেছিলেন । আমার মনে হয়েছিল আমি আমার মাকে পেয়ে গেছি এটা হচ্ছে সুন্দর সম্পর্ক ।

আমাকে তোমার মায়ের নিজের মেয়ে মনে করা আর আমি তোমার মাকে নিজের শ্বাশুড়ি নয়,, নিজের মা মনে করা । তোমার বাবা যখন বলেছিলেন আমার কোনো মেয়ে নেই । এখন আমি একটা মেয়ে পেয়ে গেছি,,,,,সেটা হচ্ছে ভালোবাসা ।

আমি তো হতভাগ হয়ে তার দিকে চেয়ে আছি । নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান ছেলে মনে হচ্ছে । যে আমার কথা না বলে , আমার পরিবারের কথা আর আমার মা বাবার কথা আগে ভাবে । সেই মেয়ের মতো কেউ ভালোবাসতে পারবে না । আমি একটু অভিমানের নাটক করে বললাম,,,,

আমিঃ আমি বুঝি কিছুই না ?? হুম !!

জান্নাতঃ এই যে তুমি এই রাতে একটা মেয়েকে
পেয়েও তার শরীর কে ভালো না বেসে তার কাছে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছো,,,,,একটা সুন্দর রাত উপহার দিচ্ছো,,,,,আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ রাত উপহার দিচ্ছো । এটা হচ্ছে একটা মেয়ের প্রতি সম্মান আর শ্রদ্ধাবোধ । যা প্রত্যেকটি মেয়ে তার স্বামীর কাছে থেকে আশা করে ।

জান্নাতের মুখে স্বামী ডাকটা শুনে আমি লজ্জায় লাল হয়ে গেলাম । জান্নাত আমার হাত ধরে ফেললো আর বলল,,,,,,

জান্নাতঃ এই যে পিচ্চি ছেলে ,, এতো ভয় পাচ্ছো কেন ?? আমি একটা জিনিস চাই,,,,,কি দিতে পারবে তো ??

আমিঃ হুম পারবো ।

জান্নাতঃ আমাকে একটা রাজকন্যা গিফট করতে হবে । সেদিন আমি লজ্জাকন্ঠে বলেছিলাম,,

শুধু ভালোবাসতে হবে,, পৃথিবীর সব সুখ এনে দিবো তোমায় ।

_____________সমাপ্ত________________
___________________
_____

গল্পটা এইভাবেই ভেবেছিলাম । তাই বেশি না ঘুরিয়ে পেচিয়ে শেষ করে দিলাম । অবশ্যই জানাবেন কেমন হইছে।ধন্যবাদ ।
আর সবাই লেখক পলাশ কে সাপোর্ট করবেন
367 Views
33 Likes
4 Comments
4.6 Rating
Rate this:
(8)

মন্তব্য

সকল মন্তব্যগুলো (4)

Reader photo
Tahia
28-Jul-2024, 09:46 PM

ami prthome jeta vabci stai hoice and golpu ta anek sundor hoice

পলাশ
পলাশ
05-Aug-2024, 07:37 AM

ধন্যবাদ কোন ধরনের গল্প চান আমার ইমেইল করে জানতে পারেন

Reader photo
Tahia
28-Jul-2024, 09:43 PM

ami jeta bavci golper seshe stai hoi hoce ar golpu anek sunfor hoice

পলাশ
পলাশ
05-Aug-2024, 07:38 AM

ধন্যবাদ

Reader photo
sanjida
31-May-2024, 08:37 PM

he kor bo ta e rokom ar o chi

পলাশ
পলাশ
11-Jun-2024, 07:00 AM

ধন্যবাদ স্যার

Reader photo
ismita
26-Apr-2024, 04:26 PM

ami prothom ai i bishoy ta dhorty perechilam jy tasfiya i jannat🤣🤣🤣😅😅😅