গল্পঃ অচেনা মেয়ে
পর্বঃ ০৮
লেখকঃ পলাশ
👇
👇
👇
আজকে তাসফিয়াকে এতো সুন্দর লাগছে এর আগে কখনো এমন হয় নি । জান্নাতকে না ভালোবাসলে আমি আজকেই তাসফিয়াকে প্রোপোজ করতাম ।
তাসফিয়াঃ এই পলাশ কি এতো ভাবছো ?
আমিঃ কই কিছু না তো ।
তাসফিয়াঃ আচ্ছা একটা কথা বলতাম । বলবো,,,,??
আমিঃ আরে তার জন্য আবার জিজ্ঞেস করার কি আছে,,,করো ।
তারপর তাসফিয়া যা বললো শুনে আমার চোখ কপালে উঠলো,,,,,,,,,,,
তাসফিয়াঃ (চোখ বন্ধ করে) পলাশ আমি তোমাকে ভালোবাসি ।
আমিঃ কিহ,,,,,,,
তাসফিয়াঃ সত্যিই আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি । যেদিন তুমি আমাকে সর্বনাশের হাত থেকে বাচালে সেদিন থেকেই তোমাকে অল্প অল্প করে ভালো লাগে । সেজন্য তোমার কাছে থাকার জন্য বন্ধুত্বের সম্পর্ক করি । এখন আমি আর সহ্য করতে পারছি না । আমি সত্যিই তোমাকে অনেক ভালোবাসি পলাশ । প্লিজ ফিরেয়ে দিও না ।
আমি একদম হতবাক হয়ে গেছি । কি বলবো কিছুই বুঝতে পারছি না । অনেক ভাবলাম ।
তাসফিয়াঃ কি হলো পলাশ কিছু একটা বলো ।
না জান্নাত কে আমি ধোঁকা দিতে পারবো না । আমি ওকে অনেক ভালোবাসি । ওকে দেখি নি তো কি বয়েছে। আমি মন থেকেই ওকে অনেক ভালোবাসি । তাই নিজেকে অনেক শক্ত করে তাসফিয়াকে বললাম,,,,,,,
আমিঃ সরি তাসফিয়া কিছু মনে করো না । আমি একজনকে আগে থেকেই অনেক ভালোবাসি ।
তাসফিয়াঃ কি বলো এসব (মন খারাপ করে)
আমিঃ হ্যাঁ সত্যিই । তোমার সাথে পরিচয় হওয়ার আগেই তার সাথে আমার সম্পর্ক । প্লিজ ভুল বুঝো না । আমরা অনেক ভালো বন্ধু হয়েই থাকবো ।
তাসফিয়াঃ কে সেই ভাগ্যবতি মেয়ে যে তোমাকে পাবে । আমাকে কি বলা যাবে ।
আমিঃ হুমম ওর নাম জান্নাত । কিন্তু দেখতে কেমন তা আমি নিজেই জানি না ।
তাসফিয়াঃ মানে কি ?
আমিঃ মানে হলো তাকে আজ পর্যন্ত আমিই দেখি নি । শুধু এতোটুকু জানি ও আমাদের কলেজেই পড়ে ।
তাসফিয়াঃ ও যদি ফেক হয় ।
আমিঃ আমার মনের বিশ্বাস ও কখনো ফেক নয় । অবশ্যই জান্নাত আছেই ।
তাসফিয়াঃ এটার জন্য আজ তুমি আমাকে রিজেক্ট করলে । দেখবে ওটা মেয়েই নয় । আর হলেও ও তোমাকে ভালোইবাসে না । তোমাকে নিয়ে খেলছে ।
আমিঃ তাসফিয়া,,,,
বলে ওর গালে ঠাসসস ঠাসসস করে থাপ্পড় মারলাম ।
আমিঃ আমার ভালোবাসাকে বিচার করার তোমার কোনো অধিকার নেই ।
বলেই সেখান থেকে চলে গেলাম । তাসফিয়াও চলে গেছে কিনা জানি না । তবে আমি সেখান থেকে সরাসরি বাসায় চলে এলাম ।
বাসায় এসে তাসফিয়ার কথা অনেক মনে পড়ছে । ওকে মারাটা আমার উচিত হয় নি । ফোন দিয়ে ওকে সরি বলি ।
ফোন দিলাম । ফোন বন্ধ । ভাবলাম রাগ করেছে আমার উপর । কাল ঠিক হয়ে যাবে । এসে অনেক ক্লান্ত লাগলো তাই ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়লাম ।
সন্ধ্যায় ঘুম থেকে উঠে ছাদে একটু হাটাহাটি করে আসলাম । তবুও ভালো লাগছে না । তাসফিয়াকে আবার ফোন দিলাম কিন্তু বন্ধ পেলাম ।
জান্নাত কে ফোন দিলাম ।
আমিঃ হ্যালো
জান্নাতঃ হুমম বলো কেমন আছো ।
আমিঃ ভালো নেই । কাল তোমাকে আমার সামনে আসতেই হবে । না হলে আর আমি কথা বলবো না ।
জান্নাতঃ এটা আবার কেমন জেদ ।
আমিঃ এটাই । তুমি আসবা কি না বলো ।
জান্নাতঃ আচ্ছা ঠিক আছে বাবা দেখা করবো । খুশি,,,
আমিঃ হুমম অনেক । আই লাভ ইউ সিনিয়র বউ ।
জান্নাতঃ হুমম আমার পাগল পিচ্চি টাহ ।
তারপর অনেক খুশি হয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম । পরের দিন সকালে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে চলে গেলাম কলেজে । আমি জান্নাত কে লোকেশন পাঠিয়ে দিয়েছি সকালে ।
আমি অনেক আগেই এসে বসে আছি । কিন্তু জান্নাতের কোনো খোজ খবর নেই । জান্নাতকে একটা ফোন করলাম কিন্তু ফোন বন্ধ ।
তাই ভাবলাম এখন একটু তাসফিয়া কে ফোন দেই রাগ কমেছে কি না । তাই ওকেও ফোন দিলাম কিন্তু ওর ফোন ও বন্ধ পেলাম ।
কি ব্যাপার দুই জনের ফোন এক সাথে বন্ধ । জান্নাতের জন্য অনেক্ষন অপেক্ষা করলাম । কিন্তু জান্নাত এলো না ।
অনেক মন খারাপ করে বাসায় ফিরলাম । এসে আবার জান্নাতকে ফোন দিলাম কিন্তু এখনো ওর ফোন বন্ধ পেলাম । মেসেঞ্জারেও নক দিয়ে রাখলাম ।
সারাদিন কিছুই ভালো লাগছিল না । তাই বাসা থেকে বের ও হই নি । সারাদিন দুইজনকেই অনেক বার ফোন দিয়েছি । কিন্তু দুজনের ফোনই বন্ধ ।
রাতে মন খারাপ করে শুয়ে আছি । ঘুমও আসছে না । রাত দুইটা পর্যন্ত জেগে ছিলাম । হয়তো কেউ একজন ফোন দিবে । কিন্তু কেউ দিলো না । তাই ঘুমানোর চেষ্টা করলাম ।
কখন ঘুমিয়েছি জানি না । অনেক ভোরে আবার ঘুম ভাঙলো । ফোন চেক করলাম । দেখি কেউ ফোন বা ম্যাসেজ দেয়নি । তাহলে কি তাসফিয়ার কথাই সত্যি হলো,,,,, ও কি সত্যিই আমাকে ধোকা দিলো । এসব ভাবতে ভাবতে চোখে অজান্তেই পানি এসে গেল ।
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,
গল্পটা শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে । হ্যাপি এন্ডিং দিবো নাকি স্যাড দিবো আপনারাই জানান । জান্নাত কি সত্যিই আছে নাকি নেই,,,,?? আর কার সাথে মিল করিয়ে দিবো আপনারাই বলে দেন ।
অচেনা মেয়ে (পাঠ ৮)
334
Views
17
Likes
0
Comments
5.0
Rating

কোন মন্তব্য নেই