গল্পঃ অচেনা মেয়ে
পর্বঃ ০৪
লেখকঃ পলাশ
👇
👇
👇
বলেই একটা ঠাসস করে চড় মেরে চলে গেল । তবে এবার জোরে মারে নি । আসতে মারছে । মনে হয় শুধু গাল ছুঁয়ে দিল 🙈
ভাগ্যিস তখন কেউ ছিল না । একটু দূরে নিয়ে গিয়ে মারছে । 😁
কিছুক্ষণ পর একটা মেসেজ আসছে,,,,মেসেজটা দেখে আমি তো অবাক । কারন মেসেজটা ছিলো জান্নাতের । মেসেজে লেখা ছিল,,,,,,,,,,
জান্নাতঃ কি ব্যাপার পিচ্চি,,,,মেয়েটি তোমাকে মারলো কেন,,,,?
আমি এই যাহ এ আবার কোথা থেকে দেখলো । মান সম্মান সব শেষ । আশে পাশে তাকিয়ে দেখলাম কোন মেয়ে মেসেজ করলো । কিন্তু আশে পাশে তো কাউকে দেখতে পেলাম না ।
আমিঃ আচ্ছা কোথায় আপনি আসেন দেখা করি তারপর বলছি,,,?
জান্নাতঃ কখনো না এভাবে আমি কখনোই দেখা দিবো না । তুমি নিজেই আমাকে খুঁজে বের করবা ।
কি হইছে সেটা বলো মেয়েটা তোমাকে মারলো কেন,,,,?
তারপর আমি সব কথা জান্নাতকে খুলে বললাম ।
জান্নাতঃ হাহাহাহাহহা ।
তারপর জান্নাতের সাথে আরো কিছু মেসেজ করে বাসায় চলে এলাম ।
বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করলাম । তারপর বিকেলে একটু বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে গেলাম । আড্ডা দিতে দিতে কখন যে রাত হয়ে গেছে বলতেই পারি না ।
ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখি জান্নাতের ১৯ টা মিসড কল । আজ আমারে খাইছে । ফোন সাইলেন্ট ছিল তাই টের ই পাই নি । আবার ফোন দিয়েছে,,,,
আমিঃ হ্যালো ।
জান্নাতঃ ওই কুত্তা তোকে কয়বার ফোন দিয়েছি দেখ ।
আমিঃ সরি খেয়াল করি নি । ফোন সাইলেন্ট ছিল ।
জান্নাতঃ কোথায় আছিস যে ফোন সাইলেন্ট করে রাখতে হবে ।
আমিঃ বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতাছি ।
জান্নাতঃ কিহ এতো রাতেও আড্ডা । এখনো বাসায় যা বলতাছি । না হলে আমি কথা বলবো না ।
আমিঃ না না যাচ্ছি ।
জান্নাতঃ হুমম বাসায় গিয়ে খেয়ে ভালো ছেলের মতো ফোন দিবে ।
আমিঃ ঠিক আছে ।
জান্নাতঃ রাখছি ।
বলেই কেটে দিল । কেন জানি না জান্নাতের সাথে কথা বলতে কেমন ফিল হয় । ওর সামনে দুধে ভাতে হয়ে যাই । ওর সব কথা শুনতে মন চায় । তাই আর দেরি না করে বাসায় চলে এলাম ।
আম্মুঃ কি রে এতো দেরি করলি যে । তুই তো রাত করিস না ।
আমিঃ সরি আম্মু আর হবে না ।
আম্মুঃ হুমম যা ফ্রেশ হয়ে আয় আমি খাবার দিচ্ছি । তারপর ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে রুমে আসলাম । তারপর এসে জান্নাতকে ফোন করলাম,,,,,
আমিঃ হ্যালো
জান্নাতঃ হুমম আমার পিচ্চি টাহ খাওয়া দাওয়া হইছে ।
আমিঃ জ্বি ।
জান্নাতঃ এই তো গুড পিচ্চি টাহ । শুনো এতো রাত পর্যন্ত বাসায় থাকবে না ।
আমিঃ হুমম ঠিক আছে ।
জান্নাতঃ আচ্ছা তোমার কি সিনিয়র মেয়ে পছন্দ ।
আমিঃ হ্যাঁ । ভালো লাগে ।
জান্নাতঃ কেন ?
আমিঃ সিনিয়র মেয়েরা অনেক বেশি ভালোবাসে আর সাথে শাসন ও করে । তবে আদর একটু বেশিই করে 🙈🙈
জান্নাতঃ পিচ্চিটা তো অনেক পাকনা আর অনেক দুষ্টু 😄
আমিঃ দুষ্টু না হলে ভালোবাসবো কেমনে গল্প লিখবো কেমনে ?
জান্নাতঃ হুমম তাই তো ।
আমিঃ হুমম । আচ্ছা রাখছি কাল কথা হবে ।
জান্নাতঃ হুমম আল্লাহ্ হাফেজ । ভালো ছেলে এর মতো ঘুমিয়ে পড়ো ।
আমিঃ হুমম ।
বলেই ফোন কেটে দিলাম । তারপর কিছুক্ষণ গল্প লিখে ঘুমিয়ে পড়লাম ।
পরের দিন সকালে উঠে নামাজ পড়ে যথারীতি একটু হাটাহাটি করে আসলাম । তারপর এসে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করলাম । তারপর কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম,,,,,,
যাওয়ার সময় রাস্তার পাশের জঙ্গলের থেকে কিছু অদ্ভুত আওয়াজ আসছে । আরেকটু এগিয়ে দেখলাম দুইটা ছেলে একটা মেয়েকে টেনে নিয়ে আড়ালে নিয়ে যাচ্ছে ওদিকে একটু ঝোপ ঝাড় । তারই সুযোগ ছেলে দুইটা নিতে চাচ্ছে।
আমি খারাপ হতে পারি । কিন্তু এতোটা খারাপ না যে কোনো খারাপ কাজ দেখলে চুপ থাকবো ।বিবেক ও বলছে একটা অসহায় মেয়েকে এভাবে ফেলে রেখে যাওয়া ঠিক হবে না ।
আমি ওদের পিছু নিলাম । ওদের সামনে দাঁড়াতেই একটা ছেলে বলল,,,,,
ছেলেটিঃ কে তুই ?
আমিঃ কি করছিস দেখতে এলাম।
আমিঃ নাটক করিস না । দেখতেই পাচ্ছিস কি হবে এখন । চাইলে তুই ও আমাদের সাথে অংশগ্রহণ করতে পারিস ।
এতোক্ষন ওদের সাথে কথা বলায় মেয়েটাকে দেখা হয়নি । আমি মেয়েটার দিকে তাকালাম । এতো কলেজে আমায় থাপ্পড় মারা সেই মেয়েটা । মানে প্রিন্সিপাল স্যারের মেয়ে । ওর চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে । চোখ মুখ বিধস্ত । মুখে টেপ দেওয়া ।
দুইটা ছেলের শক্তির কাছে পরাজিত হয়ে ওর এমন অবস্থা হয়েছে । মেয়েটার সাথে আমার এমনি কথা কাটাকাটি থাকতে পারে । কিন্তু এমন অবস্থায় এর সুযোগ নেওয়া মোটেও ঠিক হবে না।
ছেলে দুইটা আমার চেয়ে বড় হবে । এদের দুজনকে পরাজিত করতে হলে বুদ্ধি করে পরাজিত করতে হবে।
ছেলেটিঃ ওই এতো ভাবছিস কি?হ্যাঁ না হয় না বল?
মেয়েটা আমার দিকে করুনভাবে তাকালো । হয়তো ভাবছে আমিও ওদের দলে যোগ দিবো।
আমি কোনো কথা না বলেই কাছে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটার তলপেটে লাথি মারলাম । আচমকা লাথি খেয়ে ছেলেটা একটু দূরে পড়ে গেল । এটা দেখে আরেকটা ছেলে আমাকে মারতে এলো । আগে থেকেই মারামারি করতে ভাল্লাগতো । কারণ ভালো মারামারি পারি । এবারও ছেলেটাকে আচ্ছা মতো ধোলাই দিলাম।অবশ্য নিজেও কয়েকটা ঘুষি খেয়েছি।
দুইটা ছেলে মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। ওদের কাছে গিয়ে বললাম মেয়েদের সম্মান কর । তাহলে সম্মান পাবি ।
আমি মেয়েটার মুখের টেপ খুলে দিলাম। ওর হাত ও বাধা আছে । হাতের বাঁধন ও খুলে দিলাম।
মেয়েটা আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগলো।
আমিঃ আরে কি করছেন । ছাড়ুন ।
ও আমাকে ছেড়ে দিলো ।
মেয়েটিঃ থ্যাংক ইউ সো মাচ । আমি ভাবছি তুমিও ওদের দলে যোগ দিবে ।
আমিঃ আরে সমস্যা নেই । আসুন আপনাকে বাসায় পৌছে দেই ।
আমি মেয়েটিকে ওর বাসায় পৌছে দিয়ে নিজেও বাসায় চলে এলাম । কারন ক্লাসের সময় পার হয়ে গেছে । সেদিন আর জান্নাতের সাথেও কথা হয় নি । পরের দিন কলেজে গিয়ে আমি তো অবাক । কারন,,,,,,,,
চলবে,,,,,,,,,,
অচেনা মেয়ে (পাট ৪)
385
Views
13
Likes
2
Comments
5.0
Rating

সকল মন্তব্যগুলো (2)
খুব ভালো
প্লিজ পরের পর্ব দেন। দ্রুত 🥰