পরিণীতা

তুলিয়া লইয়াছেন, সে একটা নিঃশ্বাস ফেলিয়া চুপ করিয়া রহিল।
মাসখানেক পরে একদিন সন্ধ্যার পর শেখর নিজের ঘরে কোচের কাং হইয়া একখানি ইংরেজি নভেল পড়িতেছিল।
বেশ মন লাগিয়া গিয়াছিল,
এমন সময় ললিতা ঘরে ঢুকিয়া বালিশের তলা হইতে চাবি লইয়া সাড়া শব্দ করিয়া দেরাজ খুলিতে লাগিল।

শেখর বই হইতে মুখ না তুলিয়াই বলিল কি?
ললিতা বলিল, টাকা নিচ্ছি।

শেখর হুঁ, বলিয়া পড়িতে লাগিল।
ললিতা আঁচলে টাকা বাধিয়া উঠিয়া দাঁড়াইল। আজ সে সাজিয়া গুজিয়া আসিয়াছিল, তাহার ইচ্ছা, শেখর চাহিয়া দেখে।

কহিল দশটা টাকা নিলুম শেখর দা।
শেখর আচ্ছা, বলিল, কিন্তু চাহিয়া দেখিল না,
অগত্যা সে এটা ওটা নাড়িয়ে লাগিল, মিছিমিছি দেরি করিতে লাগিল, কিছুতেই যখন ফল হইল না,

তখন ধীরে ধীরে বাহির হইয়া গেল।
কিন্তু গেলেই তো চলে না,
আবার তাহাকে ফিরিয়া আসিয়া দোরগোড়ায় দাঁড়াইতে হইল।

আজ তাহারা থিয়েটার দেখিতে যাইবে।
শখেরের বিনা হুকুমে সে যে কোথাও যাইতে পারে না, ইহা সে জানিত।

কেহই তাহাকে ইহা বলিয়া দেয় নাই___কিংবা কেন কি জন্য,এ সব তর্কও কোনদিন মনে উঠে নাই।

কিন্তু জীব মাত্রাই যে একটা স্বাভাবিক সহজ বুদ্ধি আছে,সেই বুদ্ধিই তাহাকে শিখাইয়া দিয়াছিল __ অপরে যা ইচ্ছা করিতে পারে, যেখানে খুশি যাইতে পারে, কিন্তু সে পারে না।

স্বাধীনও নয় এবং মামা -মামির অনুমতিই তাহার পক্ষে যথেষ্ট নয়।

সে দ্বারের অন্তরালে দাঁড়াইয়া আস্তে আস্তে বলিল আমরা যে থিয়েটার দেখতে যাচ্ছি।

তাহার মৃদুকণ্ঠ শেখরের কানে গেল না __ সে জবাব দিল না ।
ললিতা তখন আরো একটু গলা চড়াইয়া বলিল, সবাই আমার জন্য দাঁড়িয়ে রয়েছে যে!




40 Views
0 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this:
(0)

মন্তব্য

কোন মন্তব্য নেই