পরিনিতা

গুরুচরণ তাহার মাথায় হাত দিয়া সহস্র বলিয়া উঠিলেন, আমার এই মা টিকে যদি রাজার ঘরে দিতে পারতুম, তবেই জানতুম একটা কাজ করলুম।
ললিতা মাথায় হেট করিয়া চা ঢালিতে লাগিলো, তিনি বলিতে লাগলেন হ্যাঁ, মা, তোর দুঃখী মামার ঘরে এসে দিবারাত্রি খাটতে হয়, না ?
ললিতা মাথা নাড়িয়া বলিল, দিবারাত্রি খাটতে হবে কেন মামা ?
সবাই কাজ করে আমিও করি!
এইবার গুরুচরণ হাসিলেন। চা খাইতে খাইতে বলিলেন, হ্যাঁ ললিতা, আজ তবে রান্না বান্না কি হবে মা ?
ললিতা মুখ তুলিয়া বলিল,কেন মামা, আমি রাধবো যে!
গুরুচরণ চায়ের বাটিটা নামাইয়া ধরিয়া বলিলেন, সত্যি ?
সত্যি! মামিমা দেখিয়ে দেন, আমি কতদিন রাধী যে ___
বলিয়াই সে মুখ নিচু করিল। তাহার অবনত
মাথার উপর হাত রাখিয়া গুরুচরণ নিঃশব্দে আশীর্বাদ করিলেন। তাহার এক গুরুতর দুর্ভাবনা দূর হইল
এই ঘরটি গলির উপরেই। চা পান করিতে করিতে জানালার বাইরে দৃষ্টি পড়ায় গুরুচরণ চেচাইয়া ডাকিয়া উঠিলেন, শেখর নাকি ?
শোন শোন!
একজন দীর্ঘায়তন বলিষ্ঠ সুন্দর যুবা ঘরে প্রবেশ করল।
গুরুচরণ বলিলেন,বসো আজ সকালে তোমার কুড়িমার কান্ডটা শুনেছ বোধ হয় ?
শেখর মৃদু হাসিয়ে বলিল, কান্ড আবার কি, মেয়ে হয়েছে তাই ?
গুরুচরণ একটা নিঃশ্বাস ফেলিয়া বলিলেন, তুমি তো বললে তাই,
কিন্তু তাই যে কি সে শুধু আমিই জানি যে!
শেখর কহিল, ও রকম বলবেন না কাকা, খুরিমা শুনিলে বড় কষ্ট পাইবেন। তা ছাড়া ভগবান
76 Views
0 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this:
(0)

মন্তব্য

কোন মন্তব্য নেই