একটা মিষ্টি প্রেমের গল্প

রনি
রনি
লেখক
একটা মিষ্টি প্রেমের গল্প
আমি সাগর। বয়স ২১ বছর। একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে আমার চাকরী হয়েছে। এটাই আমার জীবনের প্রথম চাকরী। পোস্টিং হয়েছে আমার পাশের জেলায়।

জয়েন করার আগের দিন চাকরিস্থলে গেলাম। অফিসের সবাই আমাকে স্বাগত জানালো। অফিসের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার ফকরুল স্যার। সবাইকে আমার খুব ভালোই লাগলো। সেদিন রাতে অফিসের কোয়াটারেই থাকলাম। সেখানে জায়গা কম। তাছাড়া শুধু ব্রাঞ্চ ম্যানেজার ই অফিসের কোয়ার্টারে থাকতে পারবে। তাই অন্যান্যরা অফিসের পাশেই একটা বাড়িতে ভাড়া থাকে। খরচ অফিস ই বহন করে। খাবার মেসে খেতে হয়। একজন খালা আছে যিনি আমাদের অফিসের সবার রান্না করে দেন।

পরদিন আমিও একটা রুম ভাড়া নিলাম যে বাসায় অফিসের অন্যান্য কলিগরা থাকতো। কলিগরা সবাই পুরনো, অনেক অভিজ্ঞ। তাছারা বয়সেও সবাই আমার অনেক বড়। সবাই আমাকে কাজ শেখায় সাহায্য করে।

আমি খুব সহজেই সকল কাজ বুঝে নিয়েছি। ছোটবেলা থেকেই ১ টা জিনিস ১ বার দেখলে আমি পরে ওটা নিজেই পারতাম। আমি কম্পিউটারে খুব পারদর্শী ছিলাম। ব্রাঞ্চ মানেজার স্যার এটা বুঝতে পেরে তার কিছু কিছু কাজ আমাকে করতে দেয়। আমার কাজে একটু চাপ বেশি পরছিল তবুও আমি কাজটাকে উপভোগ করি। আজ শুনলাম আমরা যেখানে ভাড়া থাকি তার ওপর তলায় একটা পরিবার ভাড়া নিয়েছে। আমাদের অফিস দোতলায়। নিচের তলায় আমাদের স্টোর রুম। অফিসের কাজ শেষ করে নিচে নামলাম। দেখলাম ওই পরিবার ট্রাকে করে তাদের ঘরের আসবাবপত্র এনে লোক দিয়ে বাসায় তুলছে।

ওই পরিবারে পাঁচজন সদস্য। স্বামী স্ত্রী আর তাদের ২মেয়ে এক ছেলে। বড় মেয়ের বয়স মনে হলো ১১ বা বারো বছর। ছোট মেয়ের বয়স মনে হলো ৪ থেকে ৫ বছর। আর ছেলে ছোট। বয়স ২ বছর হবে।

বড় মেয়ের নাম তিশা। ছোট মেয়ে আরবি আর ছেলের নাম রায়হান।

তিশা পঞ্চম শ্রেনীতে পড়ে। তার বাবা এখানে কাছেই একটা স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিয়েছে।

একদিন বিকেল বেলা অফিসের ছাদে বসে আছি। কিছুক্ষণ পরে দেখলাম তিশা দোকান থেকে কিছু একটা কিনে নিয়ে ঘরে ফিরতেছে। আমাদের অফিসের নিচে দিয়েই ওই বাসায় যেতে হয়। আশেপাশে কেউ নেই। এক নজর তাকালাম ওর দিকে। দেখলাম গান গেয়ে নাচতে নাচতে বাসার দিকে যাচ্ছে । এমন দৃশ্য দেখে আমার ভালোই লাগছে। তারপর ওর দিকে মন না দিয়ে হেডফোন কানে লাগিয়ে গান শুনতে থাকি।

তিশার বাবা গার্মেন্টস ব্যাবসায়ী। আমাদের অফিেসর কাছেই তার কাপড়ের বড় দোকান আছে। সেই সুবাদেই পরিবারের সবাইকে এখানে নিয়ে এসেছে। তিশার বাবার নাম আতিকুল ইসলাম। সবাই আতিক ভাই বলেই ডাকে। তার বয়স খুব একটা বেশি না। এখনো তাকে দেখলে যুবক যুবক ই লাগে। অফিস শেষে তার দোকানে গিয়ে আড্ডা দিতে দিতে তার সাথে ভালো একটা সম্পর্ক হয়ে যায়।

আমার বিকালে ছাদে বসতে খুবই ভালো লাগে। প্রতিদিন অফিসের কাজ শেষ করে ছাদে বসি। মাঝে মাঝে ই তিশা কে খেয়াল করি। বাচ্চাদের মতো ওরকম গান গায়, কাউকে না দেখলে নাচতে নাচতে হাটে। গাছে একটা পাখি দেখলে তার সাথে কথা বলে, কোনো কুকুর বা বিড়ালের ছানা দেখলে ধরে তাকে আদর করে দেয়, কথা বলে। আমার এই ছোট ছোট বিষয় গুলো ভালো লাগতে থাকে।

এভাবে লুকিয়ে লুকিয়ে তার এমন মজার কান্ড দেখতে থাকি। সামনা সামনি এখনো কোনো কথা হয়নি তিশার সাথে। কি ই বা বলবো। ওকে এখনো ছোট বাচ্চা মনে হয়। এখনো বাচ্চাদের মতো দুষ্টুমি করে।

কিছুদিনের মধ্যে অফিসের ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের সকল কাজ শিখে নিয়েছি। অফিসে আমি স্যারের প্রিয় হয়ে গেলাম। পাশাপাশি অফিস পরিচালনার দক্ষতাও বাড়তেছে। পুরনো কলিগরা এমনটা দেখে একটু অন্যরকম ফিল করে । কিন্তু তারাও আমাকে ভালোবাসে তাই আমার ওপর রাগটা বেশিক্ষণ থাকে না। আমাদের এরিয়া ম্যানেজার স্যার সপ্তাহে একবার করে আসে ব্রাঞ্চ পরিদর্শন করতে। মাঝে মাঝে আমার কাজ খেয়াল করে বুঝতে পারি আমি। মাঝে মাঝে এসে ইচ্ছে করেই আমাকে কঠিন কিছু কাজ করতে দেয়। আমি কাজগুলো ঠিকই করে দেই।

এভাবে কেটে গেলো প্রায় একটা বছর।

কাল বাড়িতে যাবো বলে আমি অফিস থেকে ৫ দিনের ছুটি নিয়েছি। কেনাকাটা করার জন্য অফিস থেকে ২০ কিলোমিটার দুরে একটা শহরে যেতে হবে। ওখানে ভালো শপিং মল আছে। আমার এক কলিগ ও ছুটি নিয়েছে। তার বাড়ি যাওয়ার পথেই সেই শপিং মলটা। তার মোটরসাইকেল আছে। আমাকে বললো সাথে যেতে। পথে নামিয়ে দিয়ে যাবে। আমিও তার সাথে যেতে রাজি হলাম।

পরদিন সকালে রেডি হলাম যাওয়ার জন্য। কলিগ বশির ভাই মোটরসাইকেল নিয়ে অপেক্ষা করছে। আমি মোটরসাইকেলে উঠে বসলাম। তখনই দেখলাম তিশা ছোট একটা ব্যাগ নিয়ে মোটরসাইকেলের দিকেই আসছে। আমি ভাবলাম তিশা কিছু বলবে মনে হয়। কাছে এসেই ব্যাগটা মাঝখানে রেখে আমার পিছনে উঠে বসলো। আমি তো কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। একদম অবাক হয়ে গেলাম। যাকে এতো লুকিয়ে লুকিয়ে দেখি, এখনো একবারও কথা বলার সাহস হচ্ছিল না, সে আমার পাশেই বসেছে। এটা অন্য রকম নতুন একটা অনুভূতি। বশির ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম তিশা আমাদের সাথে যাবে নাকি?
বশির ভাই বললো, তিশা আর আমার বাড়ি পাশাপাশি। আমি ওর কাকা। তিশার ফাইভের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হয়েছে তাই ও একাই বাড়িতে যাবে। মাসখানেক পর আবার চলে আসবে।

আমার একটু খারাপ লাগলো এই ভেবে, তিশাকে ১ মাসের মধ্যে আর দেখতে পাবোনা।

কিছুদুর যেতেই টের পেলাম তিশা আমার কাধে একটা হাত রাখলো। আমি মনে মনে শিউরে উঠলাম। পছন্দের নারীর প্রথম স্পর্শ, সে এক নতুন অনুভূতি। তিশা মাঝে মাঝে কাঁধে হাত রাখছে আবার হাতটা সরিয়ে নিচ্ছে। হয়তো ওর লজ্জা লাগছিল আমার কাঁধে হাত রাখতে। এভাবে পুরোটা পথ কেটে যাচ্ছিলো। মনে মনে একটা গান খুব মনে পরছিল, এই পথ যদি না শেষ হয়, তবে কেমন হতো.....
মনে মনে ভাবছিলাম আমাদেরও এ পথ যদি শেষ না হতো। শপিং মলের সামনে আমাকে নামিয়ে দিয়ে বশির ভাই তিশাকে নিয়ে চলে গেলো। সেদিনও তিশার সাথে একটা কথাও বলতে পারিনি।

সেদিনের মতো শপিং শেষ করে তিশার কথা ভাবতে ভাবতে সব গুছিয়ে বাড়ি চলে আসলাম।

গল্পটি খুবই ইন্টারেস্টিং হবে। শেষ পর্যন্ত পড়বেন।

চলবে.........
পরবর্তী পর্ব.....
2.2K Views
51 Likes
11 Comments
3.8 Rating
Rate this:
(24)

মন্তব্য

সকল মন্তব্যগুলো (11)

Reader photo
Barna Halder
15-Aug-2025, 06:51 PM

darun Hoyeche 👍🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰👍

Reader photo
Sagor
10-Jan-2025, 04:56 PM

গল্পটা অনেক সুন্দর আমার ভালো লেগেছে

Reader photo
মহিদ
16-Nov-2024, 05:41 AM

আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো

Reader photo
মাহমুদুল
29-Sep-2024, 01:13 AM

আমি ডাউনলট করতে চাই

Reader photo
Na fi sa Tm
24-Sep-2024, 06:05 PM

ভালো লেগেছে গলপ টা

রনি
রনি
28-Sep-2024, 01:45 AM

Thanks for nice comment🥰

Reader photo
Princess soniya
03-Sep-2024, 08:41 PM

story ta ami video sarbo

Reader photo
Princess soniya
03-Sep-2024, 08:40 PM

গল্পটি আমি ভিডিওতে ছাড়বো,🤌🙂

রনি
রনি
13-Aug-2025, 11:41 PM

Ok

Reader photo
সায়েদ
14-May-2024, 08:13 PM

💔

রনি
রনি
21-Aug-2024, 11:26 AM

💔💔💔

Reader photo
নুসরাত
07-May-2024, 02:19 PM

অনেক সুন্দর হইছে গল্প টা 🥰🥰🥰🥰

রনি
রনি
07-May-2024, 08:00 PM

অনেক ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য টি করার জন্য 😍

Reader photo
রিশিতা
27-Apr-2024, 06:59 PM

এতো ছোট মেয়ে কেমন জানি লাগলো,

রনি
রনি
27-Apr-2024, 10:04 PM

আগে পুরো সিরিজ টা পড়েন। তারপর আপনার ধারণা পাল্টে যাবে।

Reader photo
Fazlul Haque Rafi
22-Apr-2024, 12:00 PM

ভালো লাগলো অনেক, waiting for next part 😊🩵

রনি
রনি
03-May-2024, 01:47 AM

✌✌✌✌