অনেক কথা ভাবতে ভাবতে সন্ধ্যার পরে ওকে পড়াতে আসছি। ইংরেজিতে প্যারাগ্রাফ লিখতে দিয়েছি একটা। তিশা লিখছে আর আমি ওর দিকে তাকিয়ে ওর মুড বোঝার চেষ্টা করছি।
কিছুক্ষণ পরে তিশা বললো......
তিশা : স্যার, একটা কথা জিজ্ঞেস করতে চাই ।
আমি : হুম বলো কি জানতে চাও?
তিশা : আগে বলেন রাগ করবেন না তো?
আমি : না রাগ করবো না। বলো।
তিশা : আপনার কি কারো সাথে সম্পর্ক আছে? না মানে বলতে চাচ্ছি আপনি কাউকে পছন্দ করেন কিনা?
আমি অবাক হয়ে ভাবতে লাগলাম এটা কেনো জিজ্ঞেস করলো। মাথায় কিছুই কাজ করছে না। ওকে তো আমি কিছু জিজ্ঞেস করতে চেয়েছি। ও ই কিনা আমাকে কিসব জিজ্ঞেস করছে। একটু ভেবে বলতে লাগলাম......
আমি : একথা তুমি কেনো জানতে চাও? এটা তো সম্পুর্ন ব্যাক্তিগত প্রশ্ন করেছো। আমি ভেবেছিলাম তুমি পড়ার বিষয়ে কোনো কথা জিজ্ঞেস করবে।
তিশা : স্যার যদি বলতে না চান তাহলে বলা লাগবেনা। যদি ইচ্ছে হয় বলেন।
আমি : হুম। একজনকে ভালো লাগে।
তিশা : মেয়েটি কে জানতে পারি?
আমি : না। এটা আমি বলতে পারবোনা। তোমাকে যেটা লিখতে দিয়েছি সেটা লিখো।
তিশা : প্লিজ স্যার। বলেন। কাকে আপনি পছন্দ করেন?
আমি : এটা আমি তোমাকে কিভাবে বলবো? পারবো না আমি। সবাইকে বলতে পারলেও তোমাকে একথা বলতে পারবোনা।
তিশা : কেনো স্যার? বলেন প্লিজ। আমি শুনতে চাই কে সেই মেয়ে।
আমি : এসব কথা বাদ দেও।
তিশা : এটা শুনেই এসব কথা বাদ দিবো। বলেন না। আচ্ছা নামের প্রথম অক্ষর টা বলেন।
আমি : প্রথম অক্ষর T
তিশা : স্যার T তে তানিয়া হয়, তিতলী হয়, তন্নি হয়। এদের মধ্যে কোনটা?
আমি : আর শুনতে হবেনা। এবার পড়াশোনায় মনোযোগ দাও।
তিশা : একবার নামটা বলেন। তারপর মন দিয়ে পড়বো।
তখনি তিশার মা আমার জন্য নাস্তা নিয়ে এসেছে। তিশা লেখা পড়া শুরু করলো। কিছুক্ষণ ওর মায়ের সাথে গল্প করলাম। একটু পরে তার রুমে চলে গেলো। যাওয়ার পরেই তিশা আবারও লেখা বাদ দিয়ে জানতে চাইলো কাকে পছন্দ করি।
আমি তো বলতে পারছি না। ভাবছি যদি ওর কথা বলি তাহলে ওর মাকে সব বলে দিলে মান ইজ্জত কিছু থাকবে না। বয়স কম বলে দিতেই পারে। তাই একটা ধমক দিয়ে থামিয়ে দিলাম। ও ধমক খেয়ে লেখা শুরু করলো।
আমিও মনে মনে ভাবলাম আজকের মতো বাঁচা গেল। কিন্তু পরের দিন কি হবে কে জানে?
একটা মিষ্টি প্রেমের গল্প (পর্ব ৪)
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
681
Views
22
Likes
7
Comments
3.6
Rating