ছদ্মবেশী লেখক (পর্ব ৬)

পলাশ
পলাশ
লেখক
গল্পঃ ছদ্মবেশী লেখক ।
পর্বঃ ০৬ (শেষ)
লেখকঃ পলাশ
"
"
তানহাঃ দেখো এসব নাটক বাদ দাও । আর তোমার সাথে আগে যেসব করছি তার জন্য সরি ।এখন এইভাবেই আমাকে প্রোপোজ করো ।

আমিঃ নাটক আমি করছি না । নাটক আপনি করছেন । আমি আপনার মতো অহংকারীকে কখনোই ভালোবাসবো না ।

তানহাঃ আমার মধ্যে কি নেই যা ওর মধ্যে আছে ? ওর আছে না আমার মতো রূপ না আছে আমার মতো টাকা । তাহলে কেন ওকে ভালোবাসবে ।

আমিঃ ওর মধ্যে অনেক সুন্দর মন আছে । যা আপনার মধ্যে নেই । ওর মধ্যে আপনার মতো কোনো অহংকার নেই । মানুষকে কখনো ছোট করে না আপনার মতো । আর ও আমাকে এই রূপ দেখে নয় ক্ষ্যাত চেহারা দেখেও আমার সাথে অনেক ভালো ব্যবহার করছে । মানুষের মতো ব্যবহার করছে যা আপনি পারেন নি । এই দিক থেকে আপনি ওর কোনো দিক থেকেই যোগ্য নন ।

সবাই আমার কথা শুনে হা করে তাকিয়ে আছে । তানহাও মাথা নিচু করে আছে ।

তানহাঃ আমাকে মাফ করে দাও । আমি অনেক বড় ভুল করেছি । আমাকে ভালো হওয়ার সুযোগ দাও ।

আমিঃ মানুষকে ভালোবাসতে শিখুন । তাহলে আপনা আপনিই ভালো হয়ে যাবেন । ধনী গরীব সবাইকে এক চোখে দেখুন তাহলেই প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠতে পারবেন । কিছু ভুল বললে মাফ করবেন । ভালো থাকবেন । আল্লাহ্ হাফেজ ।

বলেই অনিয়াকে নিয়ে হনহন করে চলে এলাম । পিছনে তানহা অনেক ডাকছে কিন্তু তার আর কোনো কথা শুনি নি ।

অনিয়াকে আগেই বলেছিলাম আমি হারাম রিলেশনে জড়াতে চাই না । বিয়ে করে তারপর প্রেম করবো । তাই আমাদের দুই পরিবারের সম্মতি নিয়েই আমাদের বিয়ে ধুমধাম করে হয়ে যায় । আজ আমার বাসর রাত ।

নতুন বধুর ন্যায় বিছানার উপর গিয়ে বসে আছে অনিয়া ।

আমি রুমের দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করলাম ।বিছানার উপর তাকাতেই সে মুচকি হাসি দেয় । আমার বউটা নতুন বধু হয়ে মাথায় ঘোমটা দিয়ে বিছানার উপর বসে আছে।

আমি হেটে বিছানার উপর গিয়ে অনিয়া এর পাশে বসি । অনিয়া আগের মতোই বসে আছে । আমি অনিয়া এর সামনে গিয়ে অনিয়ারের মাথা থেকে ঘোমটা টা সরিয়ে দেই ।

আমিঃ মাশাআল্লাহ,, এতো সুন্দর বউ আমার।ফিদা হয়ে গেলাম।

অনিয়া লজ্জা পায় । মুখ ফুটে বলে,,,,

অনিয়াঃতোমাকেও অনেক সুন্দর লাগছে ।

আমিঃ যাক শুনে ভালো লাগলো ।তোমার জন্যে আমার পক্ষ থেকে একটা গিফট আছে ।

আমি পকেট থেকে একটা ডায়মন্ডের আংটি বের করলাম । আর বললাম

আমিঃ এটা তোমার জন্য ।

অনিয়াঃঅনেক সুন্দর । পড়িয়ে দাও ।

অনিয়াঃ আমার দিকে নিজের হাত বাড়িয়ে দেয় ।
আমি অনিয়ারের হাতের অনামিকায় রিং টা পড়িয়ে সেখানে একটা চুমু দেই । তারপর বললাম,,,,,,

আমিঃ অনিয়া আজকে কী আমাকে তোমাতে হারাতে দিবে,,,তোমাতে মিশে যেতে দিবে,,,,তোমাতে ডুবে যেতে দিবে,,,তোমাকে ভালোবাসতে দিবে ??

অনিয়া মুচকি হেসে মাথা নাড়ায়।আমি তার জবাব পেয়ে অনিয়াকে নিজের কাছে টেনে নেই । অনিয়ারে মিষ্টি ঠোঁট জোড়ায় নিজের ঠোঁট জোড়া ডুবিয়ে দেই ।

কিছুক্ষণ অনিয়া পলাশ এর ঠোঁটের উষ্ণ ভালোবাসায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে । আমে অনিয়া ঠোঁট থেকে সরে এসে অনিয়া এর পেটে তার ঠোঁট ছোয়াই । আমার এরকম স্পর্শে অনিয়া কেঁপে কেঁপে উঠে ।

আমি অনিয়াএর সারা শরীর জুড়ে তার ঠোঁটের ছোঁয়া দিতে থাকি । অনিয়াকে নিয়ে ভালোবাসার খেলায় মেতে উঠি । অনিয়াও এই ভালোবাসার খেলায় পূর্ন সংজ্ঞ দেয় ।

সকালবেলা,,,,,

আমার ঘুম ভেঙে গেলে নিজের বুকে নরম ভারী কিছু অনুভব করি । আমি বুঝতে পারি সে কে?আমি আরো শক্ত করে অনিয়াকে আমার বুকে জড়িয়ে নেই । অনিয়াও হেসে আমার বুকে মিশে যেতে থাকে।

আমিঃ গুড মর্নিক(হেসে)

অনিয়াঃ গুড মর্নিক।

আমিঃ রাতে ঘুম কেমন হয়েছে?আমার কিন্তু অনেক ভালো হয়েছে (দুষ্টুমি হেসে)

অনিয়াঃ সারারাত ঘুমাতে দিলে কখন ? সারারাত তো জ্বালিয়ে মারলে আমাকে।

আমিঃ আহা জ্বালালাম নাতো ভালোবাসা দিলাম,,,ভালোবাসা নিলাম।(হেসে)

অনিয়াঃ হইছে আর বলতে হবেনা । লজ্জা লাগে আমার।

আমিঃ ওলে আমার লজ্জাবতী বউ রে ।

আমি অনিয়াকে কোলে নিয়ে ওয়াশরুমে চলে যাই ।অনিয়া মানা করলেও আমি শুনিনি । ওয়াশ রুম থেকে দুজনে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে আসি । অনিয়া তোয়ালে পড়ে বেরিয়ে আসে । কারন আমি অনিয়াকে শাড়ি নিজ হাতে শাড়ি পড়িয়ে দিবো ।

আমি শাড়ি নিয়ে খুব সুন্দর করে অনিয়াকে পড়িয়ে দিয়ে অনিয়া এর পেটে ডিপলী চুমু খাই । আমার ছোঁয়ায় অনিয়া চোখ বন্ধ করে ফেলে । আমি আরো কয়েকটি ছোট্ট চুমু দিয়ে সরে আসি ।

আমিঃ এখন থেকে রোজ আমি শাড়ি পড়িয়ে দিবো । আর এভাবে চুমু খাবো (হেসে)

অনিয়াঃ রাইটার মানুষ রোমান্টিক হয় জানতাম কিন্তু এতোটা হয় তা জানতাম না । তুমে পড়ানোর আগেই আমি পড়ে নিবো । আমি বুঝিনা মনে করছো সব তোমার চুমু খাওয়ার ধান্দা ।

আমি অনিয়াকে একটানে নিজের কাছে নিয়ে আসি ।অনিয়াএর কোমড় চেপে ধরে বলি,,,,

আমিঃ এমনটা ভুলেও করবে না । শাড়ি খুলে আবার পড়িয়ে দিবো । সাথে শাস্তিও পেতে হবে তোমাকে । আর চুমু খাওয়ার জন্য ধান্দা করতে হবেনা এমনিতেও খেতে পারি(হেসে)

অনিয়াঃ দেখা যাবে । চলো ব্রেকফাস্ট করতে যাই।

আমিঃ হুম ।

ব্রেকফাস্ট শেষ করে,অনিয়া আর আমি দুজনেই রুমে চলে আসি । অনিয়া ছাদে যাওয়ার জন্য বায়না ধরে ।

অনিয়াঃ চলো ছাদে যাই।

আমিঃ আচ্ছা চলো।

অনিয়াঃ কোলে নাও আমাকে।

আমিঃ না বললেও নিতাম । (হেসে)

আমি অনিয়াকে কোলে তুলে ছাদে নিয়ে এসে দোলনায় বসাই । আমিও পাশে বসি । অনিয়া তার দুই হাত দিয়ে আমার এক হাত ধরে আর কাঁধে মাথা রাখে ।

আমিঃ মিম ভালোবাসি তোমাকে,,,অনেক বেশি ভালোবাসি ।

অনিয়াঃ আমিও তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসি পলাশ । আমি আজীবন তোমার সাথে থাকতে চাই । সবসময় আমাকে ভালোবাসবে তো?

আমি অনিয়াকে দোলনা থেকে উঠিয়ে নিজের কোলে বসাই । অনিয়া এর কাধে নিজের থুতনি রাখি ।

আমিঃ ভালোবাসি তোমাকে সবসময় নিজের কাছেই তোমাকে রাখবো । সবসময় তোমাকেই ভালোবাসবো ।

অনিয়া আমার বুকে নিজের মাথা মিশায় । আমার দুই হাত দিয়ে অনিয়াকে জড়িয়ে ধরে নিজের সাথে আরো মিশিয়ে নেই ।

সমাপ্ত..............

গল্পটার সাথে শেষ পর্যন্ত ছিলেন তাদেরকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ এবং ভালোবাসা । আর হ্যা গল্পটা আপনাদের কাছে কেমন লাগলো,,,,আশা করি কমেন্ট করে জানাবেন।
হ্যাঁ পলাশকে ফলো করতে ভুলবেন না
152 Views
6 Likes
0 Comments
5.0 Rating
Rate this:
(2)

মন্তব্য

কোন মন্তব্য নেই