কি করে বলবো তোমায় পর্ব (০৪)
বসের কেবিনের দরজায় কড়া নেড়ে ভদ্র ছেলের মতো হিয়ান বললো-
হিয়ান: Boos. Can I come in!!
রাধিকা: Yes come.
বসের থেকে পারমিশন পেয়ে হিয়ান দরজাটা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলো।
(হিয়ান তখনো জানে না, ভেতরে ঢোকার সময় তার সাথে যার ঝগড়া হয়েছিল সেই তার বস। আর বস মানে রাধিকাও জানে না হিয়ান তার অফিসে ইন্টারভিউ দিতে এসেছে।।)
সে ভেতরে প্রবেশ করে দেখল তার বস (রাধিকা) চেয়ারটা ঘুরিয়ে উল্টো দিকে বসে আছে। সে ভেতরে এসেছে দেখে রাধিকা চেয়ারটা আবার সামনের দিকে ঘুরিয়ে সামনে তাকাতেই দু'জন দু'জনকে দেখে চমকে উঠে এবং একসাথে বলে-
হিয়ান, রাধিকা- আপনি, আপনি এখানে কি করছেন?
বলে দু'জন দু'জনের দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
হিয়ান খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে বুঝতে পারল যে ইনিই এই অফিসের বস। এটা মনে হতেই সে অজানা একটা ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে উঠলো,, এবং সে পুরোপুরি নিশ্চিত হলো এবারও তার চাকরিটা হবে না! আবার তাকে আশাহত হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হবে!
ওদিকে রাধিকাও ততক্ষণে বুঝে গেছে হিয়ান তার অফিসে ইন্টারভিউ দিতে এসেছে! সে এটা বুঝতে পেরেও কেন জানি না বোঝার ভান করে বলল-
রাধিকা: কি হলো চুপ করে আছেন যে! কি জন্য এখানে এসেছেন বলুন!
হিয়ান: ইন্টারভিউ দিতে!
রাধিকা: ও... তা পড়ালেখা কতদূর করেছেন?
হিয়ান: MBA কমপ্লিট করলাম এবার।
রাধিকা: পরিবারে কে কে আছে আপনার!
রাধিকা তার সাথে এভাবে কোমল স্বরে কথা বলছে দেখে কিছুটা অবাক হলো হিয়ান। সে মনে মনে বলতে লাগলো,, না.. মেয়েটাকে যতটা খারাপ ভেবেছিলাম ততটা সে নয়! বোধহয় ঠিকভাবে ইন্টারভিউ দিতে পারলে চাকরিটা পেয়ে যাব.....
রাধিকা: কি হলো, কথা কানে যায় নি নাকি!
রাধিকার ধমক শুনে হিয়ানের চমক ভাঙলো! ইতস্তত করতে করতে সে বললো-
হিয়ান: ম.. ম.. মা আছে,, দাদা আছে,, বৌমনি আছে,, ভাইঝি আছে,, আর আমি আছি!
রাধিকা: হুম বুঝলাম,, এবার আসি মূল প্রসঙ্গে।
আচ্ছা, আপনি যে এই অফিসে ইন্টারভিউ দিতে এসেছেন,, আপনি কি মনে করেন এই অফিসে চাকরি পাওয়ার জন্য আপনি যোগ্য।
হিয়ান: দেখুন ম্যাম,, চাকরি পাওয়ার জন্য কে যোগ্য,, কে অযোগ্য,, সেটা ডিপেন্ড করছে আপনার ওপর! আপনি আমার ব্যাবহার-আচরণ, মেধা, সার্টিফিকেট দেখে যদি আপনার মনে হয় আমি এখানে চাকরি পাওয়ার যোগ্য,, তাহলেই আমি এখানে চাকরি পাওয়ার যোগ্য! আর আপনি আমার ব্যাবহার-আচরণ, মেধা, সার্টিফিকেট দেখে যদি আপনার মনে হয় আমি এখানে চাকরি পাওয়ার অযোগ্য,, তাহলে আমি এখানে চাকরি পাওয়ার অযোগ্য! আশা করি আমার কথা বুঝতে পেরেছেন!
হিয়ানের কথাগুলো শুনে রাধিকার ঠোঁটের কোণে কিছুটা হাসি ফুটে উঠলো।
রাধিকা: দেখি, আপনার সার্টিফিকেট।
হিয়ান: (রাধিকার দিকে সার্টিফিকেটগুলো এগিয়ে দিয়ে) এই নিন ধরুন।
হিয়ানের হাত থেকে সার্টিফিকেটগুলো হাতে নিয়ে সেগুলো (সার্টিফিকেটগুলো) দেখতে দেখতে রাধিকা ম্লান হেসে বললো-
রাধিকা: বাহ্, আপনি তো দারুণ স্টুডেন্ট ছিলেন। সত্যি,, আমিও বোধহয় এত ভালো স্টুডেন্ট ছিলাম না!
আপনার জব কনফার্ম। কাল থেকেই জয়েন করতে পারেন।
হিয়ান: ধন্যবাদ ম্যাম। আর......
রাধিকা: আর... কি!!
হিয়ান: আর তখন আপনার সাথে ওরকম আচরণ জন্য আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাইছি!
আমি ভেবেছিলাম,, আপনি হয়তো খুব অহংকারী। কিন্তু এখন দেখছি আপনি খুব ভালো একজন মেয়ে।
হিয়ানের কথাগুলো শুনে রাধিকা মনে মনে বলতে লাগলো,, আমি যে কত ভালো,, দু'দিন গেলেই টের পাবে বাছাধন। কি ভেবেছো তুমি,, তখনকার তোমার ওই আচরণটা আমি ভুলে গেছি,, না,, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তোমার ওই আচরণের প্রতিশোধ না নিতে পারছি ততক্ষণ পর্যন্ত আমার পেটের ভাত হজম হবে না!
আর তুমি কি ভেবেছো,, আমি এমনি এমনি তোমায় এই চাকরিটা দিয়েছি। না গো,, দু'দিন ওয়েট করো,, তারপর বুঝতে পারবে এই রাধিকা সেন কি জিনিস।
তুমি এখনো রাধিকা সেনকে চেনো না!
যেই রাধিকা সেনের নাম শুনলে সবাই পেন্ট ভিজিয়ে ফেলে সেই রাধিকা সেনকে তুমি আজ যা নয় তাই বলে অপমান করেছো। এর ফল ভোগ করার জন্য প্রস্তুত হও।
হিয়ান: ম্যাম,, তাহলে আজ আমি আসি।
হিয়ানের গলা পেয়ে রাধিকার চমক ভাঙলো। ইতস্তত গলায় বলতে লাগলো-
রাধিকা: হ্যাঁ,, ও হ্যাঁ যান! আর কাল সকাল সাড়ে দশটার মধ্যে অফিসে এসে হাজির হতে হবে কিন্তু!
হিয়ান: অবশ্যই ম্যাম! ভালো থাকবেন....
কথাটা বলে হিয়ান রাধিকার কেবিন থেকে বেরিয়ে বাইরে এলো। মনে মনে বলতে লাগলো,, যাক বাবা! এবার তো চাকরিটা পাওয়া গেল। এবার থেকে আর প্রতি রাতে দাদা-বৌমনির ঝগড়া হবে না। এবার আমাদের একটা হ্যাপি ফ্যামিলি হবে। যেখানে কোনো দুঃখ-কষ্ট থাকবে না! থাকবে শুধু সুখ! শুধুই সুখ। আর কিচ্ছু নয়!
কথাগুলো বলতে বলতে হিয়ান অফিস থেকে বেরিয়ে বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে বাসে উঠে পড়লো।
ঢাকায় এসে প্রথমেই আয়ান হিয়ানের জন্য টিকিট কেটে রেখেছিলো। যার কারণে হিয়ানকে এখন আর টিকিট কাউন্টারে গিয়ে টিকিট কাটার জন্য আধ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হতো না!
হিয়ান বাসে ওঠার কুড়ি মিনিট পর বাস ছেড়ে দিল।
এবার বাস গিয়ে পৌঁছাবে লক্ষীপুরে।
(আর একটা কথা,, এই গল্পে বর্ণিত কাল, স্থান, সময় পুরোটাই কাল্পনিক। বাস্তবতার সাথে গল্পের কোনো মিল নেই।)
74
Views
23
Likes
2
Comments
5.0
Rating

সকল মন্তব্যগুলো (2)
osadharon
দারুন একটা গল্প