আয়নার প্রতিচ্ছবি (পাঠ ১)

পলাশ
পলাশ
লেখক
আয়নার প্রতিচ্ছবি (পাঠ ১)
নতুন বাড়িতে পা রাখতেই নীলার মনে হলো, কিছু একটা অদ্ভুত রয়েছে এখানে। যেন বাড়ির দেয়ালের ফাঁকে ফাঁকে লুকিয়ে থাকা কোনো রহস্য তাকে চোখ রাঙাচ্ছে। বাড়ির পুরোনো কাঠের মেঝে, ম্লান আলো, আর অস্পষ্ট গন্ধ নীলার মনে অদ্ভুত এক অস্বস্তি এনে দিলো।

ঘরে ঢুকেই তার চোখ আটকে গেলো কোণের বিশাল আয়নায়। আয়নাটি ছিল অসাধারণ সুন্দর, কিন্তু বয়সের ছাপ স্পষ্ট। আয়নার কাঠের ফ্রেমে অজস্র কারুকাজ করা, যা একসময়ের সমৃদ্ধশালী কোনো শিল্পীর নিপুণ হাতের কাজ বলে মনে হয়। তবে আয়নাটির কাঁচে অল্প ঝাপসা দাগ দেখা যায়, যেন অনেক দিন কেউ এটি পরিষ্কার করেনি।

নীলা কৌতূহলী হয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ালো। নিজের প্রতিচ্ছবি দেখতে গিয়ে হঠাৎ সে একটু চমকে উঠলো। আয়নায় তার চেহারা যেন একটু অন্যরকম দেখাচ্ছে।

কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর আয়নার প্রতিচ্ছবি হালকা হেসে উঠলো। নীলার মুখে তখনো তেমন কোনো ভাবান্তর হয়নি, তবুও আয়নার প্রতিচ্ছবির সেই অস্বাভাবিক হাসি স্পষ্ট হয়ে উঠলো।

নীলা অবাক হয়ে পেছনে তাকালো, কেউ নেই। আবার আয়নার দিকে ফিরলে, প্রতিচ্ছবির ঠোঁট থেকে শব্দ বেরিয়ে আসলো, "তুমি আমাকে চেনো না, কিন্তু আমি তোমাকে অনেক আগে থেকেই চিনি।"

নীলা মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে গেলো, তার মনের ভেতর ভয় ঢুকে পড়লো। আয়না কি কথা বলছে? নাকি তার কল্পনা?

"কে তুমি?" কাঁপা কাঁপা গলায় নীলা প্রশ্ন করলো।

প্রতিচ্ছবি ধীরে ধীরে স্পষ্ট হলো। সেই প্রতিচ্ছবির চোখে ছিল অদ্ভুত এক আলো, আর ঠোঁটের কোণে সেই একই রহস্যময় হাসি। "আমি সেই, যে এখানে বন্দি ছিলাম যুগের পর যুগ। এখন তুমি আমার মুক্তির পথ।"

নীলা আতঙ্কিত হয়ে পড়লো, কিন্তু তার পা যেন মাটিতে আটকে গেলো। আয়না থেকে কেমন যেন এক আকর্ষণ তাকে নিজের দিকে টেনে নিচ্ছে। "এটা সম্ভব না," নীলা নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করলো।

প্রতিচ্ছবি আবার বললো, "মুক্তি পেতে হলে তোমাকে আমার জগতে আসতে হবে।"

নীলার মন বিভ্রান্ত, সে জানে না কী করবে। আয়নার সামনে থেকে সরতে চেয়েও সে পারছে না। হঠাৎ, ঘরের দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে তার ধ্যানভঙ্গ হলো। সে পেছনে তাকিয়ে দেখলো, মা দরজায় দাঁড়িয়ে।

"নীলা, তুমি এখানে কী করছো?" মায়ের কণ্ঠে চিন্তার সুর।

"কিছু না মা," নীলা চেষ্টা করলো স্বাভাবিক হতে। আয়নার দিকে আর একবার তাকাতে সাহস পেলো না। কিন্তু মনের গভীরে সেই প্রতিচ্ছবির ভৌতিক হাসি এখনও ছাপ রেখে গেলো।

(চলবে...)।
704 Views
15 Likes
4 Comments
4.1 Rating
Rate this:
(8)

মন্তব্য

সকল মন্তব্যগুলো (4)

Reader photo
somaiya
13-Dec-2024, 04:25 PM

valo

পলাশ
পলাশ
14-Dec-2024, 10:12 PM

ধন্যবাদ

Reader photo
sadiya tasnim
16-Oct-2024, 06:59 PM

nice 👍

পলাশ
পলাশ
16-Oct-2024, 08:47 PM

ধন্যবাদ

Reader photo
রুনা আক্তার
18-Sep-2024, 05:31 PM

পর্ব২

পলাশ
পলাশ
18-Sep-2024, 06:35 PM

ধন্যবাদ ম্যাম

Reader photo
মুনতাহা
09-Sep-2024, 06:26 AM

আমার খুব ভালো লেগেছে

পলাশ
পলাশ
09-Sep-2024, 09:14 AM

ধন্যবাদ ম্যাম