মামাতো বোন যখন রোমান্টিক বউ (পর্ব ১০)
পরদিন সকালে ঘুম ভাঙলো তিথির ডাকাডাকিতে! চোখ খুলতেই দেখতে পেলাম আমার দিকে প্রচন্ড রাগী লুক নিয়ে তাকিয়ে আছে সে! মনে হয় আমাকে অনেকক্ষন ধরেই ডাকছে। আসলে কাল রাতে ঘুমটা একটু দেরিতেই এসেছিল। তাই হয়তো উঠতে এত লেট হয়ে গেল! আর এমনিতেও আমি দশটার আগে ঘুম থেকে উঠিই না!
আমি চোখ খুলেছি দেখে সে রাগী কণ্ঠে বলতে লাগল-
তিথি: এই,, তুই কি কুম্ভ কর্ণের আরেক ভাই নাকি রে!
আমি: কেন আমাকে দেখে কি তোর মনে হয় আমি কুম্ভ কর্ণের আরেক ভাই! (অবাক হওয়া কণ্ঠে)
তিথি: তা নয় তো কি! কতক্ষণ ধরে তোকে ডাকছি! তুই তো সেই কুম্ভ কর্ণের মতোই ঘুমিয়েই চলেছিস, ঘুমিয়েই চলেছিস!
আমি: ঠিক আছে, ঠিক আছে! নে আমিই কুম্ভ কর্ণের আরেক ভাই! এখন বল আমায় কেন এভাবে ডাকছিস!
তিথি: কেন মানে! অফিসে কে যাবে শুনি!
আমি: ও.... অফিস। আজ না হয় ছুটি নিয়ে নেব। কিন্তু প্লিজ তুই এভাবে আমার ঘুম মামাকে নষ্ট করিস না।
তিথি: ঘুম মামা মানে! ঘুম আবার তোর মামা হয় কি করে!
আমি: যেভাবেই হোক,, তুই এখন এখান থেকে যা তো! আমি ঘুমোবো......
তিথি: এখন কোনো ঘুম হবে না! এখন ঘুম থেকে উঠে সোজা অফিসে যেতে হবে। আর তুই যদি আমার কথা না শুনিস তাহলে......
এই পর্যন্ত বলে থেমে গেল তিথি! আমি কিছুটা উস্কিয়ে দিয়ে বললাম-
আমি: তাহলে তুই কি করবি বল! আমিও শুনতে চাই তুই আমার কিইইইই করিস।
তিথি: দাঁড়া,, সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে আঙ্গুল কি করে বাঁকাতে হয় সে আমার খুব ভালো করে জানা আছে। আঙ্কেল,, আঙ্কেল!
তিথি চিৎকার করে বাবাকে ডাকছে! আমি তড়িঘড়ি করে উঠে ওর মুখ চেপে ধরে বললাম-
আমি: এই তুই এত আঙ্কেল আঙ্কেল,, আন্টি আন্টি করিস কেন রে!
তিথি: এই তো বাবু,, উঠে পড়েছো দেখা যাচ্ছে! এখন যাও ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে নাও। আমি তোমার জন্য ব্রেকফাস্ট তৈরি করেছি। (তিথির মুখ থেকে আমার হাতটা সড়িয়ে নিয়ে)
তিথির মুখে এই প্রথমবার তুমি ডাক শুনলাম। শুনে সত্যিই প্রাণটা জুড়িয়ে গেল। ভালোবাসার মানুষের কাছে তুমি ডাক শুনতে যে এত ভালো লাগে তা আজ বুঝতে পারলাম।
আমি: ঠিক আছে বউ। আমি ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে আসছি। তুমি খাবার বাঁড়ো।
এই বলে আমি তিথির গালে একটা চুমু দিয়ে একটা টাওয়াল নিয়ে ওয়াশ রুমের দিকে চলে গেলাম।
*
বেশ কিছুক্ষণ পর ফ্রেশ হয়ে আবার রুমে চলে এলাম। রুমে এসে দেখি বিছানার ওপর আমার পোশাক রাখা। মনে হয় তিথি'ই রেখেছে। সত্যি'ই কি ভাগ্য আমার! কাল পর্যন্ত নিজের পোশাক নিজেকেই বের করে পড়তে হতো,, আর আজ একটা মানুষ যত্ন করে আমার পোশাক বের করে রেখেছে,, আমি পড়বো বলে!
ম্লান হেসে আমি বিছানার ওপর রাখা শার্ট, পেন্ট আর ঘড়িটা পড়ে নিলাম।
*
রেডি হয়ে নিচে নেমে আসতেই দেখলাম মিম ডাইনিং টেবিলে বসে আছে। আমাকে দেখে ও ছুটে এসে আমাকে টানতে টানতে ডাইনিং টেবিলের সামনের একটি চেয়ারে বসিয়ে দিল। লক্ষ্য করলাম, তিথি আমার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মনে হয় মিমের এমন আচরণে ও রেগে গেছে। সাথে আমিও প্রচন্ড রেগে গেছি মিমের ওপর।
তিথি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতেই আমার দিকে তাকিয়ে থেকে আমাকে ব্রেকফাস্ট দিল। আমি কোনোদিকে না তাকিয়ে গপগপ করে খেতে শুরু করলাম।
খাওয়া শেষ হলে সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে অফিসের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়লাম। একটা রিকশায় উঠে যেতে লাগলাম নিজের গন্তব্য স্থানের দিকে!
*
অফিসের ভেতরে ঢুকে নিজের ডেস্কে এসে হাজির হয়েছি এমন সময় আমার একজন অপরিচিত কলিগ আমাকে উদ্দেশ্য করে মৃদু হেসে বলল-
কলিগ: মি. অরণ্য,, "বস বলে গেছেন" আপনি অফিসে এলে আপনাকে একটু ওনার কেবিনে যেতে।
আমি: কেন?
কলিগ: তা তো জানি না! আপনি ওনার কেবিনে যান! তাহলেই জানতে পেরে যাবেন।
আমি: ঠিক আছে,, আমি যাচ্ছি।
মাথায় একরাশ চিন্তা নিয়ে বসের কেবিনের দিকে এগিয়ে যেতে লাগলাম। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম ১০:০০ টা বাজে। তার মানে আসতে লেট হয়নি। তাহলে কেন উনি আমায় ডেকেছেন।
*
হাঁটতে হাঁটতে বসের কেবিনের দরজার সামনে এসে দাঁড়ালাম। দরজায় নক করে কাঁপা কাঁপা গলায় বললাম-
আমি: আ. আ. আসবো বস.
বস: হ্যাঁ, এসো। (একটা ফাইল হাতে নিয়ে)
আমি: বস আমায় ডেকেছিলেন?
বস: হ্যাঁ. (ফাইলটার দিকে তাকিয়ে)
আমি: কেন?
বস: এই নাও,, এই ফাইলটা ধরো! (আমার দিকে ফাইলটা এগিয়ে দিয়ে)
আমি ফাইলটা হাতে নিতেই উনি আবার বললেন-
বস: ২৪ ঘন্টা সময় দিলাম। এর মধ্যে ফাইলের কাজ কমপ্লিট করে আমায় এনে দিতে হবে! তাহলে'ই বুঝবো তোমাকে দিয়ে আমার অফিসের উন্নতি হবে কিনা!
আমি: ঠিক আছে বস. আমি কালকের মধ্যে ফাইলের কাজ কমপ্লিট করে আপনাকে এনে দেব।
বস: Good. এবার তাহলে তুমি যেতে পারো!
বসের পারমিশন পেয়ে আমি ওনার কেবিন থেকে নিজের ডেস্কে ফিরে এলাম।
*
বেলা গড়িয়ে বিকেলের সূচনা পর্ব শেষ হচ্ছে। আরেকটু পরেই সন্ধ্যে নেমে আসবে। আমি সেই ফাইলটা হাতে নিয়ে বসে আছি। এমন সময় ফোনটা হঠাৎ বেজে উঠলো। এমনিতেই ফাইলটা নিয়ে আমি চিন্তিত হয়ে রয়েছি। তার ওপর কে যে আবার ফোন করছে। বেশ অনেকটা বিরক্তি নিয়ে ফোনটা হাতে নিলাম। কলটা রিসিভ করতেই ভেসে আসতে লাগলো মায়ের কণ্ঠস্বর........
মা: অরণ্য,, তুই তাড়াতাড়ি বাড়িতে ফিরে আয়!
আমি: কেন মা!
মা: তিথিকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
আমি: What. দেখো হয়তো আশেপাশেই আছে!
মা: না, সবাই খুঁজছে! কিন্তু কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না! আমি কিছু জানি না! তুই তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে আয়।
আমি: Ok. আমি আসছি।
ফোনটা আবার পকেটে ঢুকিয়ে নিয়ে দৌড়ে বসের কেবিনের দিকে পা বাড়ালাম।
*
আমি: বস. আসবো।
বস: হুম, আসুন।
আমি: বস. আমার এক্ষুনি ছুটি লাগবে।
বস: কেন! এক্ষুনি ছুটি লাগবে কেন!
আমি: বস, আমার স্ত্রীকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমাকে এক্ষুনি বাড়ি ফিরতে হবে!
বস: ঠিক আছে. তবে ফাইলের কাজ কালকের মধ্যেই কমপ্লিট করতে হবে।
আমি: ঠিক আছে বস. তাহলে আমি আসি।
বসের কাছ থেকে ছুটি নিয়ে হাতের ফাইলটা নিয়ে তাড়াতাড়ি করে অফিসের বাইরে বেরিয়ে এলাম। একটা রিক্সায় উঠে বাড়ির দিকে রওনা দিলাম।
প্রায় আধঘণ্টা পর বাড়ির সামনে এসে পৌঁছালাম। রিকশাওয়ালার ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে হাতের ফাইলটা নিয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলাম। ভেতরে প্রবেশ করে দেখি সারাটা বাড়ি অন্ধকার হয়ে রয়েছে। কারো কোনো সাড়া শব্দ নেই! ভিষণ ভয় পেয়ে আমি মা, বাবা, চাচচু, চাচি সবাইকে ডাকতে লাগলাম। কিন্তু কারো আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি না।
চলবে................................
পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন। এই পর্বটা কেমন হয়েছে অবশ্যই রিভিউ দিয়ে জানাবেন।
আর প্লিজ কেউ অযথা রেটিং কমাবেন না। লেখকের লেখাকে সম্মান দিয়ে চলার চেষ্টা করবেন।
ধন্যবাদ.......................................
168
Views
27
Likes
6
Comments
5.0
Rating

সকল মন্তব্যগুলো (6)
প্রকাশের ধরনে ভাষা ঔজ্জ্বল্যতা কম ।
চমৎকার
পরের পরব চাই
পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম
সুন্দর হয়েছে
পরের পর্ব দেও তাড়াতাড়ি 🥰🥰