(৬ষ্ঠ পর্বের পর থেকে................)
আব্বু বললেন -
আব্বু: এখন পর্যন্ত তো শুধুমাত্র দুটো ধাপ্পরই মেরেছি। তোমার ছেলে আজ যা করেছে তার জন্য তো তাকে কেটে টুকরো টুকরো করে গাঙ্গে ভাসিয়ে দেওয়া উচিত।
মা: কেন? কি করেছে আমার ছেলে!
আব্বু: "কি করেছে" বলো কি করেনি তোমার ছেলে।
মা: এই, তুমি ঠিক বলতে চাচ্ছো একটু খোলসা করে বলো তো।
আব্বু: কোন মুখে বলবো বলো তো! তোমার ছেলে কি কথা বলার জন্য আমার মুখ রেখেছে নাকি!
মা: মানে!
আব্বু: মানে তোমার আদরের ছেলে আজ আমার তিথি মায়ের সাথে....…. ছিঃ ছিঃ ছিঃ ছিঃ ছিঃ আমার ভাবতেই ঘৃণা হচ্ছে এটা আমার ছেলে।
আব্বুর কথাটা শুনে আমার পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাওয়ার জোগাড়। এসব কি বলছে আব্বু! যেই তিথিকে আজ পর্যন্ত আমি একটা কিস পর্যন্ত করলাম না সেই তিথিকে আমি এসব...…. এবার সত্যিই আমি পাগল হয়ে যাব। এবার আমাকে মেন্ডাল হসপিটালে ভর্তি হতেই হবে।
কথাগুলো আপন ভাবছিলাম এমন সময় মা আমাকে উদ্দেশ্য করে চড়া গলায় বললেন-
মা: অরণ্য, তোর বাবা যা বলছে তা কি সত্যি!
আমি: (নিশ্চুপ হয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে আছি)
আব্বু: ও কি বলবে,, চোর কি কখনো চুরি করে স্বীকার করে নাকি সে চুরি করেছে।
আব্বুর কথাটা শুনে মায়ের চোখ বেয়ে দু-একফোটা জল গড়িয়ে পড়লো ফ্লোরের উপর। তা দেখে আমি মাকে সান্তনা দেওয়ার জন্য মায়ের বা কাঁধের ওপর আমার ডান হাতটা রেখে নিচু গলায় বললাম-
আমি: "বিশ্বাস করো মা" আমি তিথির সাথে এমন কিছুই..............(পুরোটা বলতে না দিয়ে)
মা: চুপ! হারামজাদা, কুলাঙ্গার, বেহায়া ছেলে,, তুই আর আমায় কোনদিনও মা বলে ডাকবি না। আমার নিজের প্রতিই লজ্জা হচ্ছে তোর মতো ছেলের কাছে মা ডাক শুনতে। ছিঃ আমার ভাবতেই ঘৃণা হচ্ছে তোকে আমি পেটে ধরেছি। এর থেকে আল্লাহ যদি আমায় নিঃসন্তান করে রাখতেন তাও আমি খুশি হতাম। কিন্তু তুই কেন এমনটা করলি তিথির সাথে। তিথিকে যদি তোর ভালো লেগেই থাকে তাহলে তুই আমাদের বলতি তোর সাথে আমরা তিথির বিয়ে দিয়ে দিতাম।
এই বলে মা কাঁদতে কাঁদতে ওনার কাঁধের ওপর থেকে আমার হাতটা সড়িয়ে একদিকে চলে যেতে লাগলেন। মাকে চলে যেতে দেখে বাবা কিছুক্ষণ আমার দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে উনিও কোথায় যেন চলে যেতে লাগলেন।
আব্বু আর মা চলে যাওয়ার পর আমি নিজের রুমে গিয়ে ভেতর থেকে দরজাটা লক করে দিলাম। দরজাটা লক করে দিয়ে বিছানায় আধশোয়া হয়ে বসে কাঁদতে লাগলাম।
এসব কি হচ্ছে আমার সাথে। আব্বু আমায় এসব কথা বলল কেন! তিথি কি বাড়িতে গিয়ে ওনাদের এ কথাগুলো বলেছে। নাকি কেউ আমাকে ফাঁসাতে চাইছে। কিছুই ঢুকছে না আমার মাথায়। আল্লাহ, জীবনে আমি কি এমন বড়ো পাপ করেছি যে আজ আমায় এত শাস্তি পেতে হচ্ছে। স্বজ্ঞানে আমি তো কোনদিনও কোন পাপ করেছি বলে তো আমার মনে হয় না। তাহলে কেন আমায় এত শাস্তি দিচ্ছ আল্লাহ!
কাঁদতে কাঁদতে মনে মনে এ কথাগুলো ভাবছিলাম। ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পরেছি টেরই পাইনি।
ঘুম ভাঙলো মায়ের চিৎকার শুনে। সারাটা ঘর অন্ধকার হয়ে রয়েছে। আমি বিছানা থেকে উঠে ঘরের লাইট টা অন করলাম। দেয়াল ঘড়িটার দিকে তাকাতেই দেখলাম সন্ধ্যা সাতটা বাজে। বেশ লম্বা একটা ঘুম দিয়েছি। মনটা এখন বেশ অনেকটা ফুরফুর লাগছে। হঠাৎ আবার বাবার বলা কথাগুলো মনে পড়তেই মনটা আবার খারাপ হয়ে গেল। দরজার ওপাশ থেকে মা হঠাৎ আবার চেঁচিয়ে উঠলেন-
মা: কিরে অরণ্য, কতক্ষণ ধরে ডাকছি তুই দরজা খুলছিস না কেন? (অস্থির হয়ে)
আমি: এইতো দাঁড়াও মা খুলে দিচ্ছি। (নিচু গলায়)
এই বলে আমি বিছানা ছেড়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেলাম। দরজাটা খুলে দিতেই দেখলাম মা অনেকটা সাজগোজ করে হাতে কিছু কাপড় নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দেখে মনে হচ্ছে শেরওয়ানি আর পাজামা'ই হবে। আমি দরজাটা খুলেছি দেখে মা আমায় গম্ভীর গলায় বললেন-
মা: এতক্ষণ ধরে কি করছিলি রুমের মধ্যে!
আমি: কই, কিছু করিনি তো!
মা: এই নে এগুলো ধর,, তাড়াতাড়ি পড়ে বাইরে আয়। (আমার হাতে শেরওয়ানি আর পাজামাটা ধরিয়ে দিয়ে)
আমি: কেন?
মা: যেটা করতে বলেছি সেটা কর। এত কেন কেন করিস না।
এই বলে মা ড্রয়িং রুমের দিকে চলে গেলেন। আমি এতক্ষণে যেটুকু আন্দাজ করতে পেরেছি,, তাতে মনে হয় আজ তিথির সাথে আমার বিয়ে হবে। কথাটা ভাবতেই আমার গা শিউরে উঠতে লাগলো। আমি আর দেরি না করে মায়ের দেওয়া শেরওয়ানি আর পাজামাটা পড়ে নিলাম। এরপর ঘর থেকে বেরিয়ে বাইরে আসতেই দেখলাম আমার চাচচু, চাচি আর আমার চাচাতো বোন মিম ড্রয়িং রুমে বসে আছে। চাচচুরা আমাদের সাথে থাকেন না। ওনারা গাজীপুরে থাকেন। কারণ- চাচচু গাজীপুরের একটি হাই স্কুলে চাকরি করেন আর চাচি একটি কোম্পানিতে জব করেন। কাজের সুত্রে ওনারা গাজীপুরে থাকেন। তবে ছুটি পেলেই এখানে চলে আসেন।
আমাকে দেখতে পেয়ে চাচচু আব্বুকে উদ্দেশ্য করে বললেন-
চাচচু: ভাইয়া, তাহলে চলো এবার রওনা দেয়া যাক।
আব্বু: হ্যাঁ, হ্যাঁ তোরা সবাই বাইরে গিয়ে গাড়িতে ওঠ। আমি আরণ্যকে নিয়ে আসছি।
আব্বুর কথাটা শুনে মা, চাচচু, চাচি, মিম সবাই বাড়ির বাইরে চলে গেল। সবাই চলে যাওয়ার পর আব্বু আমার কাছে এসে কোমল স্বরে বলতে লাগলেন-
আব্বু: অরণ্য, তুমি হয়তো ভাবছো তোমাকে এই পোশাক পরানো হয়েছে কেন! আর ভাবতে হবে না "আমি তার উত্তর দিয়ে দিচ্ছি।" তোমাকে এই পোশাক পরানোর কারণ আমি আর তোমার মা মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি তিথি মায়ের সাথে তোমার বিয়ে দেব। আশা করি তুমি এই বিয়েতে রাজি আছো!
আমি: জি; রাজি। (ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে থেকে নিচু গলায়)
আব্বু: Good. তাহলে এসো। আমাদের এখনি রওনা দিতে হবে।
এই বলে আব্বুও বাড়ির বাইরে চলে গেলেন। আর আমি তো এখন মহা খুশি। যে করেই হোক আর যেভাবেই হোক আজ তো তিথিকে আমি নিজের করে পাবো। এর থেকে আমার আর বড় কিছু চাওয়ার নেই। ধন্যবাদ আল্লাহ.......
খানিকক্ষণ মূর্তির মতো এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে অবশেষে আমি বাড়ির বাইরে এসে গাড়িতে উঠে বসলাম। আমি গাড়িতে উঠে বসতেই চাচচু গাড়ি স্টার্ট করল।
(অপেক্ষা করুন পরবর্তী পর্বের জন্য। আশা করি খুব শিঘ্রই পেয়ে যাবেন পর্ব আট। একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা-
এই পর্বটা পড়ে অনেক পাঠক-পাঠিকা ভাবছেন গল্প বুঝি শেষের দিকে। না,, গল্প এখনি শেষ হবে না। এই গল্পটার আরো বহু পর্ব আসবে। আশা করি সেই পর্বগুলো ও আপনাদের খুব ভালো লাগবে।
আর একটা কথা-
আমি একটি টাইমলাইন পোস্টে লিখেছিলাম খুব শিঘ্রই কয়েকটি নতুন ধারাবাহিক গল্প আসতে চলেছে। হ্যাঁ আমি খুব শিঘ্রই দেওয়ারও চেষ্টা করব। কিন্তু বর্তমান গল্পগুলোর নতুন কোন প্লট আমার মাথায় আসছে না। তাই ঠিকমতো লিখতে ও পারছি না। আর গল্পের প্লট নিয়ে বেশি চিন্তা করতে গেলে খুবই মাথা ব্যথা করে। এখনো করছে। কিন্তু কি করবো বলুন- আমার শত কষ্ট হলেও তো আপনাদের নতুন পর্ব দিতে হবে।
আমি খাতার পাতায় একটা গল্প লিখছি সংসার। এই গল্পের তিনটি সিজন থাকবে এবং প্রতিটি সিজনে 100+ পর্ব থাকতে পারে। কিন্তু এই গল্পের ক্যাটাগরি কি হবে আমি বুঝতে পারছি না। তবে এই গল্পের শ্রেণী হলো নারীবিষয়ক এবং পারিবারিক টানাপোড়ন। কবে যে গল্প সমাহার এই শ্রেণী দুটো যুক্ত করবে। এটা শ্রেণী ক্যাটাগরিতে যেমন থাকে তেমন নয়।
মানে ক্যাটাগরিতে থাকে-
ভয়ানক গল্প, ভুতের গল্প, মজার গল্প, ছোটগল্প, প্রেমের কাহিনী, রোমান্টিক গল্প।
আর শ্রেণীতে থাকবে-
ভয়, ভৌতিক, হাস্যকৌতুক, প্রেম, সাসপেন্স-থ্রিলার, ইয়ং অ্যাডাল্ট, পারিবারিক, পারিবারিক টানাপোড়ন, সামাজিক, উপন্যাসিকা ইত্যাদি।
আশা করি বুঝতে পেরেছেন।
যখন শ্রেণী যুক্ত হবে আশা করি তখন নতুন নতুন ধারাবাহিক গল্পও আসা শুরু করবে। )
মামাতো বোন যখন রোমান্টিক বউ (পর্ব ০৭)
257
Views
25
Likes
7
Comments
5.0
Rating

সকল মন্তব্যগুলো (7)
অসাধারণ
দারুন
সুন্দর
✍️📖👍👍👍
এক্কেবারে অসাধারণ
এই পর্বটা খুব ভালো লাগলো
পরবর্তী পর্ব তাড়াতাড়ি দেবেন ভাইয়া