হাঁটতে হাঁটতে রিসিপশন রুমে এসে পৌঁছালো হিয়ান। তার শার্টের এমন অবস্থা দেখে রিসিপশন রুমে উপস্থিত ইন্টারভিউ দিতে আসা বাকি লোকগুলো তার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। তাতে হিয়ান কিছুটা লজ্জিত বোধ করল।
রিসিপশনে যে মেয়েটি বসে ছিল সে খানিকক্ষণ হিয়ানের দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে মৃদু হেসে ইংরেজিতে বললো-
মেঘা: Who are you? What are you doing here? Did you come to give an interview?
হিয়ান মেয়েটির কথাগুলো শুনে স্পষ্ট বাংলা ভাষায় বলল-
হিয়ান: জ্বী,, আমি চাকরির ইন্টারভিউ দিতে এসেছি! আসলে রাস্তায় একটা দুর্ঘটনার কারণে আমার শার্টের এমন অবস্থা হয়েছে। আপনি প্লিজ কিছু মনে করবেন না।
মেয়েটিও এবার স্পষ্ট বাংলা ভাষায় বলল-
মেঘা: ও..... আপনি একটু দাঁড়ান! আমি পাঁচ মিনিটের ভেতর আসছি।
এই বলে মেয়েটি রিসিপশন রুম থেকে বেরিয়ে কোথায় জানি যেতে লাগলো।
হিয়ান ঠিক একই জায়গায় মূর্তির মতো নড়াচড়া না করে দাঁড়িয়ে আছে।
*************************************
কিছুক্ষণ পর আবার রিসিপশন রুমে ফিরে এলো মেয়েটি। হিয়ান লক্ষ্য করলো মেয়েটির হাতে শার্টের মতো কিছু একটা নিয়ে তার দিকে এগিয়ে আসছে। মেয়েটি পুরোপুরি তার মুখোমুখি এসে তার দিকে শার্টের মতো জিনিসটা এগিয়ে দিয়ে ম্লান হেসে বলল-
মেঘা: স্যার,, এই নিন ধরুন! ওয়াশ রুম থেকে চেঞ্জ করে আসুন।
হিয়ান মেয়েটির হাতের শার্টটা নিজের হাতে নিয়ে আমতা আমতা করে বলল-
হিয়ান: ম্যাম,, আসলে আমি তো ওয়াশ রুমটা চিনি না! যদি একটু দেখিয়ে দিতেন,, খুব ভালো হতো!
মেঘা: আপনি একটু দাঁড়ান,, আমি একজন Employee কে ডাকছি! সে আপনাকে ওয়াশ রুমটা দেখিয়ে দেবে।
এই বলে মেয়েটি কুশ নামের একটি Employee কে ডাকতে লাগলো।
তিন-চারটে ডাক দেওয়ার পর সেই Employee টি রিসিপশন রুমে এসে হাজির হলো।
কুশ: দিদিমণি,, আমায় ডাকছিলে।
মেঘা: হুম,, "কুশ" এনাকে তুমি দক্ষিণ দিকের ওয়াশরুম টা দেখিয়ে দাও তো!
স্যার,, আপনি ওর সাথে যান। ও আপনাকে ওয়াশ রুমটা দেখিয়ে দেবে।
হিয়ান মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ সূচক সম্মতি জানিয়ে Employee টির পেছন পেছন যেতে লাগলো।
*************************************
দশ মিনিট পর শার্ট চেঞ্জ করে ফ্রেশ হয়ে আবার রিসিপশন রুমে ফিরে এলো হিয়ান। রিসিপশন রুমে ফিরে এসে সে দেখলো একটি ছেলে মুখ বেজার করে কোথা থেকে ফিরে আসছে। তাকে দেখে রিসিপশন রুমে বসে থাকা একটি ছেলে ক্রুর হেসে বলছে-
একটি ছেলে: কি,, চাকরিটা পেলেন না তাইতো! আমি তো আগে থেকেই জানতাম আপনি এই চাকরিটা পাবেন না! চাকরি পেতে হলে একটা যোগ্যতার প্রয়োজন হয় যা আপনার নেই বলে আমি মনে করি। শুধু শুধু অযথা বসের কেবিনে গিয়ে বসকে জ্বালাতন করলেন। এখন যারা ইন্টারভিউ দিতে যাবে উনি এখন রাগ ঝাড়বেন তাদের ওপর! কোত্থেকে যে আসে এসব অশিক্ষিত-কুশিক্ষিত অভদ্র লোকের দল!
ইন্টারভিউ দিয়ে আসা ছেলেটি: আশ্চর্য তো,, আপনি এভাবে বলছেন কেন আমায়! আমি ইন্টারভিউ দেওয়ার কাজ দিয়েছি,, এখন সিলেক্ট হই নি,, সেটা কি আমার দোষ। আর তাছাড়া আমিই যদি ইন্টারভিউ দিয়ে সিলেক্ট হতাম তাহলে তো আপনাদের'ই হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হতো। আর একবার নিজেই ইন্টারভিউ দিতে যান না,, দেখি আপনি কিভাবে চাকরিটা পান।
ছেলেটি: হু,, আপনি এখানে কিছুক্ষণ বসুন। দেখুন আমি কিভাবে চাকরিটা নিয়ে আসি।
ছেলেটার কথাটা শেষ হতেই ভেতর থেকে তার ডাক পড়লো। তাই ছেলেটি তড়িঘড়ি করে ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য হাতের ফাইলটা নিয়ে বসের কেবিনের দিকে চলে গেলো।
হিয়ান তা দেখে মনে মনে বলতে লাগলো-
হিয়ান: "হে ভোলে বাবা" প্লিজ,, আমায় এই চাকরিটা পাইয়ে দাও। যদি তুমি আমায় এই চাকরিটা পাইয়ে দাও তাহলে তোমার জন্য মন্দিরে গিয়ে একটা পূজো দিয়ে আসবো। প্লিজ,, তুমি এইবার আমার পাশে থেকো। নইলে হয়তো এবার দাদাকে বৌমনি ডিভোর্স দিয়ে দেবে। অবশ্য বৌমনির'ই বা কি দোষ! ওরা তো আমাদেরকে এত বছর ধরে দেখলো। এবার তো তাদের নিজেদের জীবনটাকে'ও সাত রঙে রঙিন করতে হবে। তাদের পুরো ভবিষ্যৎ টাই তো এখনো পড়ে আছে। আমি আর মা যদি সারাজীবন ওদের ঘাড়ের উপর ঝুলে থাকি তাহলে তো ওরা নিজেদের জীবনটাকে ভালো ভাবে উপভোগ পারবে না।
আপন মনে কথাগুলো ভাবছিলো হিয়ান। হঠাৎ একটি ছেলের অট্টহাসি শুনে তার ধ্যান ভাঙলো। লক্ষ্য করলো প্রথমবার ইন্টারভিউ দিয়ে আসা ছেলেটিকে যেই ছেলেটি অপমান করছিল তাকে আরেকটি ছেলে বিদ্রুপ করে বলছে-
আরেকটি ছেলে: কি,, আপনিও চাকরিটা পেলেন না তাই তো। "ওই লোকটাকে খুব বললেন" আপনি একজন যোগ্য সম্পন্ন লোক,, এই চাকরিটা পেলে আপনিই পাবেন। তাহলে আপনার'ও চাকরিটা হলো না কেন!
তার (অন্য ছেলেটির) কথাগুলো শুনে কথাগুলো শুনে ছেলেটি প্রচন্ড রেগে গিয়ে কিছু না বলে রিসিপশন রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন।
এভাবে একজন একজন করে ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছে আর সবাই আশাহত হয়ে ফিরে আসছে! তা দেখে হিয়ান কিছুটা ভয় পেয়ে গেল! কারণ- সে'ই লাস্ট। সবার এমন অবস্থা দেখে তার মনে হচ্ছে এই চাকরিটা'ও বুঝি তার পাওয়া হবে না।
মুখটা বাঙলার পাঁচ করে রেখে হিয়ান বসে আছে হঠাৎ আবার রিসিপশনের মেয়েটি তার কাছে এলো।
মেঘা: স্যার,, শুনছেন।
হিয়ান: জি, বলুন।
মেঘা: আপনাকে ভেতর থেকে ডেকেছে! এবার আপনি ভেতরে যেতে পারেন।
মেয়েটির কথাটা শুনে হিয়ান সেই জায়গা থেকে উঠে বসের কেবিনের উদ্দেশ্যে সামনের দিকে পা বাড়াতে যাবে এমন সময় হঠাৎ মেয়েটি আবার বলে উঠলো-
মেঘা: স্যার.
হিয়ান: (পেছনে ঘুরে তাকিয়ে) আবার কি!
মেঘা: স্যার,, বস বলেছেন; এবার যে যাবে সে যেন ঠিকভাবে ইন্টারভিউ দেয়। কারণ- তিনি একুশ জনের ভেতর একজনকে'ও সিলেক্ট করতে পারেন নি। তাই তিনি প্রচন্ড রেগে আছেন। ওনার সামনে ভুলভাল কিছু করবেন না,, তাতে তিনি আরো রেগে যেতে পারেন।
হিয়ান মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ সূচক সম্মতি জানিয়ে বসের কেবিনের দিকে আবার পা বাড়াতে লাগলো।
হাঁটতে হাঁটতে বসের কেবিনের দরজার সামনে এসে পৌঁছোলো সে।
(কি হবে এরপর! যখন রাধিকা-হিয়ান আবার মুখোমুখি হবে! রাধিকা হিয়ানকে দেখে কেমন রিয়েক্ট করবে। এই চাকরিটা পাবে কি হিয়ান! নাকি এবার'ও আশাহত হয়ে বাড়ি ফিরতে হবে তাকে! জানতে হলে অবশ্যই চোখ রাখতে হবে কি করে বলবো তোমায় পরবর্তী পর্বে।)
বি:দ্র: এই পর্বটা পড়ে অনেকেই হয়তো ভাবছেন এই জায়গাটুকু অকারণে বড় করা হয়েছে। প্লিজ কেউ এমন ভাববেন না। আসলে আমি নবম শ্রেণীতে পড়ি। একদিকে পড়ালেখা, একদিকে প্রাইভেট, আমরা গ্রামে থাকি, তাই একদিকে কৃষি, যদিও বেশি কৃষি কাজ করি না,, তবুও এই সমস্যা গুলোর কারণে এই পর্বটা এভাবে লিখেছি। পরের পর্বে অবশ্যই ইন্টারভিউ কান্ডটা দেব। যারা কিছু মনে করেননি তারা প্লিজ দু'লাইন লিখে যাবেন। নইলে আমি ভাববো এভাবে লিখেছি দেখে আপনারা গল্পটাকে আর ভালবাসছেন না।
চলবে....................................
কি করে বলবো তোমায় (পর্ব ০৩)
101
Views
26
Likes
6
Comments
4.8
Rating

সকল মন্তব্যগুলো (6)
চমৎকার
চমৎকার
পরবর্তী পর্ব চাই....
প্লিজ একটু তাড়াতাড়ি বাকি পর্বগুলো দিন।
পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম
সুন্দর