সময় আনুমানিক সকাল সাড়ে দশটা......
মস্ত বড় একটা পাঁচতলা বিল্ডিং এর সামনে এসে দাঁড়ালো হিয়ান। এত বড় বিল্ডিং দেখে তার বুকটা ঢিপঢিপ করতে লাগল। আদৌ কি সে চাকরিটা পাবে! নাকি এবারও তার সাথে আগে যা ঘটেছে তাই হবে। তবে এই চাকরিটা তাকে পেতেই হবে! দাদার টাকায় তো অনেকদিন বসে বসে খেল,, এবার তাকেও উপার্জন করে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে। আজকাল সে লক্ষ্য করছে তার বৌমনি'র আচরণটা কেমন জানি পাল্টে যাচ্ছে। কাল রাতে সে তার দাদাদের ঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তার বৌমনির বলা কিছু কথা শুনতে পেয়েছিল। তার বৌমনি চাচ্ছে আলাদা হতে! তাদের মা-ছেলের দায়িত্ব তার দাদাকে আর বহন করতে দিতে চাচ্ছে না তার বৌমনি। তাদের মা-ছেলের পেছনে সব টাকা ফুরোলে নাকি ভবিষ্যতে তার দাদা আর বৌমনিকে ভিক্ষে করে খেতে হবে। তাদের একটি মেয়ে আছে। তাকে পড়াশোনা করাতে হবে,, ভালো ভালো জামা-কাপড় কিনে দিতে হবে,, ভালো ভালো খাবার দিতে হবে,, বিয়ে দিতে হবে! আরো অনেক রকম কথা বলেছিল হিয়ানের বৌমনি তার দাদাকে। সব শুনে তার দাদা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেছিল- একদম চুপ করো পূর্ণা! আর একটা কথাও নয়। মা বা ভাই যদি এ কথাগুলো শুনে ফেলে তাহলে কি হবে বলো তো। তুমি কি করবে করো! আমি যতদিন বেঁচে আছি আমার মা আর ভাইয়ের সাথেই থাকবো। আমি বেঁচে থাকতে আলাদা হবো না! তাছাড়া ভাই তো চাকরির ইন্টারভিউ দিচ্ছে,, খুব শিগগির একটা চাকরি হয়ে যাবে।
তার দাদার এ কথাগুলো শুনে তার বৌমনি প্রচন্ড রেগে গিয়েছিল। এরপর দু'জনের আরো কিছু কথা কাটাকাটিতে একটা ঝগড়ার'ও সৃষ্টি হয়েছিল।
দাদা আর বৌমনির এমন ঝগড়া দেখে হিয়ানের অজান্তেই তার চোখে জল চলে এসেছিল। আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে নি সেখানে। নিজের রুমে এসে দরজা লক করে দিয়ে চোখ থেকে অঝোর ধারায় জল ঝড়িয়েছিল সে।
সে চায় না তাদের মা-ছেলের জন্য তার দাদা আর বৌমনি'র সোনায় সোহাগা সম্পর্ক ভেঙে যাক। সে চায় না তার দাদা আর বৌমনি'র আরো ঝগড়া হোক। সে চায় না তাদের জন্য তার দাদা-বৌমনি অসুখী থাক।
এজন্য তাকে এই চাকরিটা পেতেই হবে। তাকেও টাকা দিতে হবে পরিবারে। নইলে হয়তো তাদের সোনার সংসারটা পরিবর্তন হবে শ্মশানে।
বেশ অনেকক্ষণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে মেইন গেইট দিয়ে হিয়ান ভেতরে ঢুকতে যাবে এমন সময় হঠাৎ একটা গাড়ি তাকে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে লাগলো ভেতরে। রাতে বৃষ্টি পড়ার কারণে ভেতরে ঢোকার রাস্তায় হালকা একটু জায়গায় কাদা লেগেছিল। যা ছিটকে এসে লাগল হিয়ানের সাদা শার্টটিতে। তা দেখে হিয়ান প্রচন্ড রেগে গেল। রাগে তার চোখ জোড়া পুরো লাল বর্ণ ধারণ করে ফেলেছে। ভীষণ কর্কশ গলায় গাড়ির ড্রাইভারকে উদ্দেশ্য করে বলল-
হিয়ান: এই গাড়িতে কে? তাড়াতাড়ি নামো বলছি,, অসভ্য কোথাকার। দেখছে একটা লোক ভিতরে যাচ্ছে,, আর মাতালের মতো গাড়ি ঢুকিয়ে দিচ্ছে। কোনো ভদ্রতা নেই!
হিয়ানের কথাগুলো শেষ হতেই গাড়িটা থেমে গেল। গাড়ির ডান দিকের দরজাটা খুলে অনেকটা স্টাইলিশ ভাবে নেমে এলো একটি মেয়ে (রাধিকা)।
হাঁটতে হাঁটতে মেয়েটি হিয়ানের মুখোমুখি এসে দাঁড়ালো এবং তীক্ষ্ণ কণ্ঠে বলতে লাগলো-
রাধিকা: এই যে মি. কে আপনি?
হিয়ান: সেটা বড় কথা নয়! বড় কথা হলো,, আপনি কি পাগল। মেন্টাল হসপিটাল থেকে পালিয়ে এসেছেন নাকি!
রাধিকা: কি! আমাকে আপনি পাগল বললেন! Your courage is not less.
হিয়ান: পাগল নয় তো কি! দেখছেন একটা লোক ভেতরে যাচ্ছে আর আপনি পাগলের মতো ছুটে এসে গাড়িটা ভেতরে ঢুকিয়ে দিলেন। দিলেন তো ভালো কথা- এখন আপনার জন্য আমার শার্টটার কি অবস্থা হয়েছে দেখুন তো একবার!
রাধিকা: (সাইড ব্যাগ থেকে একটা পাঁচশো টাকার নোট বের করে) এই নিন ধরুন,, এই টাকা দিয়ে একটা শার্ট কিনে নেবেন।
হিয়ান: টাকা দিচ্ছেন কেন! আমাকে দেখে কি আপনার ভিখিরি মনে হয়।
রাধিকা: (হিয়ানকে আপাদমস্তক দেখে নিয়ে) আমার তো তাই মনে হচ্ছে। এজন্য'ই তো টাকাটা দিচ্ছি,, ভিক্ষে হিসেবে।
হিয়ান: "আগে তো ভেবেছিলাম" আপনি শুধু মেন্টাল,, এখন তো দেখছি আপনি আসলেই মেন্টাল,, সাথে অন্ধ'ও!
রাধিকা: কি বললেন আপনি,, আপনি জানেন আমি কে! আমি হলাম........... (পুরোটা বলতে না দিয়ে)
হিয়ান: আপনি যেই হন না কেন,, আগে নিজের মনুষ্যত্বের পরিচয় দিন! তারপরেই না মানুষের মনে হবে আপনিও একজন মানুষ।
রাধিকা: কি বললেন আপনি,, আমি মানুষ নই! তাহলে আমি কি "হ্যাঁ"!
হিয়ান: আপনি কি এখনো বুঝতে পারেন নি.. "আপনি কি"! অবশ্য না বোঝার'ই কথা। আপনার তো এখনও তা বোঝার বয়স'ই হয় নি।
রাধিকা: তাহলে আপনি বলতে চাচ্ছেন,, আমি কচি খুকি। আমি কিছুই বুঝি না।
হিয়ান: বোঝেন ঠিক'ই,, কিন্তু বোঝার চেষ্টা টা করেন না,, এই আর কি!
রাধিকা: এই,, অনেকক্ষণ ধরে কিন্তু সহ্য করছি আপনার এসব উল্টোপাল্টা কথা! আর কিছু বললে আমি কিন্তু অন্য কিছু করতে বাধ্য হবো।
হিয়ান: আবারো আপনি প্রমাণ করে দিলেন আপনি মেন্টাল। অবশ্য,, কাকে বলছি এসব। পাগলকে কি কখনো কিছু বোঝানো যায় নাকি! যে বোঝাতে যাবে সে'ই পাগল হয়ে ফিরে আসবে। এই যেমন- আমিও যদি আর কিছুক্ষণ আপনার সাথে থাকি তাহলে আমিও পাগল হয়ে যাব।
এই বলে হিয়ান অফিসে ঢোকার সোজা রাস্তাটি ধরে গেইট পেরিয়ে অফিসের ভেতরের দিকে চলে যেতে লাগলো। রাধিকা তার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে। আজ হিয়ান তার সাথে যে আচরণটা করলো আজ পর্যন্ত কেউ তার সাথে এমন আচরন করে নি। বাড়ি থেকে অফিস- অফিস থেকে বাড়ি সবাই তাকে ভয় পায়। কেউ তার সাথে একটু উঁচু গলায় কথা বলে না। একমাত্র তার বাবা ছাড়া। তবে তার বাবা'ও কখনো তার সাথে এমন আচরণ করেন নি। "হিয়ান" তার লাইফে এই প্রথম যে তাকে কোনরকম ভয় না পেয়ে মুখে যা এসেছে তাই বলে চলে গেল।
খানিকক্ষণ সেখানে দাঁড়িয়ে থেকে রাধিকা তার গাড়িটি অফিসের গ্যারেজে রেখে দিয়ে অফিসের ভেতরের দিকে চলে গেল।
কি হবে এরপর! যখন রাধিকা ও হিয়ান আবার মুখোমুখি হবে! রাধিকা কি হিয়ানকে এ চাকরিটা দেবে না! হিয়ানকে কি এবার'ও আশাহত হয়ে বাড়ি ফিরতে হবে!
জানতে হলে অবশ্যই কি করে বলবো তোমায় পর্ব তিন'এ চোখ রাখতে হবে। গল্পটা যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই লাইক, রেটিং এবং মন্তব্য করে যাবেন। আর পারলে একটা ফলো দিয়ে যাবেন। আপনাদের পাশে পেলে আমি আরো এগিয়ে যেতে পারব এবং আপনাদের মনের মতন গল্প লিখতে পারব।
কি করে বলবো তোমায় (পর্ব ০২)
117
Views
26
Likes
3
Comments
5.0
Rating

সকল মন্তব্যগুলো (3)
দূর্দান্ত লিখেছেন
পরের পার্ট তাড়াতাড়ি চাই।
খুব সুন্দর লিখেছেন