৭ম পর্বের পর থেকে.................)
রাত প্রায় সাড়ে আটটার দিকে আমরা তিথিদের বাড়ির সামনে এসে পৌঁছালাম। আমাদের বাড়ি থেকে তিথিদের বাড়ি আসতে ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ মিনিট সময় লাগে। কিন্তু আজ ট্রাফিক জ্যামের কারণে আসতে এত সময় লাগলো।
ইতিমধ্যে সবাই গাড়ি থেকে নেমে পড়েছে। আমার গাড়ি থেকে নামতে কেমন জানি একটা লজ্জা লজ্জা ভাব লাগছে। এমন লজ্জা আমি আগে কখনো পাইনি।
আমি গাড়ি থেকে নামছি না দেখে আব্বু আমাকে উদ্দেশ্য করে নরম কণ্ঠে বললেন-
আব্বু: কি হলো অরণ্য,, এখনো গাড়িতে বসে আছে যে! তুমি গেলেই কাজী সাহেব বিয়ে পড়ানো শুরু করবে। তাড়াতাড়ি চলো।
আমি: তোমরা যাও আব্বু,, আমি একটু পর আসছি।
চাচচু: কেন আমাদের সাথে গেলে কোন সমস্যা হবে নাকি!
চাচচুর কথাটা শুনে আমি কিছু একটা বলতে যাব এমন সময় হঠাৎ চাচি চাচচুকে উদ্দেশ্য করে বললেন-
চাচি: আচ্ছা তোমরা কি শুরু করে দিয়েছো টা কি ছেলেটার সাথে বলো তো। ও যখন বলছে একটু পরে আসবে,, তো আসুক না! চলো আমরা ভেতরে যাই।
চাচির কথায় মা'ও কেন জানি তাল মিলিয়ে বললেন -
মা: হ্যাঁ,, হ্যাঁ,, সুমি ঠিকই বলেছে। আমরা ভেতরে যাই। অরণ্য আরেকটু পরে আসবে ক্ষণ।
মা'র কথাটা শুনে আব্বু কিছু একটা বলতে যাবেন এমন সময় চাচি আব্বুকে থামিয়ে দিয়ে আবেগী গলায় বললেন-
চাচি: আহ ভাইয়া। আর না করবে না তো।
আব্বু: ঠিক আছে,, তাহলে চলো সবাই।
আব্বুর কথাটা শুনে একে একে সবাই তিথিদের বাড়ির ভেতরের দিকে চলে যেতে লাগলেন একমাত্র আমার চাচাতো বোন মিম বাদে। তা দেখে আমি কিঞ্চিত বিরক্ত হয়ে মিমকে জিজ্ঞেস করলাম-
আমি: কিরে,, তুই এখানে দাঁড়িয়ে রইলি যে! যা ভিতরে যা.......
মিম: ভিতরে গিয়ে কি করবো যদি আমার মনের মানুষটাই বাইরে থাকে।
আমি: এই, কি আলতু ফালতু বকছিস তুই?
মিম: আরে রেগে যাচ্ছো কেন! আমি তো মজা করছিলাম।
আমি: মজা করা হয়েছে। এখন ভেতরে যা.... (ধমক দিয়ে)
মিম: না গো,, আমার মজা করা এখনো শেষ হয়নি।
আমি: মিম....... (কপট রাগী স্বরে)
মিম: যাচ্ছি যাচ্ছি,, এত বকো না তো!
এই বলে মিমও তিথিদের বাড়ির ভেতরের দিকে চলে যেতে লাগলো। আমি প্রায় দশ-মিনিটের মতো গাড়িতে বসে থেকে অবশেষে গাড়ি থেকে নামলাম। হাঁটতে হাঁটতে তিথিদের বাড়ির সদর দরজার কাছে এসে দাঁড়িয়েছি এমন সময় কয়েকজন কমবয়সী মেয়ে এসে আমার সামনে দাঁড়াল। তার মধ্যে তিথির বোন তারাও আছে। এবার বুঝতে পারলাম,, এটা গেট আটকানোর ব্যবস্থা করেছে। আমি খানিকক্ষণ তাদের দিকে তাকিয়ে থাকার পর ধিমে গলায় জিজ্ঞেস করলাম-
আমি: কি হলো, আমার পথ আটকাচ্ছো কেন তোমরা! (মজা করে বললাম)
তারা: কেন আপনি জানেন না!
আমি: না বললে কি করে জানব।
তারা: এই,, দুলাভাই নাকি কিছু জানেন না ওনাকে একটু বুঝিয়ে দে তো আমরা কেন ওনার পথ আটকিয়েছি। (সাথের মেয়েদেরকে উদ্দেশ্য করে)
আমি: না, না, আমায় কিছু বোঝাতে হবে হবে না। আমি সব বুঝে গেছি। কত লাগবে বলো?
তারা: বেশি না, মাত্র দশ দিলেই চলবে।
তারার কথাটা শুনে আমি শেরওয়ানির পকেট থেকে একটা দশ টাকার নোট বের করে হাসি চেপে কোনমতে বললাম-
আমি: এই নাও তোমাদের দশ। কিন্তু টাকাটা চোখ বন্ধ করে নিতে হবে।
আমার কথাটা শুনে তারা সহ আর বাকি তিনটি মেয়ে কিছুক্ষণ একে অপরের দিকে তাকিয়ে অবশেষে চোখ বন্ধ করে নিল। এই সুযোগে আমি তারার হাতে দশ টাকার নোটটা ধরিয়ে দিলাম। নোটটা হাতে পেয়ে তারার বুঝি আর বুঝতে বাকি রইল না যে সেখানে দশ হাজার টাকা নেই। সে চোখটা খুলে নোটটা'র দিকে তাকাতেই দেখতে পেল তার হাতে মাত্র দশ টাকার নোট। তাই সে কপট রেগে আমাকে উদ্দেশ্য করে বলল-
তারা: এটা কি হলো!
আমি: কি হলো মানে। (অনেক কষ্টে হাসি চেপে)
তারা: মানে আপনি আমাদের দশ টাকা দিলেন কেন?
আমি: তোমরাই তো বললে মাত্র দশ দিলেই চলবে। (ম্লান হেসে)
তারা: আমরা দশ টাকা না,, দশ হাজার টাকার কথা বলেছি।
আমি: সেটা তোমাদের আগে বলার প্রয়োজন ছিল।
তারা: এখন তো বললাম!
আমি: "শালিকা" এমন চান্স জীবনে মাত্র একবারই আসে। দ্বিতীয় বার আর কক্ষনোই এই চান্স আসে না। তাই এখন আর এভাবে আমার রাস্তা আটকে কোনো লাভ হবে না। তাই বলি কি- আমায় এখন একটু সাইড দাও। ওদিকে আমার মিষ্টি বউটা একা একা বসে আছে। আমাকেও তো ওর পাশে গিয়ে বসতে হবে নাকি।
আমার কথাটা শুনে তাদের মধ্যেই একটি লাল কালারের কুর্তি পড়া মেয়ে আমাকে বলল-
একটি মেয়ে: "দুলাভাই" সুযোগ জীবনে মাত্র একবার আসে না! সুযোগ তৈরি করে নিতে হয়। ভালই ভালই বলছি টাকা ছাড়ুন নইলে কিন্তু খুব খারাপ হয়ে যাবে বলে রাখলাম।
মেয়েটির কথাটা শুনে আমি কিছু একটা বলতে যাব এমন সময় হঠাৎ মামু এসে তারা সহ সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন-
মামু: এই,, তোরা এখানে কি করছিস? যা ওদিকে গিয়ে আফরিন'কে (আমার মামি) রান্নার কাজে হেল্প কর যা। (তেজী কণ্ঠে)
তারা: যাচ্ছি বাবা। (বিষণ্ণ গলায়)
এই বলে তারা তার সাথে নিয়ে আসা মেয়েদেরকে নিয়ে কিচেনের দিকে চলে যেতে লাগলো। আমি মুচকি হেসে তাদের সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললাম-
আমি: এই শোন সকলে; অনেকটা পথ জার্নি করে এসেছি! খুব তেষ্টা পেয়েছে! আমার জন্য কেউ একজন লেবু, স্যালাইন, চিনি এবং লবণ মিশ্রিত করে এক গ্লাস শরবত দিয়ে যেয়ো।
আমার কথাটা শুনে সবাই মুখ বাঁকিয়ে চলে গেল। মামু এখনও আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ওনাকে দেখে আমার হার্টবিট দ্রুত দৌড়াচ্ছে। আমার এমন অবস্থা দেখে মামু নরম কণ্ঠে বললেন-
মামু: বাবা অরণ্য,, ড্রয়িং রুমে কাজী সাহেব সহ সবাই বসে আছে! তুমি তাড়াতাড়ি যাও। তুমি গেলেই বিয়ে পড়ানো শুরু হবে।
আমি মামুর কথার কোন উত্তর না দিয়ে ড্রয়িং রুমের দিকে হাঁটা শুরু করলাম। ড্রয়িং রুমে এসে দেখলাম তিথি একটা লাল রঙের বিয়ের শাড়ি পড়ে মাথা নিচু করে সোফায় বসে আছে। আমি হাদারামের মতো ড্রয়িং রুমে এসে দাড়িয়ে আছি! তিথির পাশে বসতে কেমন একটা সংকোচ বোধ হচ্ছে আমার। আমাকে এভাবে দাড়িয়ে থাকতে দেখে মা আমায় ওনার চক্ষুদ্বয় দ্বারা ইশারা করলেন তিথির পাশে গিয়ে বসতে। মায়ের ইশারা মত আমি তিথির পাশে গিয়ে বসলাম। তিথির পাশে গিয়ে বসতেই সে মাথাটা উঠিয়ে খানিকক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থেকে আবার চোখ নিচের দিকে করে বসে পড়লো। হয় তো সে আমাকে ভয় পাচ্ছে আর নয় তো সে আমার উপর অভিমান করে আছে। খানিকক্ষণ পর কাজী সাহেব নিজের কার্য আরম্ভ করলেন!..................
************************
তিথি আর আমার বিয়ে পড়ানো শেষ। এখন কাজী সাহেব সহ আমরা সবাই খেতে বসেছি। আমরা সবাই খাচ্ছি কিন্তু তিথি কেন জানি কিছু খাচ্ছে না। মনমরা হয়ে আবার নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। তা দেখে আমি তিথিকে বললাম-
আমি: কিরে তিথি, খাচ্ছিস না কেন তুই!
তিথি: তুই আমায় খাইয়ে দিলে তারপর আমি খাবো। (আমার দিকে মুখ করে)
আমি: এটা আবার কেমন কথা! তোর বাড়ির লোক, আমার বাড়ির লোক সবাই এখানে রয়েছে। সবার সামনে তোকে কি করে খাইয়ে দেব বল!
তিথি: আমি কিচ্ছু জানি না,, তুই যদি আমায় খাইয়ে দিস তাহলেই আমি খাবো। নইলে খাবো না।
আমি: এ কোন পাগলের পাল্লায় পড়লাম রে বাবা! এমন জেদি মেয়ের সাথে আমি সারাটা জীবন কাটাবো কি করে! (মনে মনে)
তিথি: কি হলো খাইয়ে দিবি না আমায়।
আমি: দাঁড়া।.. মামি আমি আর তিথি একটু তিথির রুমে যাব। এখানে বসে খেতে ইচ্ছে করছে না।
তারা: এখানে বসে খেতে ইচ্ছে করছে না নাকি আপুকে সবার সামনে খাইয়ে দিতে লজ্জা পাচ্ছেন।
তারার কথাটা শুনে আমার মুখ লজ্জায় লাল হয়ে গেছে। তা দেখে মামি তারাকে উদ্দেশ্য করে বললেন-
মামি: এই চুপ। মুখে কোন কথা আটকায়'না না তোর। (তারার কান মলে দিয়ে)
তারা: উফ্ মা,, লাগড়ে ছাড়ো!
মামি: লাগার জন্যই তো ধরেছি। (তীক্ষ্ণ কণ্ঠে)
তারাকে দেখে আমার খুব মায়া হলো। বোধহয় কানে খুব ব্যাথা পাচ্ছে। তাই আমি মামিকে থামার জন্য ওনাকে উদ্দেশ্য করে বললাম-
আমি: মামি ওকে ছেড়ে দাও। মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে। তাই বলে এমন নিষ্পাপ মেয়েটাকে তুমি শাস্তি দিচ্ছো।
আমার কথাটা শুনে মামি তারার কানটা ছেড়ে দিয়ে তাকে বললেন-
মামি: অরণ্য বলল বলেই তোকে আজ ছেড়ে দিলাম। নইলে আজ আমি যে তোর কি হাল করতাম।
তারা: Thank You Maa.........
এই বলে তারা দৌড়ে একটা রুমের দিকে চলে গেল। সে চলে যাবার পর মামি আমার কাঁধের উপর ওনার একটা হাত রেখে আমাকে বললেন-
মামি: বাবা অরণ্য,, তুমি আর তিথি, তিথির রুমে যাও। আমি সেখানে তোমাদের খাবার নিয়ে দিচ্ছি।
তিথি: কোন দরকার নেই! তুই আমার রুমে যা.. আমি খাবার নিয়ে আসছি।
আমি: ঠিক আছে।
এই বলে আমি ডাইনিং টেবিল থেকে উঠে তিথির রুমে চলে গেলাম। কিছুক্ষণ পর তিথি প্লেটে ভাত নিয়ে আমার কাছে এসে বললো-
তিথি: এবার খাইয়ে দে আমায়।
তিথির হাত থেকে আমি ভাতের প্লেটটা নিয়ে ওকেও খাইয়ে দিতে লাগলাম এবং আমিও খেতে লাগলাম। তিথি গপগপ করে ভাত খেতে লাগলো। ওর মুখটা দেখে মনে হচ্ছে ও বুঝি স্বর্গের অমৃত খাচ্ছে।
***************************
কিছুক্ষণ পর আমাদের খাওয়া শেষ হলো। আমি নিজের মুখ মুছে তিথিরও মুখ মুছে দিলাম। খানিকক্ষণ বিছানায় বসে থাকার পর তিথি আমার সাথে যেটা করলো আমি তখনো সেটার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না।
কারণ- তিথি হঠাৎ করে আমার ঠোঁট জোড়া তার দিকে টেনে নিয়ে তার ঠোঁট জোড়ার সাথে মিশিয়ে দিল। এতে আমি কিছুটা ভয় পেয়ে গেলাম। কারণ- ধীরে ধীরে আমি কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলছি। আমার দেহ তিথির দেহের প্রতি আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। যদিও সে আমার স্ত্রী। কিন্তু এটার জন্য নয় আমি ভয় পাচ্ছি না। ভয় পাচ্ছি কারণ রুমের দরজাটা খোলা। যদি এই মুহূর্তে কেউ চলে আসে তাহলে কি হবে!
যা আন্দাজ করেছিলাম ঠিক তাই হলো আমার সাথে। কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলে আমি তিথিকে বিছানার উপর ফেলে দিয়ে তার নরম ঠোঁটের সাথে আমার ঠোঁট ডুবিয়ে দিয়েছি এমন সময়.............
চলবে............................
মামাতো বোন যখন রোমান্টিক বউ (পর্ব ০৮)
261
Views
28
Likes
7
Comments
5.0
Rating

সকল মন্তব্যগুলো (7)
সুন্দর হয়েছে
পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম
খুব খুব সুন্দর লিখেছেন ❤️❤️
⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐⭐💯💯💯💯💯💯💯💯
Nice
অসাধারণ লেগেছে। খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব খুব ভালো লেগেছে। দেখি পরবর্তী পর্বে কি হয়
অসাধারণ লিখেছেন। খুব ভালো লেগেছে। আশা করি পরবর্তী খুব তাড়াতাড়ি দেবেন