বরফ কন্যা
পার্ট -৬
বাড়িডে আসতে আসতে রাত হয়ে যায়, এসে মাকে খাবার খাওয়ালাম, তারপর নিজে ফ্রেশ হয়ে খাবার খেয়ে বিছানায় গেলাম,তবে ঘুম আসছে না, এক প্রকার নীলাকে নিয়ে জেগে জেগে স্বপ্ন দেখতে থাকলাম, আহ কত হৃদয় নোংরানো ভালোবাসার কথা নীলাকে বলেছিলাম,প্রায় অর্ধেক রাত এভাবে কেটে গেল,বুঝে উঠতে পারিনি দেখলাম প্রাকৃতিক এক নম্বর ডাক দিয়েছ, উঠে লাইটটা জ্বালালাম,বাথরুমের দিকে পা বাড়াতে যাওয়ার সময় কানে বাজলো দরজায় কেউ একজন নক করছে।
তবে প্রাকৃতিক ডাকের চাপটা একটু বেশিই ছিল তাই বের হয়ে দরজা খুলবো ভেবে বাথরুমে চলে গেলাম,দরজায় নক করার আওয়াজটা ক্রমে বেড়ে চলছে মনে হচ্ছে ভেঙে ফেলবে দরজা না খুললে,বাথরুম থেকে কোনরকমে বের হয়ে, দরজা খুললাম কিন্তু অবাক হলাম বাহিরে কেউ নেই, তবে ঠান্ডা বাতাসের মত কিছু একটা অনুভব করলাম যেটা আমাকে ছুয়ে প্রবেশ করলো,তবে দরজা খুলে কাউকে না পেয়ে গলার পানি শুকিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা আমি স্বপ্ন দেখছি নাতো?
কোনরকম দরজা বন্ধ করে আবার বিছানায় শুলাম,প্রায় ঘন্টাখানেক চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছি হালকা ঘুম ঘুম ভাব তবে ঘুম আসছে না , কেমন যেন অনুভব হলো মনে হচ্ছে ঠান্ডা কোন দেহ আমার ওপর হেলিয়া শুয়ে পড়ছে, কিছুক্ষণ পর খেয়াল করলাম জুরে সুড়ে জড়িয়ে ধরে আছে অন্য কোন দেহ, আমি অনেক চেচালাম কিন্তু মুখে কোন আওয়াজ হচ্ছে না,পরে ভাবলাম থাক আর চেচিয়ে লাভ নাই।
আমি ততক্ষণে বুঝে গিয়েছিলাম আমার উপর কোন অশরীর ভর করেছে, এরকম ঠান্ডা আবেশেই পরে রইলাম কতক্ষণ পড়েছিলাম তা জানা নেই তবে কিছুক্ষণ পর খেয়াল হলো,ফজরের আযান হচ্ছে আর আমার উপর থেকে ঠান্ডা ভরটাও উড়ে যাচ্ছে, আমি সাথে সাথে উঠে বসলাম মনে মনে চিন্তা ডুকে গেল যে দিন থেকে নীলার সাথে আমার পরিচয় হয়েছে সেদিন থেকেই কেমন যেন আমার সাথে অদ্ভুত ঘটনা হচ্ছে।
হঠাৎ মার ডাক পেলাম, মা বলে উঠলো বাবা শামীম একটু দে, আমি পানি নিয়ে গেলাম মা প্রায় রাত দুইটা তিনটায় জেগে যায় আর ঘুমায় না পানি খেয়ে বললো কিরে বাবা, সেই কোন মেয়ের কথা বললি বিয়ে করবি তার কোন খোজ খবর নাই, এভাবে আর আমি কতদিন একলা একলা থাকবো?
আমিও বললাম আর কিছুদিন,অপেক্ষা করো মা, সব হয়ে যাবে ফ্রেশ হয়ে সকালে চলে গেলাম কোচিংয়ে,কোচিং ক্লাস করানো অবস্থায় দেখি শাহেদ সাহেব হাজির, শামীম ভাই কি অবস্থা? বললাম আমি মোটামুটি তবে,অদ্ভুত খবর দিলো নীলা নাকি আজকেও দেখা করতে চেয়েছে, আমার সাথে বিকালে রমনাতে থাকতে বলেছে, আমিতো মহা খুশি কোন রকম ক্লাস শেষ করে বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে একটা নতুন শার্ট, একটা পেন, এক কথায় ফরমাল হয়ে হলাম কিন্তু তখন মাথায় বাজলো মোবাইল ফোনের যুগে কেউ অন্য কাউকে দিয়ে খবর পাঠায়, এ অধুনিকতার যুগে নীলা মেয়েটা মোবাইল চালায় না, কি আযব ব্যাপার।
আমাকে তো রমনা যেতে বললো তবে খুজে পাবো কেমনে,ওর তো মোবাইল নাই?
এক প্রকার মন মেজাজ খারাপ করে রওয়ানা হলাম, যদি আজ দেখা না হয় আরেক দিন দেখা করে বকা দিবো, বিকাল ৪ টার সময় এসে রমনার গেটে নামলাম,তখনো ভাবছি করবোটা কি? নীলাকে কোথায় খুজবো, মন খারাপ করে ভিতরে কিছুখন হাটার পর একটা চেয়ারে বসে পরলাম, বসে বসে রাগে ফুসছি,আনমান হয়ে গেলাম,অনেকখন বসে থাকার পর হঠাৎ শরীরের সাথে ঠান্ডা কিছু অনুভব হলো,চোখ ঘুরাতে দেখি নীলা, কি ব্যাপার শামীম সাহেব রাগে ফুসছেন কেন? রাগতো অবশ্যই ফুসছি তবে, এরকম সুন্দর চেহারা দেখলে কি আর রাগ থাকে? এরকম কিছুটা রোমান্টিক কথা শুনে নীলা হাসিতে ফেটে পরলো।
বরফ কন্যা, পার্ট -৬
41
Views
0
Likes
0
Comments
0.0
Rating

কোন মন্তব্য নেই