পড়ালেখা নিয়ে আর পরিবার নিয়ে বেশ টানা পড়া অবস্থা। বাবা হার্টের রোগী মা বাড়িতে বাবাকে দেখা শোনা করা লাগে আমি অনেক কষ্ট করে টিউশনিও করি পড়ালেখা করি টিউশনি করে যা পাই তা দিয়ে পরিবার আর পড়ালেখা এ সময়টাতে চাকরিবিহীন শহরে চলা যে কতটা কঠিন বলা সম্ভব না।
সারাদিন টিউশনি আর ভার্সিটি প্রতিদিন বের হতে হয় সকাল ছয়টায় বাসায় ফিরি রাত বারোটায় এই হল জীবনের রুটিন আনন্দ ফুর্তি বলতে কিছুই নেই।
যাযাবর জীবন বলা যেতে পারে থার্ড ইয়ার চলছে অনার্স হঠাৎ বাবা হার্ট অ্যাটাক করে চলে গেল আমি টিউশনি করাতে বাইরে ছিলাম বাসায় ফেরার আগে নাকি বাবা হার্ট অ্যাটাক করেছে আমার মা আমাকে ফোনে জানালো কোন রকম হামাগুড়ি দিয়ে বাড়িতে আসলাম কিন্তু এসে কোন লাভ হলো না দেখলাম বাবা বিদায় নিয়ে চলে গেছে ওপারে ।
কি করবো এত রাতে বুঝতে পারলাম না বন্ধু ছিল দুই জন ওদের কল করলাম দুজন জানালো ওরা শহরের বাইরে মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পরলো,
ভাবলাম হয়তো বাইরে কাউকে পেয়ে যাব কিন্তু আশ্চর্য হলাম বাইরে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতে শুরু হলো প্রচন্ড বাতাস ঝড়-বৃষ্টি ঘরের চাল উপরে যাওয়ার মত অবস্থা, আর বাইরে যাওয়া হলো না ।তবে বাইরে থেকে বৃষ্টির মাঝে শিয়ালের ডাক কানে ভেসে উঠলো একটু ভয় হল যাক নানা ঘাত প্রতিঘাতের ভিতর দিয়ে রাত শেষ করে সকালে এলাকার কিছু মানুষ নিয়ে বাবাকে দাফন করলাম ।
দাফন শেষে বাড়িতে এসে মাকে দেখলাম অচেতন পরে আছে ,বাবা মারা যাওয়ার পর মা পুরা পাগলের মত হয়ে গেল সারাদিন অচেতনা হয়ে পরে থাকে টিউশনি করাতে গিয়েও শান্তি পেতাম না মনটা পরে থাকত বাসায় মা কি করছে ?
কোন রকম থার্ড ইয়ার শেষ করে ফোর্থ ইয়ার উঠলাম কিন্তু মাকে সে আগের মত ফিরে পেলাম না সে আগের মত বসে থাকে কোন খেয়াল ধ্যান নেই ভাবলাম এভাবে তো জীবন চলে না এত কষ্ট করে গিয়ে রাতে বাসায় রান্না করে খেতে হয় মাকে খাওয়াতে হয় বাবা মারা যাওয়ায় জীবনে কিরকম যেন কাল নেমে আসলো।
ভাবলাম একটা বিয়ে করে নেই, এত দিনে আমার একটা কোচিং সেন্টারে চাকরি হয়েছে মোটামুটি পরিবার চলার মত টাকায় আয় হয় ,তো ভাবলাম বিয়ে করলে হয়তো মাকে বাসায় দেখার মত একজন মানুষও হবে একজন জীবনসঙ্গীও হয়ে গেল।
বয়স তো আর কম হলো না বিয়ে করবো করবো বলো ছয় মাস চলে গেল , মেয়ে পাচ্ছি না এদিকে মার অবস্থা বেশি ভালো না একদিন কোচিং সেন্টারে কলিগ শাহেদ স্যার বলল
তার জানা মতে একজন মেয়ে আছে , কিন্তু মেয়ের কিছু সমস্যা আছে তার নাকি অনেক বিয়া এসে ফিরে যায় আমি মনে মনে ভাবলাম আমি তাহলে একে বিয়ে করতে পারব কারণ ছেলেরা ফিরে যায় তাহলে হয়তো চেহারা সুবিধার না আমার মতে চেহারা দেখে লাভ নাই বাসায় একজন মার সাথে থাকলে আর রান্নাটা করলেই হল কাজ শেষে শাহেদ ভাই থেকে ঠিকানাটা নিলাম পুরান ঢাকা প্রায় অনেক দূর সে গাবতলী থেকে যেতে হবে ।
তাই তারপর দিন কোচিংয়ে না গিয়ে মেয়ের বাসার খুঁজে বের হলাম, সাথে অবশ্য কাউকে নেই নাই ভাবলাম আমি আগে গিয়ে দেখে আসি পছন্দ হলে না হয় সাথে কাউকে নেওয়া যাবে, পুরান ঢাকার চিপা চাপা খোঁজো অবশেষে বের করলাম বাড়িটা দরজা নক করতে একটা ছোট মেয়ে দরজা খুলে দিল কে কাকে চাই বললো আমি বললাম এঘরে নাকি একজন মেয়ে আছে যার বিয়ে হচ্ছে না তাকে দেখতে আসছি ।
মেয়েটা মুখ ভেংচিয়ে বলল আসছে ভূতরে বিয়ে করতে দেখেই চলে যাবে কত ছেলে আসলো আর গেল আমি অবশ্য কিছু মনে করিনি ওর কথায় বাচ্চা মেয়ে কত আর হবে বয়স 10 বা 12 , জিজ্ঞেস করলাম বাচ্চাটাকে তোমার নাম কি? হাসি দিয়ে বলল রিমা।
তারপর আমি জিজ্ঞেস করলাম তুমি যে ভূত বললে সে তোমার কি হয় ?সে আবার মুখ খানা কালো করে উত্তর দিল ফুফাতো বোন ,তারপর বলল আসেন ভিতরে আসেন বাড়ির ভিতরে ঢুকে বুঝলাম তারা উচ্চ মধ্যবিত্ত। মেয়েটা আমাকে বসতে বলল মা আর বাবা ডাকতে ডাকতে বলল বাবা দেখো তোমার ভাগ্নির জামাই এসেছে দেখে যাও ।
মনে মনে ভাবলাম হয়তো এটা মেয়েটার মামার বাড়ি কিন্তু তাকে ভূত ডাকা হয় কেন? ভাবতে ভাবতে দেখলাম দুইজন ভদ্র মানুষ এসে দাঁড়ালেন তারা বললেন তুমি কে বাবা? আমি তাদের সম্মানে দাঁড়ালাম উনারা বলল বস বস বাবা ,তোমার পরিচয়টা দাও আমি আমার পরিচয়টা দিলাম তো ।
উনারা উদাস মুখে আমার সব কথা
বরফ কন্যা ১
1.38K
Views
34
Likes
12
Comments
4.2
Rating

সকল মন্তব্যগুলো (12)
onk onk besi Valo lagce😍😍
গল্পটি খুব সুন্দর হয়েছে।
গল্পটি খুব ভালো লেগেছে
গল্পটি অসাধারণ হয়েছে
খুব ভালো লেগেছে
গল্পটি বেশ ভালো ছিল
পার্ট ২ কখন প্রকাশিত হবে।
খুব ভালো লাগলো গল্পটা আমার ক্লাস আর শুরু হবে বারোটার সময় এই গল্পের মতই। কখন ফোর ক্লাস টা শুরু হবে আর কখন বান্ধবীদের সাথে আড্ডা দেবো নিয়েই জীবন কাটে।
খুব সুন্দর গল্পটা
please Bhai 2nd part please 🥺🥺.1st part khubi bhalo hoyechhe love 💕😘
শিয়ালের গল্প
❤️❤️