রহস্যময় ভালোবাসা

এর উত্তর আমি মিলাতে পারলাম না, আসলেই মিশকাত এবং নুসরাত এই দুজনের রহস্যটা কি?

সব ভাবতে ভাবতে বাসার দিকে রওনা দিলাম। এসে দেখলাম সবাই খুশি মনে আমাকে স্বাগতম জানাচ্ছে এবং তিন্নিও অনেক খুশি, তাই আমি তিন্নিকে আর কোন টেনশন দিতে চাচ্ছিলাম না।
আমিও হাসিমুখে সবাইকে মিষ্টি বিলিয়ে দিতে লাগলাম। এমন সময় তিনি আমাকে বলে উঠে,,,,,,,

- চলো এবার আমার বাসা থেকে ঘুরে আসি। অনেকদিন তো হলো আমার বাসায় যাওয়া হয়না আর এই খুশির সময় যদি না যায় তাহলে কবে যাব?
- ঠিক বলেছ আসলেই সময় যাওয়াই যায়। ব্যাকপ্যাক করো কালকে ছুটি নিবো কালকে আমরা শ্বশুর বাড়ি থেকে ঘুরে আসবো।
- তোমার কাজ না থাকলে আরও দু-তিন দিনের ছুটি নাও না?
- আচ্ছা দেখি আমি কথা বলে দেখি।
- থ্যাংক ইউ ডিয়ার।
- হইছে হইছে আর ভালোবাসা দেখাতে হবে না।

এই বলে আমি মুচকি হাসতে হাসতে চলে গেলাম।
রাত্রে খাওয়া দাওয়া শেষ করে যখন আমি মোবাইল টিপছিলাম হঠাৎ মনে পড়ল কবিরাজের সাথে কথা বলে মিশকাতে ব্যাপারটা আলোচনা করা যাক। এই ভেবে আমি মোবাইলটা হাতে নিলাম এবং কবিরাজ কে ফোন লাগাতে লাগলাম। অনেকক্ষণ ফোন যাবার পর একটা মহিলা ফোন ধরল,,,,,

- জি আসসালামু আলাইকুম।
- ওয়ালাইকুম আসসালাম। এটা ওয়াহেদ হুজুর এর নাম্বার না?
- জি এটা ওনার নাম্বার। আপনি কে বলছেন?
- আপনি আমাকে চিনবেন না হুজুরকে আমার অনেক দরকার।
- উনিত আর এই দুনিয়াতে নেই। মিশকাত নামের এক মেয়ের কেস দেখছিল উনি। দুমাস আগে সেই মেয়েটা ওনাকে মেরে ফেলেছে। (কাঁপতে কাঁপতে বলতে লাগবো)
- মানে কী বলছেন এসব?
- জি কিন্তু আপনি কে?

আমি আর কিছু বললাম না ফোন কেটে দিলাম। আমি শুধু ভাবতে লাগলাম,,,, তাহলে কে এখন আমার সাহায্য করবে? তাহলে নুসরাত যা বলছে তা সত্যিই ছিল। মিশকাতের ব্যাপারটা এখনো শেষ হয়নি। ওয়েট,,, হুজুর ওতো আমাকে বলেছিল যে মিশকাতে ব্যাপারটা ক্ষণস্থায়ী জন্য শেষ হচ্ছে। শিট আমি কিভাবে এই কথাটা মাথা থেকে দূর করে দিলাম। তাহলে কি নুসরাতের উপর মিশকাত আবার ভর করেছে?? এই মেয়েটা আমাকে পাগল করে দিবে। যদি নুসরাত এর উপর মিশকাত ভর করে থাকে,,,, তাহলে তিন্নির উপোর এখনো অনেক বিপদ আছে। আমাকে যত দ্রুত সম্ভব তিন্নিকে তার বাসায় রেখে আসতে হবে যতদিন মিশকাতের ব্যাপারটা শেষ না হয়।

তিন্নি তার বাপের বাড়িতেই নিরাপদ থাকবে। কারণ আমিও চাইনা তিন্নির উপর এখন কোন বিপদ আসুক। এমন সময় আননন নাম্বার থেকে একটি কল আসে,,,,

- কি ব্যাপার ফরহাদ ভালো আছো বেবি?
- কে বলছেন আপনি?
- মিশকাত হাহাহাহাহা। তুই কি ভেবেছিলি তুই পার পেয়ে যাবি আমার থেকে? এত তাড়া কেন বেবি? মাত্রতো এই মরন খেলা শুরু হলো,, পড়ে দেখো কি হয় এখনই কেন পালাচ্ছো? তোমার কাছে দুই দিনের সময় আছে,, এই দুই দিনের মধ্যে তোমার বউকে বাঁচাতে পারলে বাঁচিয়ে ও বেবি.।কারণ দুই দিন পরে তোমার বউকে আর পাবে না।
- তুই তিন্নিকে কোনদিনই পাবিনা আমি তোর হাতের নাগাল থেকে তিন্নিকে অনেক দূরে নিয়ে যাব।

এই বলে আমি কল কেটে দেই। এখন তিন্নিকে যত দ্রুত সম্ভব তার বাসায় দিয়ে আসতে হবে,ওখানেই এখন তিন্নি নিরাপদ। আমি অফিসে কল করে এক সপ্তাহর ছুটি নিয়ে নেই।

এর পরের দিন সকাল হতে না হতেই রওনা দিলাম শ্বশুর বাড়ির উদ্দেশ্যে। কিন্তু কে জানত আমার কপালটা যে এতটাই খারাপ। আমি ভুলেই গিয়েছিলাম যে এই ঘটনার সূত্রপাত সেখান থেকে শুরু হয়েছিল। আর এর শেষ যে এত ভয়াবহ হবে এটাও কে জানতো।

চলবে,,,,,,,
41 Views
0 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this:
(0)

মন্তব্য

কোন মন্তব্য নেই

সকল পর্ব