আমি অনিয়াকে ফেসবুক আইডি দিতে গিয়ে তো আমরা দুজনই অবাক । কারন,,,,
ফেসবুক আইডি দিতে গিয়ে দেখলাম অনিয়া আগে থেকেই আমাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দিয়ে রাখছে আর সেও আমার গল্পের অনেক বড় ফ্যান ।
আমি চোখ কপালে তুলে আমাকে জিজ্ঞাসা করলো,,,,,,
অনিয়াঃতুমিই সেই Dreamless Boy ।
আমিঃ হুমম ।
অনিয়াঃতুমিই সেই রাইটার পলাশ ।
আমিঃ হুমম । প্লিজ আসতে বলো । কাউকে যেন বইলো না প্লিজ ।
ও শুধু আমাকে অবাক হয়ে দেখতেছে ।
আমিঃ ওই কি হলো ।
অনিয়াঃতোমার মাথায় কি আছে দেখতেছি ।
আমিঃ কেন ?
অনিয়াঃকেমনে এতো সুন্দর গল্প লিখো ?
আমিঃ হইছে আর পাম দিতে হবে না তাহলে আমি উরে যাবো ।
অনিয়াঃ আমার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করো নি কেন ?
আমিঃ আমি তো চিনতাম না ।
অনিয়াঃ কেউ যাতে তোমাকে না চিনে । তোমার সাথে কেউ না মিশে সেজন্য এরকম সেজে কলেজে আসো তাই না ।
আমি শুধু মুচকি হাসলাম । একটু দূরে তাকিয়ে দেখি তানহা আর ছেলেগুলো যাচ্ছে । আর আমার দিকে তাকিয়ে আছে ।
তানহা মেয়েটা অনেক সুন্দর আছে কিন্তু অনেক অহংকারীও আছে । অনিয়া এর সাথে আরো কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে বাসায় চলে এলাম ।
বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করলাম । বিকেলে দেখি রিয়া ডাকতেছে ।
রিয়াঃ এই ভাইয়া উঠঠ ।
আমিঃ উমমম কি হইছে ।
রিয়াঃ ভাইয়া আমার একটু শপিংয়ে যেতে হবে।
আমিঃ আব্বু্কে বল ।
রিয়াঃ আব্বু তোর সাথে যেতে বলেছে ।
আমিঃ এখন শপিংয়ে যেতে পারবো না ।
রিয়াঃ তাহলে আমি আবার আব্বু কে কল করে বলে দিচ্ছি ।
আমিঃ এমন করিস কেন ?তুই একা যা ।
রিয়াঃ শপিং মলে অনেক বাজে ছেলেরা থাকে ।ওরা মেয়েদের কে টিজ করে । তুমি কি চাও ওরা আমাকে টিজ করুক ?
রিয়া তো ঠিক কথা বলছে । রিয়াকে বললাম,,,,,
আমিঃ আচ্ছা তুই রেডি হয়ে নে । আমিও রেডি হয়ে নেই । কিছুক্ষণ পর রেডি হয়ে বললাম,,,,,,
আমিঃ এখন চল ।
রিয়াঃ ভাইয়া আজকে তোর বাইক দিয়ে যাবো ।
আমিঃ তুই তো জানিস বাবা আমাকে বাইক চালাতে নিষেধ করছে ।
রিয়াঃ আমি বাবাকে বলেছি । কিছু বলবে না তুই চল ।
আমিঃ সত্যিই । তাহলে চল ।
রিয়াঃ হুমম চল ।
তারপর বাইকে করে রিয়াকে নিয়ে শপিং মলে চলে এলাম । তারপর বাইক পার্ক করে রিয়ার সাথে শপিং করতে লাগলাম । দেড় ঘন্টার ভেতর ওর শপিং শেষ হয়ে গেল।
শপিং মল থেকে বের হওয়ার সময় তানহার সাথে দেখা হয়ে গেল । আমাকে দেখে তানহা বলল,,,,,,
তানহাঃ কি রে গাঁইয়া ক্ষ্যাতের দেখছি গার্লফ্রেন্ড ও আছে । তা কেমনে পটালি এই মাইয়াকে ?
এমন কথা শুনে রিয়া রেগে গেল । কোনো কথা না বলেই ঠাস করে তানহার গালে থাপ্পড় মেরে দিলো ।
তানহাঃ ওই তোর এতো বড় সাহস আমাকে মারছিস । আজকে তোর কপালে অনেক দুঃখ আছে।
রিয়াঃ তোর মতো মেয়েকে এর চেয়ে ভালোভাবে বোঝানো যাবে না । আর তোর যা ইচ্ছে কর । দেখি তোর কত ক্ষমতা।
তানহাঃ একটু দেরী কর । দেখ তোর কি করি ।
রিয়াঃ তুই কি করবি হ্যাঁ বলেই রিয়া তানহাকে আরেকটা থাপ্পড় মেরে দিলো।
রিয়ার কান্ড দেখে হাসাবো না কাঁদবো বুঝতেছি না । এখন ওকে না থামালে আরও বড় ঝামেলা হয়ে যাবে । তাই রিয়াকে বললাম,,,
আমিঃ রিয়া থাম । আর আমার সাথে বাসায় চল ।
রিয়াঃ ভাইয়া আরেকটু দেরী কর । এই বদমাইস মাইয়াকে আরও কয়েকটা থাপ্পড় দিয়ে নেই ।
বলেই আবার মারতে যেতে লাগল । আমি রিয়াকে হাত ধরে থামালাম । এরপর মায়াকে বললাম,,,,,
আমিঃ কিছু মনে করবেন না । আমার ছোটবোন একটু এমনি । আমাকে কেউ কিছু বললে সহ্য করতে পারে না । আর মন খারাপ করবেন না ।এসব ভুলে যান কেমন । আমরা চলি তাহলে ।
বলে রিয়াকে নিয়ে ওখান থেকে চলে আসতে লাগলাম । মনে মনে অনেক হাসতে লাগলাম আর বললাম,,,,,
আমিঃ একদম উচিত শিক্ষা হইছে ।
চলবে,,,,,,,,,,,,
পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন ।
ছদ্মবেশী লেখক ( পর্ব ০৩ )
163
Views
11
Likes
0
Comments
4.3
Rating

কোন মন্তব্য নেই