ছদ্মবেশী লেখক ( পর্ব ০৩ )

পলাশ
পলাশ
লেখক
আমি অনিয়াকে ফেসবুক আইডি দিতে গিয়ে তো আমরা দুজনই অবাক । কারন,,,,

ফেসবুক আইডি দিতে গিয়ে দেখলাম অনিয়া আগে থেকেই আমাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দিয়ে রাখছে আর সেও আমার গল্পের অনেক বড় ফ্যান ।

আমি চোখ কপালে তুলে আমাকে জিজ্ঞাসা করলো,,,,,,

অনিয়াঃতুমিই সেই Dreamless Boy ।

আমিঃ হুমম ।

অনিয়াঃতুমিই সেই রাইটার পলাশ ।

আমিঃ হুমম । প্লিজ আসতে বলো । কাউকে যেন বইলো না প্লিজ ।

ও শুধু আমাকে অবাক হয়ে দেখতেছে ।

আমিঃ ওই কি হলো ।

অনিয়াঃতোমার মাথায় কি আছে দেখতেছি ।

আমিঃ কেন ?

অনিয়াঃকেমনে এতো সুন্দর গল্প লিখো ?

আমিঃ হইছে আর পাম দিতে হবে না তাহলে আমি উরে যাবো ।

অনিয়াঃ আমার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করো নি কেন ?

আমিঃ আমি তো চিনতাম না ।

অনিয়াঃ কেউ যাতে তোমাকে না চিনে । তোমার সাথে কেউ না মিশে সেজন্য এরকম সেজে কলেজে আসো তাই না ।

আমি শুধু মুচকি হাসলাম । একটু দূরে তাকিয়ে দেখি তানহা আর ছেলেগুলো যাচ্ছে । আর আমার দিকে তাকিয়ে আছে ।

তানহা মেয়েটা অনেক সুন্দর আছে কিন্তু অনেক অহংকারীও আছে । অনিয়া এর সাথে আরো কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে বাসায় চলে এলাম ।

বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করলাম । বিকেলে দেখি রিয়া ডাকতেছে ।

রিয়াঃ এই ভাইয়া উঠঠ ।

আমিঃ উমমম কি হইছে ।

রিয়াঃ ভাইয়া আমার একটু শপিংয়ে যেতে হবে।

আমিঃ আব্বু্কে বল ।

রিয়াঃ আব্বু তোর সাথে যেতে বলেছে ।

আমিঃ এখন শপিংয়ে যেতে পারবো না ।

রিয়াঃ তাহলে আমি আবার আব্বু কে কল করে বলে দিচ্ছি ।

আমিঃ এমন করিস কেন ?তুই একা যা ।

রিয়াঃ শপিং মলে অনেক বাজে ছেলেরা থাকে ।ওরা মেয়েদের কে টিজ করে । তুমি কি চাও ওরা আমাকে টিজ করুক ?

রিয়া তো ঠিক কথা বলছে । রিয়াকে বললাম,,,,,

আমিঃ আচ্ছা তুই রেডি হয়ে নে । আমিও রেডি হয়ে নেই । কিছুক্ষণ পর রেডি হয়ে বললাম,,,,,,

আমিঃ এখন চল ।

রিয়াঃ ভাইয়া আজকে তোর বাইক দিয়ে যাবো ।

আমিঃ তুই তো জানিস বাবা আমাকে বাইক চালাতে নিষেধ করছে ।

রিয়াঃ আমি বাবাকে বলেছি । কিছু বলবে না তুই চল ।

আমিঃ সত্যিই । তাহলে চল ।

রিয়াঃ হুমম চল ।

তারপর বাইকে করে রিয়াকে নিয়ে শপিং মলে চলে এলাম । তারপর বাইক পার্ক করে রিয়ার সাথে শপিং করতে লাগলাম । দেড় ঘন্টার ভেতর ওর শপিং শেষ হয়ে গেল।

শপিং মল থেকে বের হওয়ার সময় তানহার সাথে দেখা হয়ে গেল । আমাকে দেখে তানহা বলল,,,,,,

তানহাঃ কি রে গাঁইয়া ক্ষ্যাতের দেখছি গার্লফ্রেন্ড ও আছে । তা কেমনে পটালি এই মাইয়াকে ?

এমন কথা শুনে রিয়া রেগে গেল । কোনো কথা না বলেই ঠাস করে তানহার গালে থাপ্পড় মেরে দিলো ।

তানহাঃ ওই তোর এতো বড় সাহস আমাকে মারছিস । আজকে তোর কপালে অনেক দুঃখ আছে।

রিয়াঃ তোর মতো মেয়েকে এর চেয়ে ভালোভাবে বোঝানো যাবে না । আর তোর যা ইচ্ছে কর । দেখি তোর কত ক্ষমতা।

তানহাঃ একটু দেরী কর । দেখ তোর কি করি ।

রিয়াঃ তুই কি করবি হ্যাঁ বলেই রিয়া তানহাকে আরেকটা থাপ্পড় মেরে দিলো।

রিয়ার কান্ড দেখে হাসাবো না কাঁদবো বুঝতেছি না । এখন ওকে না থামালে আরও বড় ঝামেলা হয়ে যাবে । তাই রিয়াকে বললাম,,,

আমিঃ রিয়া থাম । আর আমার সাথে বাসায় চল ।

রিয়াঃ ভাইয়া আরেকটু দেরী কর । এই বদমাইস মাইয়াকে আরও কয়েকটা থাপ্পড় দিয়ে নেই ।

বলেই আবার মারতে যেতে লাগল । আমি রিয়াকে হাত ধরে থামালাম । এরপর মায়াকে বললাম,,,,,

আমিঃ কিছু মনে করবেন না । আমার ছোটবোন একটু এমনি । আমাকে কেউ কিছু বললে সহ্য করতে পারে না । আর মন খারাপ করবেন না ।এসব ভুলে যান কেমন । আমরা চলি তাহলে ।

বলে রিয়াকে নিয়ে ওখান থেকে চলে আসতে লাগলাম । মনে মনে অনেক হাসতে লাগলাম আর বললাম,,,,,

আমিঃ একদম উচিত শিক্ষা হইছে ।

চলবে,,,,,,,,,,,,

পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন ।
163 Views
11 Likes
0 Comments
4.3 Rating
Rate this:
(4)

মন্তব্য

কোন মন্তব্য নেই