কয়েকদিন ধরে পড়ার মাঝে বারবার জানতে চায় আমি যাকে পছন্দ করি তার নাম। ওর কথা বলার ধরন এবং এতো জানার আগ্রহ দেখে আমি কিছুটা বুঝে নিয়েছি ওহ হয়তো বুঝতে পেরেছে আমি ওকেই পছন্দ করি।
আমার ভয়টা একটু কেটেছে। মনে হচ্ছে এখন যদি ওকে বলি তাহলে বুঝবে, ওর মাকে বলে দিবেনা।
সন্ধ্যার পরে গেলাম পড়াতে। কিছুক্ষণ পড়ানোর পর শুরু করেছে প্রশ্ন করা।
তিশা: স্যার বলেন কাকে পছন্দ করেন? আমার এটা জানতে খুব ইচ্ছে করছে।
আমি : কেনো তোমার এটা নিয়ে এতো কৌতুহল?
তিশা: জানিনা। আমার এটা বারবার মনে পরছে। প্লিজ বলেন। আচ্ছা আপনাকে নামটা বলতে হবেনা।
[খাতা থেকে এক টুকরো কাগজ ছিরে বললো]
এটাতে লিখে দিন। আমি শুধু একবার দেখে ছিড়ে ফেলবো। প্লিজ প্লিজ প্লিজ এটাতে লিখে দিন...
আমি: আচ্ছা লিখে দিচ্ছি। তুমি নামটা দেখে রাগ করবেনা।
তিশা: আচ্ছা রাগ করবো না। লিখে দেন।
আমি কাগজটা হাতে নিয়ে খুব ভয়ে ভয়ে Tisha লিখলাম। কাগজ টা ভাজ করে পকেটে ঢুকিয়ে নিলাম। বললাম পরে দিবো। এখন পড়ো।
তিশা: আচ্ছা দিবেন কিন্তু ওটা।
রুটিন অনুযায়ী পড়ানো শেষের দিকে । তিশার মা মোটামুটি কাছেই একটা কাজ করছে। তিশার দিকে তাকাতেই দেখলাম ও আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ইশারা দিলো কাগজটা দেয়ার জন্য। ওর মা কাছে তাই বলতে পারছে না।
আমি ইশারা বুঝেও না বোঝার ভান করছি। আবার ওর দিকে তাকাতে বুঝলাম ও খুব রেগে আছে। কাগজটা পকেট থেকে বের করে হাতটা এগিয়ে দিলাম ওর দিকে। তিশা আমার হাত থকে কাগজটা দ্রুত নিয়ে নিলো। আমি যাচ্ছি বলে সাথে সাথে ওদের ঘর থেকে বেরিয়ে চলে এলাম।
সারারাত ঘুম হয়নি টেনশনে। বারবার মনে হচ্ছিল কতকিছু।
একবার মনে হয় ও এটা ওর মাকে বলে দিবে।
আবার মনে হয় ও নিজেই আমাকে বকা দিবে।
ভাবতে ভাবতে সকাল হয়ে গেলো। ফ্রেশ হয়ে সিড়ি নিচে নামতেছি। হঠাৎ দেখি তিশা আমার সামনে। স্কুলে যাচ্ছে। ওর সামনে অনেক লজ্জা পাচ্ছি। ওর দিকে তাকাচ্ছি না। কোনো কথাও বলছি না। আমার মনে হচ্ছিল দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে আমার। তিশা সালাম দিয়ে আমার দিকে একনজর তাকিয়ে স্কুলে চলে গেলো। আর কোনো কথা বললো না।
সারাদিন আবার ভাবতে লাগলাম আজকে ওদের বাসায় যাবো কি যাবোনা। গেলে কি যে হবে তা এখনো আমি জানিনা। স্থীর করলাম, ওদের বাসায় যাবো। যা হবার হবে।
একটা মিষ্টি প্রেমের গল্প (পর্ব ৫)
403
Views
9
Likes
4
Comments
4.3
Rating

সকল মন্তব্যগুলো (4)
part 6???
aro liko khub khub Valo hoyeche🥰👍🥰👍
porer porbogulu din taratari
পরবর্তী পর্ব গুলো দেন অপেক্ষায় রইলাম 🤔🤔