মামাতো বোন যখন রোমান্টিক বউ (পর্ব ১১)

হঠাৎ করে বাড়ির সমস্ত লাইটগুলো জ্বলে উঠলো। লাইট জ্বলতেই দেখতে পেলাম সারাটা বাড়ি বেলুন এবং নানারকম ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে।
আলো জ্বালার সাথে সাথে কোত্থেকে সবাই এসে হাজির হয়ে মৃদু গলায় বলতে লাগলো-

সবাই মিলে: Happy birthday to you. Happy birthday to you. Happy Birthday dear অরণ্য....


ভুলেই গিয়েছিলাম আজ আজ আমার জন্মদিন।
কিন্তু তখনো আমি মাথা থেকে তিথির চিন্তা বাদ দিতে পারিনি।  আমি প্রচন্ড অবাক হলাম সবার এমন আচরণ দেখে! তিথিকে নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না আর সবাই আমার Birthday নিয়ে পড়েছে! কিছুটা ইতস্তত করে মাকে জিজ্ঞেস করলাম-

আমি: মা, তুমি যে বললে তিথিকে নাকি কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না! আর তোমরা এখানে আমার Birthday Arrange করেছো! তোমাদের কি ওকে নিয়ে একটুও চিন্তা হচ্ছে না! চাচচু,, তুমি এই মূহুর্তে আমার সাথে চলো! মেয়েটা এখন কোথায়,, কি করছে,, কে জানে! চলো চাচচু চলো। এদের সাথে রং তামাশা করার সময় এখন আমাদের হাতে নেই! Immediately আমাদের ওর কাছে গিয়ে পৌঁছাতে হবে।

আমার তিথিকে নিয়ে এত অস্থিরতা দেখে কেন জানি সবাই হা. হা. হা. হা. হা. হা. হা. করে হাসতে শুরু করে দিল! আমি তাদের এমন আচরণে কিছুই বুঝতে পারলাম না। অবাক হয়ে শুধু সবার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম। হঠাৎ পেছন থেকে তিথির কণ্ঠ শুনতে পেলাম -

তিথি: Happy birthday to you,, অরণ্য।

তিথির কণ্ঠস্বর শুনতে পেয়ে আমি পেছনের দিকে ঘুরে তাকাতেই দেখতে পেলাম সে (তিথি) একটা নীল কালারের শাড়ি পড়ে আছে। হাতে নীল রঙের কাঁচের চুড়ি,, কানে ঝুমকো,, নাকে অসাধারণ নকশা করা একটি নাকফুল।
দেখে মনে হচ্ছে আমি তাকে জড়িয়ে ধরি। মনে হচ্ছে তাকে বুকে টেনে নিই। তার ঠোঁটে একটা ভালোবাসার পরশ এঁকে দিই...........

তিথি: কি গো,, কি ভাবছো তুমি?

তিথির কথাটা শুনে চমক ভাঙলো। কিছুটা অবাক অবাক ভাব নিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম-

আমি: কিরে তিথি,, তুই এখানে! তোকে না খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না! তাহলে তুই এখানে......
আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না! হচ্ছেটা কি আমার সাথে!!

আমার কথাটা শুনে সকলে মিলে আবার খিকখিক করে হাসতে আরম্ভ করে দিল।

কিছুক্ষণ হাসার পর তিথি একটু কোমল স্বরে বলল-

তিথি: তোমাকে কিছু বুঝতে হবে না! রুমে যাও,, দেখবে বিছানার ওপর তোমার পোশাক রাখা আছে। তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে সেগুলো পড়ে নিচে এসো।

তিথির কথা শুনে আমি খানিকক্ষণ সবার দিকে হাঁদারামের মতো তাকিয়ে থেকে ওপরে চলে গেলাম...

রুমে এসে দেখি বিছানার ওপর আমার কাপড় রাখা আছে। আমি দ্রুত ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আবার নিজের রুমে ফিরে এলাম। বিছানার উপর রাখা কাপড় গুলো পরিধান করে আবার নিচে ফিরে এলাম।
আমি নিচে ফিরে আসতেই মা আমার দিকে একটা ছুরি এগিয়ে দিয়ে বললেন-

মা: এই নে অরণ্য,, ছুরিটা দিয়ে কেকটা কাট.....

মায়ের কথা অনুযায়ী আমি ওনার হাত থেকে ছুরিটা নিলাম এবং কেক রাখা টেবিলটার দিকে এগিয়ে গেলাম।
টেবিলের সামনে এসে কেকের সাথে জড়িয়ে রাখা মোমবাতি গুলো নিভিয়ে দিলাম। আর সবাই মিলে আবার মৃদু হেসে বলতে লাগলো-

সবাই মিলে: Happy birthday to you.. Happy birthday to you dear অরণ্য.. Happy birthday to you..

সবগুলো মোমবাতি নিভিয়ে দিয়ে আমি কেক কাটতে আরম্ভ করলাম।
কেকের প্রথম টুকরোটা কেটে আমি যেই তিথিকে খাইয়ে দিতে যাবো এমন সময় মিম আমার হাতটা টেনে ধরে তার মুখে কেকের টুকরোটা ঢুকিয়ে দিল।
আর একটা পেত্নির মতো হাসি দিয়ে বললো-

মিম: প্লিজ কেউ কিছু মনে করো না,, আসলে আমি চেষ্টা করে সবকিছুতেই ফার্স্ট হওয়ার। তবে এটাতে লাস্ট হই কিসে!
নতুন ভাবি প্লিজ তুমিও কিছু মনে করো না! অরণ্য ভাইয়া তুমি বরং এবার একটা কেকের টুকরো ভাবিকেও খাইয়ে দাও! দেখছো না,, মুখটা কেমন ভার করে রেখেছে!

মিমের কথাটা শুনে তিথি খানিকক্ষণ আমার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে চোখ থেকে দু-এক ফোঁটা জল ঝরিয়ে সেখান থেকে ওপরতলার দিকে চলে যেতে লাগলো।
আমিও তাকে ডাকতে ডাকতে তার পিছুপিছু ছুটতে লাগলাম।



পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন। এই পর্বটা কেমন হয়েছে অবশ্যই রিভিউ দিয়ে জানাবেন।
আর ভুল-ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
জানি,, এই পর্বটা একটু ছোট হয়ে গেল। কিন্তু কি করবো বলুন,, মাথায় কিছুতেই প্লট আসতে চাচ্ছে না। অনেক কষ্টে করে এটুকু লিখতে পেরেছি!
পরের পর্ব আরো বড়ো করে দেওয়ার চেষ্টা করবো।

ততক্ষণ পর্যন্ত সাথেই থাকুন।
107 Views
19 Likes
2 Comments
5.0 Rating
Rate this:
(21)

মন্তব্য

সকল মন্তব্যগুলো (2)

Reader photo
রাজীব
19-Sep-2024, 09:08 AM

চমৎকার

Reader photo
রাজশ্রী
18-Sep-2024, 10:37 PM

দারুণ

সকল পর্ব