মামাতো বোন যখন রোমান্টিক বউ (পর্ব ০৬)

(৫ম পর্বের পর থেকে.......................)

তিথি: কিরে অরণ্য, কি সিদ্ধান্ত নিলি তুই?

আমি: কিসের সিদ্ধান্ত! (অবাক হয়ে)

তিথি: কিসের আবার আমাদের বিয়ের।

তিথির মুখে আমাদের বিয়ের কথা শুনে আমি কি উত্তর দেবো কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। আমার মাথা আর কাজ করছে না। কি বলবো আমি- তিথি আমি তোকে পালিয়ে বিয়ে করতে রাজি। কিন্তু মা যে রোজ ওনার মনের মাঝে আমার বিয়ে নিয়ে যে স্বপ্নগুলো সাজান সেগুলোর কি হবে। এক ঝটকায় আমি ওনার মনের মাঝে সাজানো স্বপ্নগুলো ভেঙ্গে চুরমার করে দেবো। ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি একজন মায়ের মন ভাঙ্গা একটি মসজিদ ভাঙার সমান। কি করবো আমি! না.না. এভাবে চুপ করে থাকলে কোন সমস্যারই সমাধান হবে না। আমি তিথিকে যা বলতে চাচ্ছি তা তাকে বলতেই হবে।
নিজেকে শক্ত করে আমি তিথিকে বলতে লাগলাম-

আমি: তিথি আমি তোকে এখন যে কথাগুলো বলতে চলেছি সেগুলো শুনলে হয়তো তুই প্রচুর কষ্ট পাবি। কিন্তু আমার কিছু করার নেই রে। আমি বাধ্য হচ্ছি এ কথাগুলো বলার জন্য। শোন- তোকে একটা ঘটনা বলি- আজ থেকে প্রায় ছয় মাস আগের কথা.... আমাদের পাশের বিল্ডিং এর মামুন ভাই হঠাৎ একদিন পালিয়ে বিয়ে করে তার বউকে বাড়িতে নিয়ে আসে। কিন্তু সেই বিয়েটা কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি মামুন ভাইয়ের মা মোমেনা খালা। কারণ- ওনার স্বপ্ন ছিল তিনি নিজে ছেলের জন্য বউ ঠিক করবেন। বৌমাকে নিজ হাতে বরণ করে ঘরে তুলবেন। এছাড়াও তিনি আরো অনেক স্বপ্ন দেখতেন ছেলের বিয়ে নিয়ে। কিন্তু ওনার ছেলে ওনাকে না জানিয়ে ঘরে বউ নিয়ে আসার কারণে তিনি সেদিন রাত্রেই ফাঁসি লেগে আত্মহত্যা করেন। সেই ঘটনার কিছুদিন পর মা আমায় ওনার কাছে ডেকে নিয়ে বললেন; আমিও যদি মামুন ভাইয়ের মতো পালিয়ে বিয়ে করি তাহলে তিনিও মোমেনা খালার মত আত্মহত্যা করবেন। তাই বলছি কি তিথি,, আমি কাউকে না জানিয়ে তোকে বিয়ে করতে পারব না। তুই আমায় ক্ষমা করিস।

তিথি: বিয়ে করতে পারবি না! বিয়ে করতে পারবি না তো কেন এতদিন ধরে তুই আমায় বলে গেছিস,, তিথি আমি তোকে খুব ভালোবাসি। তোকে ছাড়া আমি বাঁচবো না। "আমার যদি কাউকে বিয়ে করতেই হয় তাহলে তো কি করব,, আর অন্য কাউকে নয়!" তুই আমার, শুধুই আমার। তাহলে এই কথাগুলো সব মিথ্যে ছিল। আমাকে ভালোবাসাটা তোর পুরোটাই নাটক ছিল। কিন্তু তুই কেন এমনটা করলি আমার সাথে। এর জন্য তোকে আমি কোনদিনও ক্ষমা করব না। কোনদিনও না।

রাগী ও কান্না মিশ্রিত কন্ঠে কথাগুলো বলে তিথি ঘাসের উপর রাখা তার ফোনটা নিয়ে হনহনিয়ে সামনের দিকে চলে গেল। আমি নিজের বাম হাতটা সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে তিথিকে একটা ডাক দিতে চাইলাম। কিন্তু কোন এক অদৃশ্য শক্তি আমায় বাধা দিল। চেয়েও আমি তিথিকে একটা ডাক দিতে পারলাম না। অবশ্য তাকে ডেকেই বা কি বলবো! তার সাথে কথা বলার জন্য আমি কোন ভাষায় খুঁজে পাচ্ছি না।

******************************

বেশ অনেকক্ষণ পার্কে বসে থাকার পর বেলা বারোটার দিকে আবার বাড়িতে ফিরে এলাম। বাইকটা আবার গ্যারেজে রেখে দিয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলাম।
বাড়িতে প্রবেশ করে নিজের রুমে ঢুকতে যাবো এমন সময় হঠাৎ বাবার কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম।

বাবা: কিরে অরণ্য তুই তিথি মাকে নিয়ে কোথায় গেছিলি।

আমি: ওই তো,, ওর একটা বান্ধবীর বাসায়। (মিথ্যে বললাম)

আব্বু: কেন গেছিলি?

আমি: কেন গেছিলাম মানে!

আব্বু: মানেটা তো এখন তুই আমায় বলবি।

আমি: আব্বু তুমি এসব কি আলতু ফালতু প্রশ্ন করছ বলো তো। আমায় এতো জেরা করছো কেন?

আব্বু: এই বেয়াদব.. যেটা প্রশ্ন করেছি শুধুমাত্র সেটার উত্তর দে। এত বকবক করছিস কেন?

আমি: আর ক'দিন বাদেই তো তিথির বিয়ে। তাই তিথি আমায় বলেছিল; ওর ওই বান্ধবীটা নাকি ওর বেস্ট ফ্রেন্ড। ওর বেস্ট ফ্রেন্ডকে নাকি সে বিয়েতে দাওয়াত দেবে। তাই আমরা দুজনে মিলে ওর বেস্ট ফ্রেন্ডকে বিয়ের দাওয়াত দিতে গেছিলাম।

আব্বু: আচ্ছা, তাহলে এই ব্যাপার! তিথির বিয়ের কথা তুই যদি আগে থেকেই জানতিস তাহলে আমি যে তখন তোকে বললাম অরণ্য আজ একটা দূর্দান্ত সুসংবাদ আছে। তখন তুই কেন এত উৎফুল্ল নিয়ে আমার কাছে সুসংবাদ টা জানতে চাইছিলি!

আমি: এমনিই আর কি।

আব্বু: এমনিই তাই না,, এমনিই,, হা*রা*ম*জা*দা..

এই বলে আব্বু আমার দুই গালে ঠাস করে দুটো চর বসিয়ে দিলেন। কিন্তু কেন দিলেন তা আমি কিছুতেই বুঝতে পারলাম না।
ততক্ষণে মা'ও এখানে এসে হাজির হয়ে গেছেন। হয়তো আমার মার খাওয়ার দৃশ্যটা'ও দেখে ফেলেছেন। আরো সামনে এগিয়ে এসে মা বাবাকে উদ্দেশ্য করে চড়া গলায় বললেন-

মা: কি হয়েছে আশফাক! তুমি আমার ছেলেকে মারছো কেন!

মা'র কথাটা শুনে আব্বু আমার দিকে খানিকক্ষণ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে যে কথাটা বললেন আমি তখনো সেই কথাটা শোনার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না।

(পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন।
এই পর্বটা কেমন লাগলো অবশ্যই আপনাদের মূল্যবান মতামত দ্বারা আমায় জানাবেন। এই পর্বটা ভালো লেগে থাকলে লাইক রেটিং দিতে একদমই ভুলবেন না। আর আমায় ফলো করতে তো একদমই না।)
497 Views
30 Likes
8 Comments
4.9 Rating
Rate this:
(28)

মন্তব্য

সকল মন্তব্যগুলো (8)

Reader photo
গল্প প্রেমী
19-Sep-2024, 08:10 PM

অসম্ভব সুন্দর লিখেছেন

Reader photo
রাজশ্রী
18-Sep-2024, 10:34 PM

অসাধারণ

Reader photo
ফাতেমা আক্তার
15-Aug-2024, 10:55 AM

দারুন দারুন লিখেছেন

মোঃ আলমগীর হোসেন (আতিক)
মোঃ আলমগীর হোসেন (আতিক)
15-Aug-2024, 04:06 PM

অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে

Reader photo
🇧🇩
14-Aug-2024, 05:31 PM

👌👌👌💯💯

মোঃ আলমগীর হোসেন (আতিক)
মোঃ আলমগীর হোসেন (আতিক)
14-Aug-2024, 06:27 PM

হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ বার ধন্যবাদ আপনাকে

Reader photo
আইয়ূব আলী
30-Jul-2024, 08:59 PM

খুব ভালো লেগেছে

মোঃ আলমগীর হোসেন (আতিক)
মোঃ আলমগীর হোসেন (আতিক)
16-Aug-2024, 12:10 AM

ধন্যবাদ আপনাকে

Reader photo
আমি তোমায় ভালোবাসি
30-Jul-2024, 02:39 PM

দারুণ

মোঃ আলমগীর হোসেন (আতিক)
মোঃ আলমগীর হোসেন (আতিক)
23-Aug-2024, 10:54 PM

ধন্যবাদ

Reader photo
আমি তোমায় ভালোবাসি
29-Jul-2024, 11:08 AM

পড়ে খুব ভালো লাগলো।পরবর্তী পর্ব কবে দেবেন

Reader photo
আমি তোমায় ভালোবাসি
29-Jul-2024, 11:08 AM

অসাধারণ

মোঃ আলমগীর হোসেন (আতিক)
মোঃ আলমগীর হোসেন (আতিক)
21-Aug-2024, 11:06 PM

ধন্যবাদ

সকল পর্ব