মামাতো বোন যখন রোমান্টিক বউ (পর্ব ০৫)

(৪র্থ পর্বের পর থেকে............)

তিথির কথাটা শুনে আমি নিজের কানকে কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারলাম না। তাই আমি ওকে একটু রাগান্বিত স্বরে বললাম -‌‍‍

আমি: পাঁচদিন পর তোর বিয়ে মানে! এসব কি আলতু ফালতু বকছিস তুই!

তিথি: কোনো আলতু ফালতু কথা নয় এগুলো।
যা বলছি সব সত্যি বলছি।

আমি: তুই আমার সাথে মজা করছিস তাই না! (মুচকি হেসে)

তিথি: না, একদমই না, আমি তোর সাথে মজা করতে যাব কেন? আচ্ছা আমার কথা তোর বিশ্বাস হচ্ছে না তো! তাহলে তুই বরং আঙ্কেলকে ফোন করে বল উনি কোথায় এবং কি করছেন?

আমি: বাবাকে ফোন করে কি হবে! (অবাক হয়ে)

তিথি: কিছুই হবে না যেটা বলছি শুধু সেটা কর! (ঝাঁঝালো কণ্ঠে)

তিথির কথাটা শুনে আমি পকেটে হাত ঢোকালাম ফোনটা বার করার জন্য। কিন্তু একি ভুলে ফোনটা ডাইনিং টেবিলে রেখে চলে এসেছি। তাই আমি তিথি কে বললাম -

আমি: তিথি তোর ফোনটা একটু দিবি! আমার ফোনটা না বাড়িতে রেখে চলে এসেছি।

আমার কথাটা শুনে তিথি কিছুটা রেগে গিয়ে বলল-

তিথি: How can you be so careless about important things.

আমি: ঠিক আছে, দিতে পারবি না তো থাক! আমি এমনিতেই তোর কথা বিশ্বাস করলাম যা!

তিথি: এই তুই এত কথা বলিস কেন বলতো। এই নে ধর ফোন!

এই বলে তিথি আমার দিকে তার ফোনটা এগিয়ে দিল। আমি কাঁপা কাঁপা হাতে ফোনটা হাতে নিলাম। ফোনটা হাতে নিয়ে অন করতেই দেখি পাসওয়ার্ড চাইছে। তাই আমি তিথিকে জিজ্ঞেস করলাম-

আমি: তিথি ফোনের পাসওয়ার্ড টা কি রে?

তিথি: তোর নাম কি?

আমি: এই তোর কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে নাকি! আমার নামের সাথে পাসওয়ার্ড এর কি সম্পর্ক!

তিথি: এই তোকে না বলেছি আমি যখন যেটা প্রশ্ন করব তখন তুই শুধুমাত্র সেই প্রশ্নের উত্তর দিবি! আর বাইরের একটা কথাও নয়!

আমি: Ok. আমার নাম অরণ্য। শান্তি.......

তিথি: ইংরেজিতে শুধু তোর নামটা বল! এত আমার নাম আমার নাম বলতে হবে না!

আমি: Aranya.

তিথি: হুম, এখন নামটা পাসওয়ার্ড এর জায়গায় লেখ, ফোনের লক খুলে যাবে!

আমি: আগে বললেই হতো, এত প্রশ্ন করার কি প্রয়োজন ছিল! বাঁচাল কোথাকার।

তিথি: কিছু বললি!

আমি: না বললাম লক খুলে গেছে। এবার আব্বুকে ফোন দেব!

তিথি: হুম, তাড়াতাড়ি দে।

এরপর আমি তিথির ফোনের কললিস্টে গিয়ে আব্বুকে কল দিলাম। প্রথমবার কেন জানি আব্বু কলটা রিসিভ করল না। আরো দু- তিনবার কল দেয়ার পর অবশেষে আব্বু কলটা রিসিভ করল।

আমি: হ্যালো আব্বু!

আব্বু: হ্যালো, অরণ্য নাকি রে!

আমি: হ্যাঁ আব্বু।

আব্বু: তুই তিথি মায়ের ফোন দিয়ে কল দিয়েছিস কেন? আমার তিথি মায়ের কিছু হয়নি তো!

আমি: না আব্বু তিথি সুস্থ আছে! আসলে ও আর আমি একটা জায়গায় এসেছি! আমার ফোনটা বাড়িতে ফেলে এসেছি! তাই ওর ফোন দিয়ে তোমাকে কল দিয়েছি।

আব্বু: ও...... আমি তো টেনশনে পড়ে গিয়েছিলাম! "বাদ দে ওসব কথা" কি জন্য ফোন করেছিস বল?

আমি: আব্বু, তুমি এখন কোথায়!

আব্বু: তোর মামুর বাসায়। কেন?

আমি: তুমি ওখানে কি করছো?

আব্বু: একটা দূর্দান্ত সুখবর আছে রে অরণ্য।

যদিও আমি জানি আব্বু আমায় কি সুখবর দিতে চলেছে! তবু আমি আমার মনের কষ্টটা মনেই ধামাচাপা দিয়ে বিষণ্ণ গলায় বললাম -

আমি: কি সুখবর আব্বু?

আব্বু: কিরে তোর গলাটা এমন শোনাচ্ছে কেন?

আমার মুখ থেকে কোন আওয়াজই বের হচ্ছে না! আমার মনে হচ্ছে আমি বুঝি বোবা! তবুও অনেক কষ্টে মাত্র কয়েকটা শব্দ বলতে পারলাম -

আব্বু: ও কিছু না, তুমি যেটা বলতে চাইছিলে সেটা বলো।

আব্বু: শোন তাহলে- আজ তোর মামু আর আমি মিলে তোর বোনের বিয়ে ঠিক করে ফেললাম। ছেলে দেখতে শুনতে মাশাল্লাহ লাখে একটা। এক্কেবারে নায়কের মতো চেহারা! বয়স মাত্র ২৭ - ২৮ বছর হবে। কিন্তু এই বয়সেই সে বাংলাদেশের টপ বিজনেসম্যানদের মধ্যে একজন হয়ে উঠেছে। শুধু আমাদের দেশেই নয় আমাদের আশেপাশের কয়েকটি দেশেও তার প্রচুর নাম ডাক যশ খ্যাতি সুনাম রয়েছে। ও...... ছেলেটার নামটাই তো তোকে বলা হলো না! ছেলেটার নাম‌‌‌ আবির চৌধুরী। ছেলেটার সব পরিচয় তো দিলাম! এবার বল- তোর বোনের বিয়ের কথা শুনে খুব কতটা খুশি হয়েছিস।

আব্বুর শেষ কথাটা শুনে কি উত্তর দেব কিছুই বুঝতে পারছি না। আমার গলা থেকে আর কোন আওয়াজই বের হচ্ছে না। নিজের অজান্তেই চোখের কোণে জল চলে এলো। ফোনটা লাউড স্পিকারে ছিল! আমার সাথে সাথে তিথিও বাবার বলা সব কথা শুনে ফেলেছে! ওর দিকে তাকাতেই দেখলাম ওর চোখ থেকে দু - এক ফোঁটা জল গড়িয়ে নিচে পড়ছে! আমি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছি না!বসে পড়লাম নিচে, ঘাসের ওপর। পেছনে রাখা গোলাপ ফুলগুলো এক ঝটকায় অনেক দূরে ছুঁড়ে মারলাম। এবার আমার চোখ থেকেও দু - এক ফোঁটা জল গড়িয়ে নিচে পড়ল। তিথির ফোনটা নিচে রেখে দিয়ে আমি মনে মনে ভাবতে লাগলাম- আল্লাহ তুমি আমার কেন এত নিষ্ঠুর হলে! কি দোষ করেছিলাম আমি যে তুমি আমায় এত বড় শাস্তি দিচ্ছো! আল্লাহ প্লিজ; তুমি তিথিকে আমার করে দাও! তিথি শুধু আমার, শুধুই আমার! তিথিকে আমি আর অন্য কারোর হতে দেখতে পারব না! প্লিজ আল্লাহ; তুমি তিথিকে আমার করে দাও।

কথাগুলো আপন মনে ভাবছিলাম হঠাৎ তিথি আবার বলে উঠলো-


(পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন। আর এই পর্বটা যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই লাইক, কমেন্ট, রেটিং আর আমায় ফলো করতে ভুলবেন না। )
481 Views
36 Likes
7 Comments
5.0 Rating
Rate this:
(29)

মন্তব্য

সকল মন্তব্যগুলো (7)

Reader photo
তিশা
19-Sep-2024, 10:35 PM

চমৎকার হয়েছে

Reader photo
সাকিপ ইসলাম
27-Aug-2024, 12:17 PM

অসাধারণ

মোঃ আলমগীর হোসেন (আতিক)
মোঃ আলমগীর হোসেন (আতিক)
27-Aug-2024, 01:13 PM

ধন্যবাদ

Reader photo
ফাতেমা আক্তার
15-Aug-2024, 10:54 AM

কলম‌ চলুক

মোঃ আলমগীর হোসেন (আতিক)
মোঃ আলমগীর হোসেন (আতিক)
16-Aug-2024, 12:09 AM

ধন্যবাদ আপনাকে

Reader photo
🇧🇩
14-Aug-2024, 04:45 PM

Wow beautiful story 👌👏👏

মোঃ আলমগীর হোসেন (আতিক)
মোঃ আলমগীর হোসেন (আতিক)
14-Aug-2024, 04:45 PM

দয়া করে লাইক দিয়ে যাবেন

Reader photo
আইয়ূব আলী
30-Jul-2024, 08:58 PM

অসাধারণ

মোঃ আলমগীর হোসেন (আতিক)
মোঃ আলমগীর হোসেন (আতিক)
20-Aug-2024, 08:36 AM

ধন্যবাদ

Reader photo
আমি তোমায় ভালোবাসি
29-Jul-2024, 11:42 AM

আমি আপনার গল্পের নিয়মিত পাঠক

মোঃ আলমগীর হোসেন (আতিক)
মোঃ আলমগীর হোসেন (আতিক)
18-Aug-2024, 12:02 PM

ধন্যবাদ আপনাকে

Reader photo
আমি তোমায় ভালোবাসি
29-Jul-2024, 11:36 AM

অসম্ভব সুন্দর

মোঃ আলমগীর হোসেন (আতিক)
মোঃ আলমগীর হোসেন (আতিক)
15-Aug-2024, 12:27 AM

ধন্যবাদ আপনাকে,, এই যুগে আপনার মতো এত ভালো পাঠক পাওয়াই যায় না। গল্প সমাহারে অনেক পাঠক দেখলাম যারা শুধু গল্প পড়েই চলে যায়। কোন লাইক , রেটিং, মন্তব্য না দিয়ে!

সকল পর্ব