ACT 1: Remon
Episode 2: A Name From The Past
অব্রয় মেনশন—
শহরের একদম শেষ প্রান্তে, যেখানে শহরের কোলাহল ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায় আর শুরু হয় অদ্ভুত এক নীরবতা, সেই জঙ্গলের গভীর পথ পেরিয়ে পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে আছে এই প্রাচীন ম্যানসনটি।
প্রথম দেখাতেই বোঝা যায়—এটা কোনো সাধারণ বাড়ি না।
দেয়ালগুলোতে সময়ের দাগ স্পষ্ট, জায়গায় জায়গায় ছত্রাক জমে আছে, যেনো বহু বছর ধরে কেউ এই জায়গাটাকে স্পর্শই করেনি। লোহার ভারী গেটটা আধখোলা, আর চারপাশের নিস্তব্ধতা এমন, যেনো প্রকৃতিও এখানে শ্বাস নিতে ভয় পায়।
এই ম্যানসনেই বসবাস করে অব্রয় পরিবার।
এই শহরে এমন মানুষ পাওয়া কঠিন, যারা তাদের নাম শোনেনি। তাদের বিশাল ব্যবসা, প্রভাব, আর রহস্যময় জীবনযাপন—সব মিলিয়ে তারা এক অদ্ভুত আকর্ষণের কেন্দ্র। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাদের সম্পর্কে আসলে কেউ কিছুই জানে না।
ডেভিড অব্রয়—
এই পরিবারের প্রধান।
লোকটা খুবই কম কথা বলেন। কিন্তু তার প্রতিটা কথায় এমন এক ভার থাকে, যেনো তিনি এমন কিছু জানেন যা অন্য কেউ জানে না। তার চোখের গভীরে লুকিয়ে আছে বহু বছরের অভিজ্ঞতা—না, শুধু বছর না… যেনো শতাব্দীর।
সেই রাতেও, ম্যানসনের এক অন্ধকার ঘরে দাঁড়িয়ে তিনি ধীরে বললেন—
“সে ফিরে এসেছে…”
তার কণ্ঠে কোনো আবেগ নেই, কিন্তু শব্দগুলো ঘরের দেয়ালে প্রতিধ্বনি হয়ে যেনো ভারী হয়ে উঠলো।
ডিয়ান্থা অব্রয়, জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ধীরে তার দিকে তাকালো।
তার মুখে অদ্ভুত এক শান্ত সৌন্দর্য, কিন্তু চোখে স্পষ্ট দুশ্চিন্তা।
“তুমি নিশ্চিত?”—সে নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করলো।
ডেভিড ধীরে জানালার দিকে এগিয়ে গেলেন। বাইরে গভীর অন্ধকার, দূরের জঙ্গল যেনো নিঃশ্বাস ফেলে থেমে আছে।
“অনুভব করেছি…”—তিনি বললেন।
“এই উপস্থিতি ভুল হওয়ার নয়।”
এক মুহূর্তের জন্য তার চোখে লাল আভা ঝলসে উঠলো।
ডিয়ান্থা সেটা লক্ষ্য করলেও কিছু বললো না।
“আমরা যতবারই পালাই না কেন…”
“সে আমাদের খুঁজে নেবে।”
ডিয়ান্থা এবার একটু সামনে এগিয়ে এলো।
“তাহলে কি আমরা আবার শহর বদলাবো?”
“এতবার পালিয়ে বেড়ানো… আর কতদিন?”
তার কণ্ঠে ক্লান্তি, আর কোথাও যেনো ভয় লুকিয়ে আছে।
ডেভিড মাথা নাড়লেন।
“না… এবার আর না।”
তিনি ধীরে ঘুরে দাঁড়ালেন।
“এতো বছর ধরে আমরা নিজেদের লুকিয়ে রেখেছি।
এখন আর পেছনে ফেরার সুযোগ নেই।”
একটু থেমে আবার বললেন—
“আমি চাই না… তার প্রভাব আবার আমাদের ছেলের উপর পড়ুক।”
ঘরের বাতাস হঠাৎ যেনো ভারী হয়ে উঠলো।
ডিয়ান্থার চোখে এক ঝলক আতঙ্ক দেখা গেল।
“রেমন…”—সে ফিসফিস করে বললো।
ডেভিডের কণ্ঠ এবার আরও নিচু—
“সে কোথায়?”
কোনো উত্তর নেই।
শুধু দূরের করিডর থেকে যেনো কারও পায়ের শব্দ ভেসে এলো… আবার মিলিয়ে গেল।
অন্যদিকে…
পুলিশ স্টেশন।
রাত অনেক পেরিয়ে গেছে, কিন্তু কেসের উত্তেজনা কমেনি।
মিস লুসির হত্যাকাণ্ড যেনো পুরো স্টেশনকে অস্বস্তিতে ফেলেছে।
রিচার্ড ওয়াকার—
নতুন যোগ দেওয়া ফরেনসিক ডিপার্টমেন্টের প্রধান—নিঃশব্দে লাশটা পর্যবেক্ষণ করছিলেন।
তার চোখ থেমে গেল গলার সেই অদ্ভুত কামড়ের দাগে।
দুটি গভীর ছিদ্র—একদম নিখুঁত দূরত্বে।
চারপাশে ছিঁড়ে যাওয়া চামড়া, কিন্তু তবুও কিছু একটা অস্বাভাবিকভাবে পরিষ্কার।
তিনি গ্লাভস পরা হাত দিয়ে জায়গাটা ছুঁয়ে দেখলেন, তারপর ধীরে বললেন—
“এটা… কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব না।”
এঞ্জেলা ভ্রু কুঁচকে তাকালো।
“মানে?”
ওয়াকার একটু থামলেন।
তার ঠোঁটে হালকা হাসি ফুটলো—
“মানে… ভ্যাম্পায়ার।”
কথাটা বলেই তিনি হালকা হেসে উঠলেন।
এনি আর এঞ্জেলাও হাসতে লাগলো।
“ভালোই মজা করতে পারেন আপনি, মিঃ ওয়াকার,”—এনি বললো।
“এসব তো গল্পে ভালো লাগে।”
ওয়াকার মাথা নাড়লেন।
“আমাদের কাজটাই এমন… একটু মজা না করলে চলেই না।”
কিন্তু তার চোখে সেই হাসি ছিল না।
তিনি ধীরে ঘুরে তাকালেন আরোহীর দিকে।
“তবে মনে হচ্ছে, এখানে কেউ ব্যাপারটা নিয়ে বেশ সিরিয়াস।”
আরোহী তখন চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল।
তার চোখ যেনো ফাঁকা—কিন্তু ভেতরে কিছু একটা চলছে।
হঠাৎ—
তার সামনে আবার সেই দৃশ্যটা ভেসে উঠলো।
অন্ধকার…
তার ভেতর থেকে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে দুইটা লাল চোখ…
আর তীক্ষ্ণ দাঁত…
এইবার সেই দাঁতগুলো যেনো তার গলার উপর ঠেকে আছে।
“রেমন!”—চিৎকার করে উঠলো সে।
ঘরের সবাই চমকে উঠলো।
এনি দ্রুত পানি এনে দিলো।
“কি হয়েছে?”
“আবার কিছু দেখলি?”
ওয়াকার ধীরে এগিয়ে এলো।
“রেমন…”—সে বললো—
“কে এই রেমন?”
আরোহীর চোখে এবার রাগের ঝলক দেখা গেল।
“কেউ না।”
“আর আপনি… আপনার সীমার মধ্যে থাকুন।”
তার কণ্ঠ ঠান্ডা, কিন্তু তাতে এক ধরনের দৃঢ়তা ছিল।
“আমি আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কোনো প্রশ্ন পছন্দ করি না।”
এই বলে সে দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে গেল।
জঙ্গল।
রাত আরও গভীর হয়ে এসেছে।
চারপাশে অদ্ভুত নীরবতা—নিজের শ্বাসের শব্দ পর্যন্ত স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে।
আরোহীর মাথা ভারী লাগছে।
সবকিছু গুলিয়ে যাচ্ছে।
রেমন…
এই নামটা কেন তাকে এতটা নাড়া দিচ্ছে?
ঠিক তখন—
উপরে একটা ভাঙার শব্দ।
সে তাকানোর আগেই—
একটা বিশাল ডাল ভেঙে তার দিকে পড়তে শুরু করলো।
সময় যেনো থেমে গেল।
তার শরীর জমে গেল।
হঠাৎ—
একটা দ্রুত ছায়া।
এক ঝটকায় কেউ তাকে টেনে সরিয়ে নিলো।
তার শরীর হালকা হয়ে গেল, যেনো সে মাটিতে নেই।
বাতাস কেটে যাওয়ার শব্দ—
তারপর নিস্তব্ধতা।
সে হাপাতে হাপাতে চারপাশে তাকালো।
“কে…?”
কেউ নেই।
কিন্তু তার হাতের উপর যেনো এখনো কারও স্পর্শের উষ্ণতা রয়ে গেছে।
তার বুক ধড়ফড় করছে।
ভয়… না।
বরং অদ্ভুত এক পরিচিত অনুভূতি।
তার ঠোঁট কাঁপলো।
“সে… ফিরে এসেছে…”
পুলিশ স্টেশন।
ওয়াকার চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে।
তার চোখে চিন্তার ছাপ।
“এই রেমন কে?”—সে আবার জিজ্ঞেস করলো।
এনি আর এঞ্জেলা একে অপরের দিকে তাকালো।
কিছুক্ষণ নীরবতা।
তারপর এনি ধীরে বললো—
“এই গল্পটা আজকের না…”
সে একটু থামলো।
“অনেক বছর আগের।”
ওয়াকার এগিয়ে এলো।
“আমি শুনতে চাই।”
এনি গভীর শ্বাস নিলো।
“এই গল্পটা… একটা এতিম মেয়ের গল্প।”
“আর একটা অসমাপ্ত ভালোবাসার গল্প…”
ঘরটা নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
কিন্তু সেই গল্প—
এখনো শুরুই হয়নি।
চলবে,,,৷
Remon:After The Blood
42
Views
0
Likes
0
Comments
0.0
Rating

কোন মন্তব্য নেই