লন্ডনের এক নিরব রাত…
একটি খুন…
আর সেই খুনের তদন্ত করতে গিয়ে
নিজের অতীতের অন্ধকারের মুখোমুখি হয় আরোহী।
সে একজন পুলিশ অফিসার—
যুক্তি, প্রমাণ আর বাস্তবতার মানুষ।
কিন্তু এই কেস…
এই কেস যেনো কোনো বাস্তব জগতের না।
মিস লুসির দেহ পাওয়া যায় এমনভাবে,
যেনো কোনো অজানা, পৈশাচিক শক্তি তাকে ছিন্নভিন্ন করেছে।
গলায় অদ্ভুত কামড়ের দাগ…
চোখে জমে থাকা আতঙ্ক…
এটা কি শুধু একটা খুন?
নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে আরও ভয়ংকর কিছু?
তদন্ত যত এগোয়,
আরোহীর চারপাশে অদ্ভুত ঘটনা বাড়তে থাকে—
অপরিচিত এক টান,
অদৃশ্য কারো উপস্থিতি,
আর এক নাম…
যেটা তার ভেতরকে নাড়িয়ে দেয়।
রেমন।
এই নাম কেন তার কাছে এত পরিচিত?
কে এই মানুষ—
যার ছায়া তার জীবনের প্রতিটি অন্ধকারে লুকিয়ে আছে?
ভালোবাসা, ভয়, আর রক্তে লেখা এক নিষিদ্ধ গল্প—
যেখানে সত্য যতই কাছে আসে,
মৃত্যুও ততই কাছে চলে আসে।
শেষ পর্যন্ত—
আরোহী কি সত্যটা জানতে পারবে?
নাকি সেই সত্যই তাকে গ্রাস করবে?
Some secrets never stay buried.
ACT 1: Remon
Episode 1: The Bar
সাল ২০১১।
লন্ডনের এক নিরিবিলি বারের কোণায় বসে আছে আরোহী।
মৃদু আলো, ধীর সুরের মিউজিক, আর বাইরে টুপটাপ বৃষ্টির শব্দ—জায়গাটা এমন, যেখানে মানুষ সহজেই নিজের ভেতরের অন্ধকারের মুখোমুখি হতে পারে।
আরোহীও ঠিক সেটাই করছে।
তার সামনে রাখা কফির কাপটা অনেকক্ষণ ধরেই ঠান্ডা হয়ে গেছে।
তবুও সে একবারও তাতে হাত দেয়নি।
তার দৃষ্টি যেন কোথাও হারিয়ে গেছে—বর্তমানে নয়, অতীতে।
কিছু স্মৃতি…
যেগুলো সে ভুলে যেতে চায়, কিন্তু পারে না।
ঠিক তখনই সামনে এসে দাঁড়ালো রউফ।
“কখন এলে? একটা ফোন দিতে পারতে,” হালকা হাসির সাথে বললো সে।
কিন্তু সেই হাসির আড়ালে একটা অদ্ভুত চাপা উদ্বেগ ছিল।
“তুমি ঠিক আছো তো?”
“আমাদের বিয়েটা নিয়ে… কোনো সন্দেহ হচ্ছে না তো?”
আরোহী কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো।
তারপর ধীরে মাথা নাড়লো—হ্যাঁ।
কিন্তু তার ভেতরের সত্যটা অন্য কিছু বলছিল।
রউফের পাশে থেকেও…
তার মনে হয় সে একা।
আর সেই একাকীত্বের মধ্যে—কেউ একজন বারবার ফিরে আসে।
একটা নাম… একটা মুখ…
যেটা সে মনে করতে পারে না, তবুও ভুলতেও পারে না।
ঠিক তখনই ফোনটা বেজে উঠলো।
এনি।
“কোথায় তুই?”—ওপাশ থেকে তাড়াহুড়ো আর ভয় মেশানো কণ্ঠ।
“মিস লুসি ডেভিড খুন হয়েছে। অবস্থা খুব খারাপ… তাড়াতাড়ি আয়!”
আরোহীর চোখের ভাব মুহূর্তেই বদলে গেল।
“আমি আসছি।”
সে উঠে দাঁড়ালো।
“আমি যাবো তোমার সাথে,” রউফ বললো।
আরোহী এবার সরাসরি তাকালো তার দিকে।
“না… আমার কাজ আর ব্যক্তিগত জীবন—আমি একসাথে মেশাতে চাই না।”
রউফ একটু থেমে গেল।
“আমি তো তোমার হবু স্বামী…”
আরোহীর গলায় এবার ঠান্ডা দৃঢ়তা—
“এখনো না।
সময় হলে… আমি নিজেই জানাবো।”
কথাটা বলেই সে বেরিয়ে গেল।
মিস লুসির বাসায় যাওয়ার পথে একটা ঘন জঙ্গল পড়ে।
সময় বাঁচাতে শর্টকাট ধরলো আরোহী।
জঙ্গলে ঢুকতেই চারপাশটা যেন বদলে গেল।
হাওয়া হঠাৎ থেমে গেল।
পাতার শব্দও নেই।
অস্বাভাবিক নিস্তব্ধতা।
তার শ্বাস-প্রশ্বাস ধীরে ধীরে ভারী হয়ে উঠলো।
মনে হলো—
কেউ তাকে দেখছে।
না… শুধু দেখছে না…
ডাকছে।
খুব পরিচিত এক অনুভূতি।
“কে…?”—তার গলা শুকিয়ে গেল।
কোনো উত্তর নেই।
হঠাৎ দূরে কোথাও শুকনো পাতার ওপর পায়ের শব্দ।
আরোহী থেমে গেল।
তার বুকের ভেতর ধুকপুক শব্দ স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে।
এক মুহূর্তের জন্য…
অন্ধকারের ভেতর দুইটা লাল চোখ জ্বলে উঠলো।
তারপর অদৃশ্য।
আরোহী দ্রুত পিছনে তাকালো।
কেউ নেই।
কিন্তু তার ভেতরের অজানা ভয়টা আর গেল না।
সে দ্রুত জঙ্গল পার হয়ে বের হয়ে এলো।
তার অজান্তেই—
অন্ধকারের গভীর থেকে কেউ একজন তাকে লক্ষ্য করছিল।
মিস লুসির বাসায় পৌঁছাতেই
এনি, এঞ্জেলা এবং অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত।
ঘরের ভেতরে ঢুকতেই একটা কড়া গন্ধ নাকে লাগলো—
রক্তের।
মেঝেতে পড়ে আছে মিস লুসির দেহ।
তার শরীরজুড়ে গভীর আঁচড়।
যেনো কেউ খুব নিষ্ঠুরভাবে তাকে ছিঁড়ে ফেলেছে।
ঘাড়ে একটা স্পষ্ট কামড়ের দাগ।
এটা কোনো সাধারণ খুন না।
এটা… অন্য কিছু।
আরোহী স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।
তার চোখের সামনে হঠাৎ একটা দৃশ্য ভেসে উঠলো—
অন্ধকার…
তার ভেতর থেকে এগিয়ে আসছে কেউ…
দুইটা লাল চোখ…
আর ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসা তীক্ষ্ণ দাঁত।
“না…!”—চিৎকার করে উঠলো সে।
এনি দৌড়ে এসে পানি দিলো।
“কিরে? কি দেখলি?”
“তুই ঠিক আছিস তো?”—এঞ্জেলা জিজ্ঞেস করলো।
আরোহী কিছু বললো না।
কিন্তু তার হাত কাঁপছিল।
রাত গভীর।
কেস শেষ করে সবাই থানায় ফিরেছে।
এনি হঠাৎ বললো—
“এই দেখ, নতুন লোক এসেছে।”
আরোহী তাকালো।
রিচার্ড ওয়াকার।
লোকটার চোখে এক অদ্ভুত গভীরতা…
যেনো সে অনেক কিছু জানে।
এনি মুচকি হেসে বললো—
“দেখতো… একদম রেমন এর মতো না?”
“মনে হচ্ছে যমজ ভাই!”
“রেমন…”
নামটা শুনতেই আরোহীর বুকটা কেঁপে উঠলো।
তার মাথার ভেতর যেনো কিছু একটা ভেঙে পড়লো।
এই নাম…
এত পরিচিত কেন?
তার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে এলো।
মনে হলো—
এই নামের সাথে তার জীবনের এমন কিছু জড়িয়ে আছে…
যেটা সে ভুলে গেছে।
না… ভুলে যেতে বাধ্য হয়েছে।
কে এই রেমন?
আর কেন তার নাম শুনলেই…
আরোহীর ভিতরে এক অন্যরকম ভাব আবার ফিরে আসে?
চলবে,,,,
Remon: After The Blood
37
Views
0
Likes
0
Comments
0.0
Rating

কোন মন্তব্য নেই