শেষ চিঠি

শেষ চিঠি
"কখনো কখনো একটা সকাল পুরো জীবনটাই বদলে দেয়।"

এই ব্যস্ত শহরে ব্যস্ত জীবনে.
মাঝে মাঝে এমন কিছু মানুষ আসে যে, আমাদের পৃথিবীটা পরিবর্তন করে দেয়া।
যে প্রচন্ড ঝড়ের বেগে ছুটে আসে, জীবনের সমস্ত সাজানো বাগানগুলো লন্ডন ভন্ড করে দেয় ।
আবার হঠাৎ করেই বিজলী বেগে চলে যায়।রেখে যায় শুধু স্মৃতি আর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে যাওয়া হৃদয়ে টা।।

শীতের সকালে চায়ের দোকানে বসে আছে রানা।
দোকানদার:- মামা! চা দিব রং চা?

রানা:- মামা পাতি না দিয়ে রক্ত দিয়ে একটা চা দাও?

দোকানদার অবাক হয়ে তাকালো। দেখে চোখ দুটো লাল ফুলে আছে। এলোমেলো চুল গুলো (মনে মনে ভাবছে হয়তো নেশার ঘোরে ধরেছে)

রানা:- মামা তাকিয়ে না থেকে একটা সিগারেট দাও।
দোকান্রদার:-কী সিগারেট দিব?
রানা:- একটা দিলেই চলবে।
চার পাঁচটা লোক এমন ভাবে তাকিয়ে হাসছে। মনে হচ্ছে, চিড়িয়াখানা কোন জন্তু পালিয়ে এসেছে।

রানা একটা সিগারেট ধরিয়ে টান দিয়ে কাঁশি দিয়ে উঠলো।
আর বলছে উঠ কাঁশি যত ইচ্ছে। উঠতে উঠতে প্রাণটা শেষ ক‌রে দে।

হঠাৎ করেই করেই তুষার এসে ডাক দিল।

তুষার:- আরে ভাই আপনি এখানে?
রানা:- এদিক দিয়ে যাই,তাই একটু বসলাম।
তুষার:- কি অবস্থা আপনার?
পাগলের মত দেখায় কেন?
রানা:- একটা হাসি দিয়ে বলল, পাগল কে আর কেমন দেখাবে?
তুষার:- ভাই ভোরে কিছু খাইছেন?
রাতে কি ঘুম হয়নি?
রানা:- না ঘুম আসছে না, আমি ঠিক আছি।
আপনার খবর কি?
তুষার:- ভালো আছি! ফোন দিলাম কোন যোগাযোগ নেই।
রানা:- ফোন চালাই না।

তুষার তাকিয়ে দেখলো রানা কে পাগল এর মতো দেখায়,নোংরা পোশাক,চুল এলোমেলো,চোল লাল। ভাবছে তার সাথে হাঁটলে মানুষ হয়তো তাঁকেও পাগল ভাবতে ভুল করবে না। তাই নিজেকে সমাজ ছোট হওয়ায় ভয়ে, কেটে পড়তে চায়।
তুষার:- আচ্ছা ভাই আমার একটু কাজ আছে পড়ে কথা হবে।
রানা:- একটা মুচকি হাসি দিয়ে বললো, ঠিক আছে।

তিন মাস আগের ঘটনা

গল্প টা আমার জীবনের।

আমি রানা। দেখতে শ্যামলা, লম্বা শুকনো।ইন্টার পরীক্ষা শেষ তাই ভাবলাম একটা ট্রেনিং দিয়ে আসি।

বরগুনায় টিটিসি তে ফরম পূরণ,না করে,ছবি দিয়ে ভর্তি হলাম। কম্পিউটার ক্লাসে।

আজকে প্রথম দিন অফিসে গেট দিয়ে প্রবেশ করে অবাক।

অপরুপ সুন্দরী একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। উফ্ কি সুন্দর একটা মেয়ে! মনে হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা ফুল! তাকে দেখে নজর ফেরানোর মত শক্তি আমার ছিলনা।
মনে হচ্ছে রুপের আগুনে চোখ জ্বলসে যায়।কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।

নিস্তব্ধ পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম।
নিজের অজান্তেই অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলেছি।
কে আমি? জানি না।
শুধু মনে হচ্ছে হয়তো কোথায় বিলিন হয়ে গেছি। শুধু হার্টবিট আর ঘন ঘন নিঃশ্বাস অনুভব করতে পারছি।

হঠাৎ করেই মেয়েটি কোথায় যেন হারিয়ে গেছে।
নিজেকে খুঁজে পেয়ে।
আস্তে আস্তে ক্লাসে যাই আর চিন্তা করছি।
কি হয়েছে আমার?
কেন এমন হলো?
ছিঃ মেয়েটি কি মনে করছে?
অসভ্যর মতো তাকিয়ে ছিলাম।

কিন্তু মেয়ের চেহারা মনে হচ্ছে চোখের সামনে ভেসে বার বার ওঠে।
একটু পর পর তাকে মনে পড়ে ।
চোখ দুটো বড় বড় টানা টানা হরিণীর মতো। ঠোঁট দুটো লাল টুকটুকে গোলাপের পাপড়ি মতো।
গাল দুটো গোলাপী, চাঁদের মতো উজ্জ্বল।

তাকে দেখলে মনে হয় পৃথিবীর সমস্ত সৌন্দর্য্য তার মাঝে বন্দী হয়ে আছে।।

ক্লাসে অনেক মানুষ এক জন স্যার আর দুই জন ম্যাডাম আছে।
সব মিলিয়ে 30 জনের মতো হবে।

ক্লাসে পা রাখতেই দেখি, সেই সুন্দরী মেয়েটা!

রাতের আকাশে অনেক তারা মাঝে চাঁদ যেমন, নিজের সৌন্দর্য সেরা।
তেমনি মনে হচ্ছে পুরো ক্লাসরুম তার রুপের আলোকিত হয় আছে।

চোখ ফেরাতে পারছি না, নিজেকে কোন ভাবে নিয়ন্ত্রন করে,পিছনে একটা চেয়ারে বসলাম।

হঠাৎ করেই একটা ছেলে আমার পাশে এসে বসল।
দেখতে সুন্দর, মোটামোটি স্টাইলিশ।

ছেলেটি -ভাই আপনি কি নতুন?
আমি - হ্যাঁ আপনি?
ছেলেটি:- হ্যাঁ আমি ও নতুন।
আমি -একটা হাসি দিয়ে আরে ভাই এখানে সবাই নতুন।
আজকে প্রথম ক্লাস হবে।

ছেলেটি:- আপনার নাম কি?
আমি:- রানা।
আপনার নাম কি?
ছেলেটি:-তুষার।

প্রথম দিন পরিচয় পর্ব শেষে করে।
কিছু মোটিভেশন দিয়ে স্যার চলে গেছে।

মেয়েটির নাম লামিয়া!

তুষার শুধু বক বক করে কথা বলে যাচ্ছে।
আমার বাসা কাছে, আমি আসতে চাইনি,
চিন্তা করলাম সময় কাটাতে যাই।
এভাবে কথা আর কথা।
রানা শুধু তাকিয়ে আছে লামিয়া দিকে।

তার সুন্দর মুখ টা কিছুতেই ভুলতে পারছে না।

তুষার এর বক বক বিরক্ত হয়ে।
রানা উঠে গিয়ে লামিয়া পাশে চেয়ার বসে, তাকিয়ে আছে।
লামিয়া দুই এক বার তাকিয়ে, বিষয়টি সিওর হয়ে চুপচাপ বসে থাকলো।
রানা বিষয়টি ভেবে মনে মনে ভাবছে (দেখা যাক কি হয় তোমার অবস্থা।
আমি যে তাকিয়ে আছি তুমি তো ঠিক‌ই জানে)

লামিয়া আড়চোখে তাকিয়ে দেখলো, ছেলেটি নির্লজ্জের মত তাকিয়ে আছে।
(মনে মনে বলে কি অসভ্য ছেলেটা।
এভাবে তাকিয়ে আছে।,লজ্জা শরম বলতে কিছু নাই।
মনে হয়, জীবনে মেয়ে দেখেনি।
ওর চোখ দুটো তুলে দিতে ইচ্ছে করে,
যেন আর কখনো মেয়েদের দেখতে না পারে।)
রাগি চেহারা তাকিয়ে আবার কম্পিউটার দিকে ফিরলো।

রানা চোখ ফেরাতে পারছে না।
সবাই দেখলে কি ভাববে তাই অনেক কষ্ট নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করল।

ক্লাস শেষে রানা লামিয়া সাথে সাথে বের হলো।
হঠাৎ করেই পিছন থেকে তুষার বলল-রানা ভাই একটু দাঁড়ান?
রানা মনে মনে তুষার কে গালি দিয়ে হাঁটতে শুরু করল।

লামিয়া কেমন জানি আন‌ইজি ফিল করছে।
যে ওই অসভ্য ছেলেটা তাকে ফলো করছে।

(মনে মনে ভাবছে যদি প্রপোজ করে।
খারাপ ছেলেদের কাজ তো এমনি।
যদি উল্টা পাল্টা কিছু বলে ?
এভাবে ভাবতে ভাবতে ক্লান্ত হলো।
তুষার দৌড়ে এসে বলল- আরে ভাই দাঁড়ালে কি হতো?

রানা:- এমনি ভাল লাগে না তাই।
তুষার বলে -আস্তে বলল চলেন সামনে উঠি।
রানা - ইশারা দিয়ে বলল না।
তুষার:- বুঝতে পারলো লামিয়া সাথে যেতে চায়।

তাই হটতে শুরু করলো।
আর‌ তার মুখের মেশিন টা অন হলো।

রানা:- লামিয়া কে উদ্দেশ্য করে বলল - আসার সময় একটা গোলাপের বাগান দেখেছি, অনেক সুন্দর।
কিন্তু এখানে এসে মনে হলো, গোলাপের রানী তো এখানেই।

লামিয়া হঠাৎ করেই অন্য রাস্তায় চলে গেল।

রানা:- আপু বেড়াতে নিবেন না?
ঠিক আছে আপনি থেকে জান!?

তুষার:- আরে ভাই আপনি কেমন মানুষ এই মেয়ের সাথে ভালো মানুষ কথা বলে না?
রানা:- কেন?
তুষার:- ওরা খা বংশের মেয়ে।
যত ধরনের খারাপ কাজ আছে ওরা করে, চরিত্র একে বারে বাজে।

রানা:- ‍(মনে মনে হাসি দিয়ে বলে হয়তো মিথ্যা বলছে ,কারণ তার ভাল লাগছে আমার মতো)

আরে ভাই খারাপ তাতে কি হয়েছে?
তাকে ভালো লাগে তাই কথা বলতে ইচ্ছে করে। খারাপ মানুষের সাথে কথা যাবে না?

তুষার:- ওর বাসা কাছেই,কত দেখা হয়. কখনো কথা বলি না।
খারাপ মেয়েদের থেকে দূরে থাকা ভালো।

রানা:- দূর বাদ দিন অন্য কিছু বলুন।
তুষার:- সে অনেক কিছু বলছে.
সে কি করে, বন্ধুদের সাথে কখন কি করেছ।
অনেক কিছু..
তার মা পুলিশে চাকরি করে।
অনেক কথা বলতে বলতে তার বাসায় কাছে আসলো।
রানা:- শুধু হা, হুম,বলে চলেছে তার মাথায় লামিয়া চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে।

এতো সুন্দর মেয়ে কি পৃথিবীতে আছে।?ভাবতেই অবাক লাগে।
তাকে দেখলে মনে হয় জীবন টা ধন্য হয়ে যায়.

বাসায় চলে আসলাম।
কিন্তু তার মিষ্টি চেহারা চোখের সামনে এমন ভাবে ভেসে ওঠে ,
চোখ বুঝলেও দেখি,
চোখ মেলিলেও তাঁকেই দেখি।
মনে হচ্ছে তার সুন্দর মুখটা আমার মস্তিষ্কে , আমার চোখে, আমার হৃদয়ে খোদাই করা।

আমার মনটা তাকে আর একটু দেখার জন্য অস্থির হয়ে আছে।
সারা দিন শুধু তার ভাবনা তেই চলে গেলে।
ছিঃ ছিঃ কি অবস্থা আমার?
মাথাটা কি নষ্ট হয়ে গেছে নাকি?
কেন এতো বার বার তার সুন্দর মুখটা চোখের সামনে ভেসে ওঠে?
মেয়েটা কি যাদু জানে নাকি?
শান্ত হয়ে বসে,দুই হাতে মাথাটা চেপে ধরে।
আল্লাহ তুমি আমার মনটা শান্ত করে দাও।
তার ভাবনা আমার মাথা থেকে বের করে দাও।
মনে হচ্ছে আমি পাগল হয়ে যাবো।

মা:- কিরে গোসল করতে যাবি না?
তখন থেকেই বসে আছো কেন?
শরীর খারাপ নাকি?
আমি নিজেকে শান্ত করে - আরে না ঠিক আছি।
যাই গোসল করে আসি।

মনটা শুধু অস্থির হয়ে আছে।
কখন রাত আসবে,কখন ভোর হবে।
ক্লাসে গিয়ে তাকে মন ভরে দেখবো।

রাতে চোখে ঘুম আসেনা,তার মুখটা চোখের সামনে ভেসে আছে।
কি সুন্দর করে তাকে সৃষ্টি কর্তার তৈরি করেছে।
মনে হচ্ছে রং ধনুর সাত রং ,
প্রজাপতির ডানায় ভরে.
কোন শিল্পী তার মনের মাধুরী মিশিয়ে তাকে এঁকেছে।
অনেক ফুল দেখেছি,রাত জেগে জেগে চাঁদ দেখেছি।
অবাক হয়ে পাহাড়ী ঝর্ণা দেখেছি,
নদীর বুকে নৌকায় শুয়ে শুয়ে,জলের শব্দ শুনেছি।
কৃষ্ণচূড়া নিচে শুইয়ে শুইয়ে গল্প করেছি।
মেঠো পথে হেঁটেছি. নাম না জানা গহীন অরণ্যে হেঁটেছি।
কিন্তু তাকে দেখার পর মনে হলো,
পৃথিবীতে সবচেয়ে সমস্ত সৌন্দর্য্যের রানী সে। পৃথিবী সমস্ত সৌন্দর্য তার রুপের প্রতিবিম্ব।
পৃথিবীর কোন সৌন্দর্য্য তার মতো এতো আকর্ষনীও না।
তাকে দেখলে পৃথিবীর কোন সৌন্দর্য্য আর দেখতে ইচ্ছে করে না।
হয়তো আমার চোখ ধন্য তাকে দেখে।
তাকে দেখলে মনে পৃথিবীতে আমার জন্ম সার্থক হয়েছে ।

"লামিয়া, তুমি কি জানো তোমার চোখে আমার হারিয়ে যাওয়ার গল্প লেখা আছে?"
চলবে.. প্লিজ সাপোর্ট 💖
39 Views
0 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this:
(0)

মন্তব্য

কোন মন্তব্য নেই

সকল পর্ব