ক্লাস শেষ করে ওরা চারজন গল্প করতে করতে ক্যান্টিনের দিকে যাচ্ছিল। হঠাৎ তাদের রাস্তা আগলে দাঁড়ায় সাত-আটজন বখাটে ছেলে যারা ইভটিজিং করে বেড়ায়। যারা ওদের বিরুদ্ধে দাঁড়াত, পরেরদিন তাদেরকে আর পাওয়া যেত না। প্রশাসনও নীরব থাকে। এই দলের লিডার রিয়াদ হোসেন, সে কিনা আদ্রিয়ান রহমান খানের ডানহাত।
নেহার দিকে তাকিয়ে রিয়াদ বলল,
"হ্যালো, লেডি, মনে তো হচ্ছে তুমি সেই রকম ," বলতে বলতে নেহার ওড়না টেনে সরিয়ে দিল। নেহার বান্ধবীরা কিছুই বলতে পারছিল না। তারা ঠকঠক করে কাঁপছিল। অন্যদিকে রিয়াদ তার বাকি বন্ধুদেরকে ওদের পিছনে লেলিয়ে দেয়। ওদিকে নেহা নিজের সম্মান বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সেই রিয়াদ নেহাকে জড়িয়ে ধরতে যাবে এমন সময়ে রিয়াদ কিছু চিৎকারের আওয়াজ পায়, দূরে দেখতে যাবে এমন সময়ে সে আবিষ্কার করে সে, সে রাস্তায় পড়ে আছে।
একটু মাথা তুলতেই দেখতে পায়, আদ্রিয়ান সামনে দাঁড়িয়ে আছে, পিছনে নেহা। তার চোখে-মুখে এখনো ভয়ের ছাপ। ততক্ষণে আদ্রিয়ানের বাকি
বন্ধুরা এগিয়ে এসেছে। রিয়াদ আদ্রিয়ানের থেকে মাস্টার্স দুই বছর নিচে পড়ে। আদ্রিয়ান রিয়াদকে তুলে আরো মারতে থাকে। বলে,
"বাবা-মা মানুষ হওয়ার জন্য শিক্ষাঙ্গনে পাঠায়, আর তোর মতো অশিক্ষিতের জন্যই মেয়েরা এখনো শিক্ষা অর্জন করতে ভয় পায়। তোর মতো লোকের স্থান কারাগারই হওয়া উচিত, ভার্সিটি নয়।"
এটুকু বলে সে রিয়াদকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। রনি আগেই পুলিশকে ইনফর্ম করে দিয়েছিল।
পুলিশ আসামীদেরকে নিয়ে চলে যেতেই আদ্রিয়ান রাস্তা থেকে ওড়না তুলে তা নেহাকে পরিয়ে দেয়, জিজ্ঞেস করে, "তুমি ঠিক আছো?" নেহা মাথা নাড়িয়ে উত্তর দেয়, "জী ভাইয়া, থ্যাংক ইউ।" বলে সে তার বন্ধুদের সাথে ক্যান্টিনে যেতে থাকে। আদ্রিয়ানও ক্যান্টিনে যায়।
প্রমি, ঊষা আর সিনথিয়া তো আদ্রিয়ানের প্রশংসায় বাঁচে না। হঠাৎ ফয়সাল বলল,
"এখন তো খুব প্রশংসা বের হচ্ছে লিপস্টিক লাগানো ঠোঁট দিয়ে, কোথায় ছিল এই প্রশংসা সেদিন, যেদিন তোরা তোদের জানসদের সামনে আদ্রিয়ানকে কান ধরে উঠবস করালি দশবার?"
প্রমি বলল, "আরে, ওটা তো নেহা করতে বলেছিল
তাই করেছি।"
শহীদ বলল, "তোরা না বললে ও কখনোই শাস্তি দিত না।"
"আরে, ধরে নে আমরাও ইভটিজিং করতেছিলাম।" ঊষা বলল।
"ইভ মানে তো মেয়ে, ইভটিজিং আবার ছেলেদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলো কবে থেকে?" আসতে আসতে বলল ইফতি, সে কিনা আদ্রিয়ানের ভালো বন্ধু আর সে আইসিটি ডিপার্টমেন্টে সর্বোচ্চ সিজিপিএ ধারী। আদ্রিয়ানের কাছে এসে বলল,
"তুই তো ভাই ভার্সিটিতে পুরো হিরো বনে গেলি রে! ফেসবুকে তোর মারপিটের ভিডিও অনেক ভাইরাল। শুধু তাই নয়, ভার্সিটির সব মেয়েরাই বোধহয় তোর ওপর ক্রাশ খেয়েছে।" আদ্রিয়ান বোধহয় শুনেও শুনতে পায়নি, কারণ সে নেহার ডায়েরির লেখাগুলো নিয়েই ভাবছিল।
অন্যদিকে পুলিশ স্টেশনে যা চলছিল-
রিয়াদ : আমাকে যেতে দিন অফিসার, আদ্রিয়ান আপনাকে ফোন দিলে কিন্তু আপনার চাকরি নিয়ে টানাটানি পড়তে পারে।
নীল প্রজাপতি
42
Views
0
Likes
0
Comments
0.0
Rating

কোন মন্তব্য নেই