#part:04
আপু:ওই, তোর ঘুম হয়নি এখনো?? বেলা কয়টা বাজে খেয়াল আছে? ওঠ বাদর। শুধু পড়ে পড়ে ঘুমানো।
আমি:হুহহ।আপু আজ একটু ঘুমাই না।আজ তো কলেজ ছুটি।
আপু:আর ঘুমানো লাগবে না ওঠ। তোর দুলাভাই এর সাথে দেখা করতে যাবো ওঠ
আমি:কিইইই। (আমি লাফ দিয়ে উঠে পরলাম)
এই না কাল তোমাকে দেখে গেলো। আর এর মধ্যেই দেখা করবে??? আবার আমার দুলাভাই ও বানিয়ে দিলে?
আপু :ঘুম ভাঙছে এবার, ওঠ তাহলে তারাতারি। একটু বাইরে যাবো।
আমি :তো যাও। তোমার হবু জামাইয়ের সাথে দেখা করবে তো আমি গিয়ে কি করবো।
আপু :তুই কি থামবি না দেবো একটা।ওঠ বলছি।
আমি:উঠছি তো, দারাও।
আমি ফ্রেশ হয়ে আপুর রুমে গেলাম। দেখলাম আপু আয়নার সামনে বসে সাজছে।
আমি :কোথায় যাবে আপু??
আপু:একটু মার্কেটে যাবো। আমার সাথে তুইও যাবি।
আমি:তুমি যে বললে দুলাভাই এর সাথে দেখা করতে যাবে??
আপু আমার কথা শুনে হাসতে লাগলো।
আপু :ওটা তোকে উঠানোর জন্য বলছি। আর কিছু না।
আমি :ধ্যাৎ...। শুধু শুধু ঘুমটা ভাঙিয়ে দিলে। আমি কত সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখছিলাম।
আপু :বাব্বাহ! তা কি স্বপ্ন দেখছিলি শুনি??
আমি :অবন্তীকে প্রপোজ করতে হাটু গেড়ে মাটিতে বসে ছিলাম।
আমি I love you বলেছি। অবন্তী রেগে থাপ্পড় মারতে যাবে আর তুমি ডাক দিয়েছো।
আপু তো আমার কথা শুনে হাসতে হাসতে শেষ।
আপু :এই তোর সুন্দর স্বপ্ন।তোকে না ডাক দিলে তো স্বপ্নেও অবন্তীর থাপ্পড় খেতিস।
আমি মন খারাপ করে
আমি : হুহহ।
আপু: হইছে থাম এবার। চল খেয়ে নেই।
আমি আর আপু গিয়ে টেবিলে বসলাম।
আমি :আম্মু ভাত দাওওও।
আম্মু চোখটা মেলে একবার প্লেটের দিকে তাকান নবাব সাহেব। চোখটাতো আকাশে তুলে রেখেছেন আপনি।
আমি টেবিলে প্লেটপর দিকে তাকিয়ে।
আমি :হি হি হি। খেয়াল করি নাই আম্মু।
আম্মু :হুম খা এখন। আর শোন। তোর আপুর সাথে মার্কেটে যা। ওর কিছু জিনিস লাগবে, তুই ওর সাথে যা।
আমি :আচ্ছা।
আমি আর আপু খেয়ে দেয়ে বেরিয়ে পড়লাম।
অবন্তী: কোথায় যাও আপু??
আপু:ওওহ। হাই অবন্তী। আমরা একটু মার্কেটে যাচ্ছি।তুমি কোথাও যাবে নাকি??
(অবন্তী কোথা এলো??? না জানি আপুকে আবার কি বিচার দেয়। ছুটির দিনেও কি একটু মাপ পাবো না????)
অবন্তী :হ্যাঁ আপু।আমিও মার্কেটে যাবো।চল একসাথে যাই।
আমি:আপু রিকশায় তো দুইজন যাওয়া যায়। তিনজন কীভাবে যাবো?
(আপু আমি আর অবন্তী একসাথে যাই) আপুর কানে কানে বললাম। কেউ আবার অবন্তীরে বইলেন না।
অবন্তী:সমস্যা নাই তো। আমি আর আপু একসাথে যাই। তুই একটু পরে আয়।
আপু :হ্যাঁ চলো অবন্তী চমি আর তুমি একসাথে যাই। তুই আরেকটা রিকশা নিয়ে আয়।
আমি : কিহহ!আপুউউউ।
(আপু আমার দিকে তাকিয়ে সয়তানি একটা হাসি দিলো।
-------++/++------
আপু :অবন্তী দেখো তো এই চুরি গুলো সুন্দর না। হুম অনেক সুন্দর। কিন্তু আমাদের মার্কেট তো শেষ।
আপু:কই মার্কেট শেষ। আমার হাতে তো একটাও ব্যাগ দেখি না।
অবন্তী :ওওও তাহলে এই ব্যাপার। আচ্ছা তুমি নাও।
আপু :তুমি নিবে না?
অবন্তী:চুরি গুলো অনেক সুন্দর। কিন্তু নিবো না। মা জানলে বকবে। বাড়িতে আমার চুরির মেলা।
আপু:আচ্ছা তাহলে আমার জন্য একটা পছন্দ করো তো।
,,,,,,,,
আপনারা আবার মনে হয় ভাবছেন ব্যাগ কোথায় গেলো??
কোথায় আর যাবে। সব আমার হাতে। দুই হাত মিলে ১৭টা ব্যাগ। আমি তো একটা গাড়ি পেলে বাঁচি,,,,
আমি:আপু তোমাদের হয় নাই???
(আপুর দিকে তাকিয়ে দেখলাম আপুর পাশেই নীল রঙের অনেক কাচের চুরি।রোদে চিক চিককরায় অনেক সুন্দর লাগছে। অবন্তী দেখলাম বারবার চুরিগুলো নাড়ছে। আমি নিতে বলছে কিন্তু নিবে না।)
আপু :হয়েছে। ধর এটা।
আমি:আর কত নেবো??আমার হাত ব্যাথা হয়ে গেলো।
আপু: আচ্ছা ঠিক আছে, এইটা আমি নিচ্ছি। এখন রেস্টুরেন্টে চল। অনেক খিদে পেয়েছে, ফুচকা খাবো।
অবন্তী :হুমম চল আপু।
***********
বিশ মিনিট ধরে দুজনার খাওয়াই দেখে যাচ্ছি। এদের খাওয়া দেখে আমার খিদে চলে গেছে।
আজ অবন্তীর সাথে একবারও কথা বলতে পারিনি। ও শুধু আমার দিকে তাকাচ্ছে আর হাসছে। আপুর সামনে কিছু বলতেও পারছি না।আপু সব জানে তার পরও আপুর সামনে কথা বলতে ভয় হয় যদি কিছু মাকে কিছু বলে দেয়।
আপু: কিরে তুই খাবি না??
আমি: না, তোমরাও খাও আমি আসছি।
এই বলে চলে এলাম সেই সেই চুরির দোকানে। দুইটা কিনলাম, একটা অবন্তীকে দিবো আর একটা আপুকে দিবো।কিন্তু কাউকে বলবো নয়। This is secret mission.
আপু: চল এবার। একটা রিকশা ডাক দে।
আমি সুযোগ বুঝে টুপ করে দুইজনের ব্যাগে চুরিটা রেখে দিলাম।
------++/++------
মেয়েদের সাথে আর কখনো শপিং করতে বের হবো না। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শুধু এই দোকান আর ওই দোকান,এই দোকান আর ওই দোকান। ঘুরতে ঘুরতে আমার জীবন শেষ।
বাড়িতে এসে গোসল করে দিলাম একটা ঘুম।
///////////////
অবন্তীর মা :তোকে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে নিষেধ করেছিলাম না? তারপরও চুরি কিনলি কেন??
অবন্তী: মা ওটা আমি কিনি নাই। তানজিলা আপু কিনে দি্ছে।
তুমি ওই গুলা দেখো সব ঠিক আছে কি না।
অবন্তীর মা :ঠিক আছে। তানজিলা দিয়েছে বলে বেঁচে গেলি।
অবন্তী:আমার সুইটি মা, রাগ করে না।
(অবন্তীর মা একটু মুচকি হেসে)
অবন্তীর মা:পাগল মেয়ে। যা গোসল করে আয়, আমি খাবার দিচ্ছি।
অবন্তী: হুমমম।।
(তানভিরের বাচ্চাাাাাাা। তোকে শুধু একবার কাছে পাই।)
------++/++-------
আপু:ওই তোর ঘুম হয়নি,, ওঠ। সেই কখন থেকে ঘুমোচ্ছিস।
আমি:আপুউউউ। এখন তো একটু ঘুমাতে দাও।
আপু:অনেক ঘুমিয়েছিস। চল একটু বাইরে রেড়াতে যাবো।
আমি:সকালেই তো বেড়িয়ে আসলে। এই বেলা আবার কোথায় যাবে???
আপু :তুই ওঠ আগে।
আমি আচ্ছা বলে উঠে ফ্রেশ হয়ে আসলাম। আপু একেবারে রেডি হয়েই এসেছে। তাই আমিও রেডি হয়ে নিলাম।
আপু:আচ্ছা তানভির আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দেতো।
আমি:কি???
আপু:যাকে আমি আনতে গেলাম, তাকে দেখে ফিরে এলাম,
সে যখন চলে গেলো, তাকে আবার নিয়ে এলাম।
আমি:এটা কি?
আপু:একটা ধাঁধা। নিঝুৃম আমাকে কাল বললো। কিন্তু আমি জানি না। তুই পারবি?
আমি:না। তুমি নিঝুম কেই জিজ্ঞেস করো।
আপু:ও আর আমাকে বলবেই না। না থাক জানা থাকবে না।চল এখন।
আমি: হুমম চলো।
আমি আর আপু একটা পার্কে বেড়াতে গেলাম। চারদিকে কত কাপল। আমার তো শুধু অবন্তীর কথাই মনে পড়ছে। সে যদি এখন সাথে থাকতো, তাহলে এই রোমান্টিক প্লেসে আরো একবার প্রপোজ করতাম.....
আপু:আর আরো একবার দৌড়ানি খাইতি।
আমি:হুমমম
আপু:তানভির, তুই তোর আপুকে কতটা ভালোবাসিস????
.
.
.
চলবে....
(কেমন আছেন আমার প্রিয় পাঠক-পাঠীকাগণ??? আশা করছি সবাই ভালো আছেন। আগে কি হতে চলেছে তা তো ঠিকই জানতে পরবেন। কিন্তু তার আগে বলুন তো আমার ধাঁধার উত্তর কি হবে????)
রোমান্টিক সিনিয়র বউ
31
Views
0
Likes
0
Comments
0.0
Rating

কোন মন্তব্য নেই