বিদেশ থেকে দেশে ফিরে এসে যখন আম্মুর কাছে শুনলাম আজ আমার বিয়ে,, কথাটা শুনে আমার মাথায় তালগাছ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা। আমি ইতস্তত করতে করতে আম্মুকে জিজ্ঞেস করলাম,,
"কি! আজ আমার বিয়ে মানে! বললেই হলো নাকি,, আমি এ বিয়ে কিছুতেই করতে পারবো না!"
আমার কথাটা শুনে আব্বু আমার দিকে প্রচন্ড রাগী লুক নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,,
"তুই বিয়ে করবি না তোর বাপ বিয়ে করবে! আমার মাথা গরম করাস না আতিক,, তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নে! আধঘন্টার মধ্যে আমরা বেরোতে হবে।
"আম্মু, দেখো,, বাবা কি বলছে,, তোমাকে ছেড়ে বাবা নাকি আবার বিয়ে করবে।" আমি মুচকি হেসে কথাটা বললাম।
"চুপ কর আতিক,, আমার মাথা কিন্তু এমনিতেই গরম হয়ে আছে,, বেশি কথা বললে তোর কপালে দুঃখ আছে কিন্তু! বেশ রেগে গিয়েই কথাটা বলল আম্মু।
"কিন্তু মা,, তোমরা অন্তত আমাকে একটিবার বলো,, কনেটা কে?"
"কনে তোর খালাতো বোন অনু।" ক্ষীণ গলায় কথাটা বলল আম্মু।
"কি! অনুর সাথে আমার বিয়ে মানে! অসম্ভব, মরে গেলেও আমি ওই মেয়েকে বিয়ে করবো না! তোমরা আমাকে ক্ষমা করো।
কথাগুলো বলে যেই ড্রয়িং রুম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য পা বাড়াচ্ছিলাম... হঠাৎ আব্বু পেছন থেকে করুন বলে উঠলো,,
"আতিক,, বাবা, আমি তোর পায়ে পড়ি,, তুই আমার এ কথাটা রাখ..! তোর খালুকে আমি কথা দিয়েছি,, যে করেই হোক, তোকে আমি এ বিয়ের জন্য রাজি করাবো। প্লিজ,, বাবা,, তোর খালুর চোখে আমাকে ছোট করে দিস না।"
আব্বুর একনাগাড়ে বলা কথাগুলো কিছুতেই আমার পাষাণ হিয়াকে গলাতে পারলো না! এবার আরো রেগে গিয়ে আমি বললাম,,
"তার মানে তোমরা আগে থেকেই সব ঠিক করে রেখেছিলে,, আমি বিদেশ থেকে ফিরে এলেই তোমরা ওই মেয়েটার সাথে আমার বিয়ে দেবে!! কিন্তু তোমরা একবারের জন্যও ভেবে দেখলে না,, আমি এই বিয়েটা করতে পারব কিনা!"
"প্লিজ আতিক,, তুই আমার এ কথাটুকু রাখ বাবা!" আবার করুন স্বরে কথাটা বলল আব্বু।
"আচ্ছা আব্বু,, দুনিয়াতে কি খুব ছেলের অভাব,, যে ওই পেত্নীটাকে আমার ঘাড়েই চাপাতে হলো!" একটু অনুরাগী কণ্ঠে কথাটা বললাম।
"এ ছাড়া আমার হাতে আর কোনো উপায় ছিল না,, তাই এটা আমায় করতে হয়েছে,, কিন্তু যদি তুই এ বিয়েতে রাজি না হোস তাহলে মেয়েটার মরা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।
কথাটা বলতে বলতে চোখের কোণে হালকা জল এসে জমা হলো আব্বুর। এবার হয়তো আমার পাষাণ হিয়া একটু গলল। অস্থির কণ্ঠে আব্বুকে জিজ্ঞেস করলাম,,
"মানে! কি বলবে একটু খোলসা করে বলো তো আব্বু! তোমার কথাবার্তা কিন্তু মোটেই সুবিধের লাগছে না আমার।"
আমার কথা শুনে আব্বু যেন একটু চমকে উঠলো। তার হাত পা থরথর করে কাঁপছে,, তার মুখে ফুটে উঠেছে গভীর চিন্তার ছাপ। তা দেখে আমি হালকা চিন্তিত হয়ে বললাম,,
" আব্বু,, Are you ok."
"না.. আমি ঠিক নেই! যতক্ষণ না পর্যন্ত তুই অনুকে বিয়ে করে এ বাড়িতে নিয়ে আসছিস,, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি ঠিক হতেও পারবো না।
*
বহু চেষ্টা করেও বিয়েতে অমত করতে পারলাম না আব্বুর আর আম্মুর কথা শুনে। শেষপর্যন্ত সবার কাছে হার মানতেই হলো। রাজি হলাম বিয়ের জন্য। আম্মু আমাকে একটা পাঞ্জাবী, আর একটা পা'জামা দিয়ে রেডি হয়ে আসতে বলল। আমিও আম্মুর ভদ্র ছেলের মতো সেগুলো নিয়ে নিজের রুমে চলে গেলাম রেডি হওয়ার জন্য।
ও.. আপনাদের তো আমার পরিচয়টাই দেওয়া হলো না। আমি রেডি হয়ে নিই,, ততক্ষণে চলুন,, আমি আপনাদের আমার পরিচয়টা দিয়ে দিই,, আমি মিরাজ মাহবুব (আতিক খান)। দেশের বাইরে থেকে পড়াশোনা শেষ করে এবার দেশে ফিরলাম। আমার আব্বু মি. আফরান খান,, বাংলাদেশের টপ বিজনেসম্যানদের মধ্যে একজন। আর আমার মা মৌচাক খান একজন গৃহিণী। আর আমার ছোট বোন জেসমিন খান (পাখি)। সে এবার গ্ৰাজুয়েট কমপ্লিট করলো।
ও.. ভুলেই গেছি,, অনুর ব্যাপারে তো আপনাদের কিছুই বলা হলো না। অনু হলো আমার খালাতো বোন। তার আসল নাম অনামিকা আহসান। সবাই ভালোবাসে তাকে অনামিকা থেকে অনু বলে ডাকি।যাই হোক,, সেও এবার পাখির সাথে গ্ৰাজুয়েট কমপ্লিট করলো।
কিন্তু আমি একটা ব্যাপার কিছুতেই বুঝতে পারছি না,, হঠাৎ কেন অনুর সাথে আমার বিয়ে হচ্ছে। ওকে তো আমি কোনদিন বলিনি যে আমি ওকে ভালোবাসি,, আর আব্বু আম্মুকেও তো কোনদিন বলিনি!! তাহলে কেন ওরা অনুর সাথে আমার বিয়ে দিচ্ছে!!
আপন মনে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজছিলাম,, কিন্তু পেলাম না! তাই রেডি হয়ে আবার ড্রয়িং রুমে ফিরে গেলাম।
লক্ষ্য করলাম আমাকে দেখে আম্মু, আব্বু দু'জনেরই ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠেছে। তাদের হাসতে দেখে আমিও হালকা খুশি হলাম।
এরপর আর দেরি না করে আমি, আব্বু, আম্মু, আর আমার ছোট বোন পাখি বাইরে গিয়ে সোজা গাড়িতে উঠে রওনা দিলাম অনুদের বাড়ির উদ্দেশ্যে।
***"চলবে"***
খালাতো বোনের সাথে বিয়ে (পর্ব ০১)
156
Views
21
Likes
14
Comments
5.0
Rating

সকল মন্তব্যগুলো (14)
খুব সুন্দর হয়েছে পরের পার্ট দিয়েন ভাইয়া
নেক্সট
Super
ভালোই ছিল। দেখি এবার কি হয়!!
চমৎকার লিখেছেন
next
next part
পরের পর্ব একটু তাড়াতাড়ি প্লিজ
পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম
পরের পর্ব তাড়াতাড়ি প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ
পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম
পরের পর্ব চাই
ভালো লাগলে
খুব ভালো লিখেছেন