মায়াজাল

মায়াজাল
আদিত্য তুমি এসেছো?

আদিত্য: হুম এসেছি মায়া

কোনো এক বিশাল ছাদে দাঁড়িয়ে আছে মায়া আর আদিত্য বাড়িটা কোনো এক জমিদার বাড়ি বিশাল তার ছাদ মায়া কাঁদো কাঁদো গলায় বলছে


মায়া: পৃথিবী বড়াই সার্থপর! চলো না আমরা একসাথে আমাদের প্রাণ ত্যাগ করি, মুক্তি চাই এই পৃথিবী থেকে,


তখন আদিত্য আর মায়া দুজন দুজনার হাত ধরে ছাঁদ থেকে লাফ দেয়, আর তখনই আকাশে ঘুম ভেঙে যায় প্রতিদিন একই শপ্নে আকাশের ঘুম ভঙ্গে আকাশ এই শপ্নের কোনো মানেই পায় না অনেক ডাক্তার দেখিয়েছে সে, কেউই এর চিকিৎসা করতে পারছে না, একমাস ধরে একই শপ্ন দেখছে সে অবাক করা ব্যাপার হলো আদিত্য এর চরিত্রে সে যাকে দেখে সে হুবহু আকাশের মতই দেখতে, প্রতিদিন একই শপ্নে সে অভস্ত্য হয়ে গেছে, ঘড়িতে তাকিয়ে দেখে ৮টা বেজে গেছে সর্বনাশ অফিসে যেতে তো লেট হয়ে যাচ্ছে বিছানা থেকে উঠে বসে সে তারাতাড়ি করে স্নান করে নাস্তা শেষ করে, তারাহুরোতে ঠিকমতো খেতেও পারে না সে, নাহ আজকেও লেট কিছুদূর যেতেই গাড়িটা হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায় কোনোভাবেই স্টার্ট নিচ্ছে না

আকাশ: শালা আমার কপালটাই খারাপ (মানে মনে)



গাড়িটা গ্যারেজে দিয়ে বাসের জন্য দাড়িয়ে থাকি, এছাড়া কোনো উপায় নেই আমার কাছে, অফিস আমারই লেইট হলেও চিন্তা নেই অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও বাস পেলাম না একটা রিক্সা ডাক দিলাম আমি রিক্সায় উঠতে যাব ঠিক তখন-ই একটা মেয়ে রিক্সায় উঠে পরে, মেয়েটির দিকে তাকাতেই আমি পুরাই টাস্কি এটা তো আমার দূর শপ্নের সেই মেয়েটি, মেয়েটিকে দেখে আমার মুখ থেকে কোনো কথায় বের হয় না রিক্সায় করে মেয়েটি চলে যায় আমি সেখানেই দাড়িয়ে থাকি মনে মনে ভাবতে থাকি এটা কীভাবে সম্ভব? শপ্নের এই মেয়েটি হঠাৎ আমার সামনে এতদিন ধরে শপ্নকে তেমন পাত্তা দেয়নি কিন্তু আজকে নাহ আর ভাবতে পারছি, মেয়েটিকে আমি আগে কোনোদিন দেখি নি তবু মেয়েটা আমার সপ্নে আসতো আর আজ সরাসরি দেখলাম কতক্ষণ এভাবে দাড়িয়ে ছিলাম মনে নেই আমার ঘোর কাটলো গাড়ির হর্ণে আমি পেছনে ঘুরতেই দেখি আমার অফিসের কর্মচারী (রেহান)


রেহান: স্যার আপনি? এভাবে মাঝ রাস্তায় কি করছেন? এক্ষুনি তো এক্সিডেন্ট হতো

আমি: আমাকে অফিস পর্যন্ত লিফট দাও

রেহান: চলুন স্যার

অফিসে এসে কাজে মন দিতে পারছি না বার-বার সেই ঘঠনা মাথায় ঘুরছে কে এই মেয়েটি? কেন আমার সপ্নে আসে? আজকের দেখা হওয়াটা কি মিরাক্কেল নাকি কোনো বৈজ্ঞানিক কারণ আছে এরকম নানা প্রশ্ন মাথায় ঘুরছে কাজে মন বসাতে পারলাম না তখন-ই আমার কেবিনে আমার ছোট বোন আসে সে এই অফিসের অর্ধেক মালকিন (বৃষ্টি)


বৃষ্টি: কিরে ভাইয়া এমন মুখ গোমড়া করে বসে আছিস কেন?

আমি: নারে কিছু না

বৃষ্টি: এই তুই কি প্রেমে পড়ছিস?

আমি: কেন বলতো? হঠাৎ এই প্রশ্ন?

বৃষ্টি: না এই তোকে হাসতে দেখি আবার মুখ গোমড়া করে বসে থাকতে দেখি তাই, এই তুই কি সত্যি প্রেমে পাড়ছিস?

আমি মুচকি হেসে বললাম

আকাশ: খুব পেকেছিস না?

বৃষ্টি: বলনা ভাইয়া প্রেমে পড়েছিস?

আমি: না

বৃষ্টি: না এখানে রহস্যর গন্ধ পাচ্ছি

আমি: তোর নাকের সমস্যা আছে

বৃষ্টি: কী বললি আমার নাকে সমস্যা দাড়া দেখাচ্ছি মজা এটা বলে সে আমার নাকে চেপে ধরে আমি ওকে নাকি স্বরে বলি

আকাশ: এঁইঁ ছাঁড়ঁ বঁলঁছিঁ ভাঁলোঁ হঁচ্ছেঁ নাঁ

বৃষ্টি: আরো বলবি?

আকাশ: না😑

বৃষ্টি: মনে থাকে যেন কথাটা

আকাশ: হুম মনে থাকবে

বৃষ্টি: ও ভুলেই গেছি ইন্টারভিউ দিতে সবাই এসে গেছে চল

আমি: আচ্ছা চল

ইন্টারভিউ নিতে আমি আর বৃষ্টি বসেছি

একে একে ইন্টারভিউ নিচ্ছি কাউকেই তেমন যোগ্য মনে হচ্ছে না, সবার শেষে একজন দরজায় নক দেয় স্যার আসতে পারি?

আকাশ: আসুন

দরজার দিকে তাকাতেই আমি হতভম্ব এটা কিভাবে সম্ভব আমি সপ্ন দেখছি না তো? কী হচ্ছে আজ আমার সাথে বারবার আবার আমি শপ্ন দেখছি না তো? শপ্নে দেখা সেই মেয়েটি, মেয়েটি তখন ভিতরে আসলো

বৃষ্টি: বসুন, আপনার নাম

লিলা: জ্বি আমার নাম নিলা

বৃষ্টি: আপনার ফাইল গোলো দিন

নিলা: এই নিন মেম

বৃষ্টি: হুম ভালোই তো রেজাল্ট তো ভালোই

বৃষ্টি তখন নিলাকে কিছু প্রশ্ন করে আর নিলা খুব স্মার্ট ভাবে উত্তর দেয়

বৃষ্টি: কিরে ভাইয়া তুই কোনো প্রশ্ন করবি না?

আকাশ: কিছু বলছিস?

বৃষ্টি: কি হয়েছে তোর শরীল খারাপ

আকাশ: কই না তো?

বৃষ্টি: তখন থেকে দেখছি তোকে কিছু তো হয়েছে বল আমাকে?

আকাশ: না কিছু হয়নি কই ফাইলটা দে

আকাশ ফাইলে দেখে তার সার্টিফিকেটে প্রতিটি পরিক্ষায় প্রথম

আকাশ: হুম ভালোই তো

বৃষ্টি: আমার মনে হয় একে নেয়া উচিত তোর কি মনে হয়

আকাশ: হুম তোর যা মনে হয়

বৃষ্টি: ওকে মিস নীলা আপনি সিলেক্টেড কাল থেকে জয়েন করবেন
নীলা: ধন্যবাদ মেম ধন্যবাদ স্যার

নীলা উঠে চলে যাওয়ার পর বৃষ্টি আকাশের কাধে হাত রেখে জিজ্ঞেস করে

বৃষ্টি: ভাইয়া তোর কি হয়েছে বল আমাকে

আকাশ: না কিছুই হয়নি

বৃষ্টি: কিছু তো হয়েছে আমাকে বলবি না তো

আকাশ তখন এটা ওটা বলে কথা ঘুরিয়ে নেয় বৃষ্টি চলে যায় আকাশ একা একা বসে থাকে মনে হাজারটা প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে তার, কে এই মেয়েটি? কেনই আমার শপ্নে আসে কেনইবা এত দিন পর ওর সাথে এভাবে দেখা হলো? কেইবা সে চাকরির ইন্টারভিউ দিতে এই অফিসে আসলো? ব্যাপারটা কি কাত্যালীয় নাকি এর পিছনে কোনো কারণ আছে? নাহ সে আর কিছুই ভাবতে পারছে না মাথাটা ব্যাথা করছে খুব চোখ অন্ধকার হয়ে আসছে কখন যে আকাশ টেবিলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পারে তা সে নিজেই জানেনা, ঘুমটা ভাঙ্গে ফোনের রিংটোনে স্ক্রিনে না তাকিয়ে সে ফোনটা রিসিভ করে

আকাশ: হ্যালো

ওপাস থেকে: আকাশ কেমন আছো?

ঘলাটা শুনে চিনতে পারে ডাক্তার সুচিন্ত পাল তার আকাশে তিনিই চিকিৎসা করছেন

আকাশ: এইতো আছি, আপনি কেমন আছেন?

সুচিন্ত: ভালো, পরে কি তোমার কোনো সমস্যা হয়েছিল?

আকাশ তখন কিছুই বলে না শুধু বলে

আকাশ: সন্ধায় আপনার অফিসে আসছি

সুচিন্ত: আবার কি কোনো সমস্যা হয়েছে?

আকাশ: আমি সব আপনার অফিসে এসে বলবো এখন রাখি

এটা বলেই আকাশ কল কেটে দেয় আর তার কেবিনে যায়
অনেক চেষ্টা করেও কাজে মন বসছে না আকাশের, আকাশ তখন অফিসের পিয়নকে ডাকে

পিওন: জে স্যার কিছু কইবেন?

আকাশ: আজকে যে ইন্টারভিউতে সিলেক্ট হয়েছে তার ফাইটা নিয়ে আসো

পিওন: জে স্যার

কিছুক্ষণ পর পিওন মায়ার ফাইল নিয়ে আসে
আকাশ ফাইলটা দেখে তার ঠিকানা কোনো এক অনাথ আশ্রম তাহলে কি মায়া অনাথ? ফাইলটা বন্ধ করে চুপচাপ কিছুক্ষণ বসে থাকে সে তারপর তার কাজে মন দেয়ার চেষ্টা করে কিন্তু কাজে মন বসে না তাই সে অফিস থেকে বাড়ি চলে আসে এসেই একটা লম্বা ঘুম দেয় যদি আবার সপ্নে কিছু দেখে কিন্তু না সে কিছুই দেখলো না, ঘুম ভঙ্গার পর ঘরিতে তাকিয়ে দেখে সন্ধা ৬টা বাজে, আকাশ রেডি হয়ে চলে যায় সুচিন্তর অফিসে সুচিন্তিত তখন তার কেবিনে বসে একটা ফাইল দেখছিলো আকাশ কে দেখে বলে

সুচিন্ত: আবার কি কিছু হয়েছে? দুটুরে তোমার গলা শুনে মনো হলো তুমি খুব চিন্তিত

আকাশ তখন আজকের সব ঘঠনা সুচিন্তকে বলে, সব শুনে সুচিন্ত যা বলে এতে আকাশের চুল দাড়িয়ে যায়, নিজের কানকে সে বিশ্বাস করতে পারে না

চলবে

গল্প: মায়াজাল
লেখেক: হাসিব_আল_আকাশ
পর্ব: 1
22 Views
0 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this:
(0)

মন্তব্য

কোন মন্তব্য নেই

সকল পর্ব

মায়াজাল
পর্ব 1 13-Sep-2024
0
0
0.0