মস্তবড় একটা ক্লাস রুমে একজন ইংলিশ টিচার নবম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের ইংলিশে কিছু লেকচার দিচ্ছেন! এমন সময় হঠাৎ কোত্থেকে একটি বয়স পনেরোর মেয়ে এসে করুন স্বরে বলল-
একটি মেয়ে: May I come in sir!
ইংলিশ স্যার: (মেয়েটির দিকে না তাকিয়ে) Yes, come in.
স্যারের কাছ থেকে পারমিশন পেয়ে মেয়েটি মুচকি হেসে ক্লাসরুমে প্রবেশ করলো। সে রুমে প্রবেশ করতেই ক্লাস সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীগুলো তার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। আর সবাই ফিসফিস করে বলতে লাগলো,, এই, মেয়েটা কে রে? তোরা কি কেউ ওকে চিনিস! আমি আগে তো কোনোদিনও দেখেনি।
সবাই ফিসফিস এই কথাগুলোই একে অপরকে বলে চলেছে।
মেয়েটি স্যারের কাছে গিয়ে আবার করুন স্বরে বললো-
মেয়েটি: স্যার, আমি কোথায় বসবো!
ইংলিশ স্যার: (মেয়েটির দিকে তাকিয়ে একগাল হেসে) দাঁড়াও,, আগে সবার সাথে তোমাকে পরিচয় করিয়ে দিই। My dear students, এই মেয়েটি হলো আমাদের স্কুলের প্রধান শিক্ষকের মেয়ে বৃষ্টি খান। সে আগে অন্য স্কুলে পড়তো,, কিন্তু এবার আমাদের স্কুলে ভর্তি হয়েছে। তোমরা একে একে সবাই বৃষ্টিকে নিজেদের পরিচয় দাও! জুই, তোমার দিক থেকেই বরং শুরু হোক।
জুই: হাই বৃষ্টি, আমি জেসমিন আক্তার। সবাই আমাকে ভালোবাসে জুই বলেই ডাকে,, তুমিও আমায় জুই বলেই ডেকো,, কেমন!
বৃষ্টি: হাই, জুই!
সুবর্ণা: হাই বৃষ্টি, আমি সুবর্ণা শারমিন।
বৃষ্টি: হাই সুবর্ণা!
এভাবে এক এক করে ক্লাসের সব ছেলে-মেয়েরা বৃষ্টিকে নিজেদের পরিচয় দিতে লাগলো। পরিচয় দিতে দিতে একপর্যায়ে দাঁড়ালো বয়স সতেরোর একটি ছেলে। ছেলেটি দাঁড়িয়ে বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলতে লাগলো-
একটি ছেলে: হাই বৃষ্টি, আমি আকাশ ইসলাম। আমার ক্লাস রোল ০১. আমার গান গাইতে, গল্পের বই পড়তে, বিশেষ করে ছবি আঁকতে খুব ভালো লাগে। আমার স্বপ্ন,, আমি একজন আর্টিস্ট হবো। আচ্ছা মিস. বৃষ্টি,, তোমার কি কি করতে ভালো লাগে। আর তুমি ভবিষ্যতে তুমি কি হতে চাও?
আকাশের কথাগুলো শুনে তার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকালো বৃষ্টি। এতক্ষণ ধরে সবাই নিজেদের পরিচয় দিল,, কিন্তু কেউ বলেনি তাদের কি কি করতে ভালো লাগে কিংবা তাকেও জিজ্ঞেস করেনি তার কি কি ভালো লাগে! আকাশের কথায় বৃষ্টি কোমল স্বরে বলতে লাগলো-
বৃষ্টি: আমার ছবি আঁকতে, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে, আর গল্পের বই পড়তে খুব ভালো লাগে। আমার স্বপ্ন, আমি একজন টিচার হবো। কারণ- আমার ছোটদেরকে শাসন করতে খুব ভালো লাগে।
বৃষ্টির কথাগুলো শুনে ক্লাসের সবাই হি. হি. হি. হি. হাসতে শুরু করে দিল। যার কারণে বৃষ্টি একটু লজ্জা পেয়ে গেল। সবাইকে এভাবে হাসতে দেখে ইংলিশ স্যার সবাইকে উদ্দেশ্য করে একটু কড়া গলায় বললেন-
ইংলিশ স্যার: Shut up, shut up everyone! He said a very nice thing! Why did everyone start laughing at him?
বৃষ্টি মা, তুমি ওইখানে গিয়ে বসো। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘন্টা দিয়ে দেবে। তখন আর আমার ক্লাস নেওয়া হবে না!
স্যারের কথাগুলো শুনে বৃষ্টি জুইয়ের পাশে গিয়ে বসে পড়ল। আর ক্লাস ছেড়ে দু'জনে মেতে উঠলো নানারকম মজার কথাবার্তায়।
*
স্যার ক্লাস শেষ করে বাইরে বেরিয়ে গেলেন। এই বিদ্যালয়ে মেয়েদের জন্য কমন রুম দেওয়া হয় নি। তাই মেয়েরা একদিকে বসে হাসি, ঠাট্টা করতে লাগলো। আর ছেলেরা আরেকদিকে বসে হাসি ঠাট্টা করতে লাগলো।
স্যার চলে যাওয়ার খানিকক্ষণ পর কোত্থেকে এসে হাজির হলো একদল মাস্তানের মতো দেখতে ছেলে। সবারই উসকো খুসকো চুল। আর মুখগুলো দেখতে খুবই বিশ্রী লাগছিল।
তাদেরকে দেখে ক্লাসের সবাই হকচকিয়ে উঠলো। বৃষ্টি লক্ষ্য করলো সবাই ভয়ে বারবার ঢোক গিলছে। কিন্তু বৃষ্টি বুঝতে পারছে না সবাই কেন এমন ভয় পেয়ে রয়েছে।
ছেলেগুলো এসে সোজা আকাশের দিকে এগিয়ে গেল। বৃষ্টি একনজরে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে।
ছেলেগুলো আকাশের একদম কাছে গিয়ে সেখানের যেই ছেলেটা সবেচেয়ে বিশ্রী চেহারার সেই ছেলেটা আকাশের শার্টের কলার ধরে ঠাস ঠাস করে দুটো থাপ্পর বসিয়ে দিল তার (আকাশের) গালে। ছেলেটা যখন আবার আকাশকে আরেকটা থাপ্পর মারতে যাবে এমন সময় হঠাৎ ছুটে এসে বৃষ্টি ছেলেটার হাতটা আটকালো।
*
এই ছেলেগুলো কারা? তারা আকাশকেই বা মারলো কেন? কি হয়েছে? আর কি হতে চলেছে এবার। বৃষ্টির কোনো ক্ষতি হবে না তো!
জানতে হলে অবশ্যই চোখ রাখতে হবে পরবর্তী পর্বে। এই পর্বটা কেমন হয়েছে অবশ্যই রিভিউ দিয়ে জানাবেন।
ভাবিনি ফিরে পাবো (পর্ব দুই)
92
Views
19
Likes
6
Comments
5.0
Rating

সকল মন্তব্যগুলো (6)
চমৎকার হয়েছে
দূর্দান্ত
চমৎকার লিখেছেন
অসম্ভব সুন্দর গল্প
পরের পর্ব চাই
নেক্সট