ভাবিনি ফিরে পাবো (পর্ব এক)

ভাবিনি ফিরে পাবো (পর্ব এক)
পাঁচ বছর পর আজ দেশের মাটিতে পা রাখলো বৃষ্টি। এয়ার পোর্টের বাইরে বেরিয়ে এসে সে দেখলো পাঁচ বছরে অনেকটাই পরিবর্তন এসেছে ঢাকা শহরের। বড় বড় বিল্ডিং,, অফিস,, কোম্পানি,, কত শত গাড়ি! এত কিছু দেখে সে মনে মনে ভাবতে লাগলো,, সত্যিই আজকের ঢাকা শহরের সাথে আজ থেকে পাঁচ বছর আগের ঢাকা শহরের কোনো মিল নেই!! সবদিক দিয়েই পরিবর্তন এসেছে! কিন্তু পরিবর্তন আসেনি শুধু আমার জীবনের। যেই কষ্ট পাঁচ বছর আগে পেয়েছিলাম সেই কষ্টের বোঝা আজও আমায় বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। জানিনা এই কষ্টের বোঝা কতদিনে কমবে!


বৃষ্টি আপন মনে কথাগুলো ভাবছিল হঠাৎ তার সামনে একটা রিকশা এসে হাজির হলো। রিকশাওয়ালা তাকে রিকশায় উঠতে বললো। বৃষ্টি ভদ্র মেয়ের মতো সাথে থাকা ব্যাগগুলো নিয়ে রিকশায় উঠে বসলো। রিকশায় উঠে সে রিকশাওয়ালাকে নিজের গন্তব্য স্থানের কথা বলতেই রিকশাওয়ালা তাকে তার গন্তব্য স্থানের দিকে নিয়ে যেতে লাগলো।

রিকশা এয়ার পোর্ট থেকে কিছুদূর এগিয়েছে,, যেতে যেতে বৃষ্টির হঠাৎ চোখ পড়লো একটা দোকানের সামনে একটি পাগলকে পড়ে থাকতে দেখে! তার মনে হতে লাগলো,, এই পাগলটাকে সে চেনে।
পাগলটাকে ভালো করে দেখবার জন্য বৃষ্টি রিকশাওয়ালাকে রিকশা থামাতে বলল।
বৃষ্টির কথা শুনে রিকশাওয়ালা রিকশা থামালো।
রিকশা থামতেই বৃষ্টি এক দৌড়ে পাগলটার কাছে এসে হাজির হলো। কিছু একটা ভেবে বৃষ্টি পাগলটার একটা হাত নিজের হাতে ওপর রেখে অবাক হওয়া কন্ঠে বলতে লাগলো-

বৃষ্টি: একি আকাশ তুমি,, তুমি এই নোংরা, ছেঁড়া পোশাকে কেন? আর এখানে এভাবে পাগলের মতো বসে আছো কেন! চুল, দাঁড়ি-গোফ কত বড় বড় হয়ে গেছে! বহুদিন ধরে শেভ করো নি মনে হচ্ছে! কি হলো আকাশ,, চুপ করে আছো কেন? কিছু তো বলো!

পাগলটা কিছু না বলে বৃষ্টির দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। বৃষ্টি আরো কিছু বলতে যাবে এমন সময় হঠাৎ কোত্থেকে একজন বয়স ৩৫ এর ছেলে আর বয়স ৩০ এর মেয়ে এসে বৃষ্টির থেকে পাগলটার হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে চলে যেতে লাগলো।
পাগলটা যাবার সময়ও বৃষ্টির দিকে সেই একই ভঙ্গিতে তাকিয়ে রইলো। যেন পাগলটা তাকে কিছু বলতে চাইছে।


বৃষ্টি সেখানে আর দাঁড়িয়ে না থেকে আবার রিকশার দিকে ফিরে গেল। সে রিকশায় উঠতেই রিকশাওয়ালা আবার রিকশা চালানো শুরু করল।
আধঘন্টা পর একটা দো-তলা বিল্ডিং এর সামনে এসে রিকশা থামালো রিকশাওয়ালা।
বৃষ্টি রিকশা থেকে নেমে রিকশাওয়ালার ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে নিজের ব্যাগগুলো হাতে নিয়ে বিল্ডিং এর মেইন গেইট দিয়ে ভেতরে চলে গেল সে।
বিল্ডিং এর সদর দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়ে কলিং বেল বাজাতে লাগলো বৃষ্টি।

কলিং বেল বাজানোর আওয়াজ শুনতে পেরে একজন মধ্যবয়স্কা মহিলা হন্তদন্ত হয়ে সদর দরজার সামনে এসে দাঁড়ালেন এবং সদর দরজাটা খুলে দিলেন।
দরজা খুলে বৃষ্টিকে দেখতে পেয়ে মহিলাটি আনন্দে আত্মহারা হয়ে বলতে লাগলেন-

ববিতা চৌধুরী: ও... চলে এসেছিস! কেমন আছিস মা! আর এভাবে শুকিয়ে গেছিস কেন? ওখানে নিশ্চয়ই ভালো-মন্দ খেতে পাস নি! যা তুই ফ্রেশ হয়ে আয়! আমি আজ তোর জন্য তোর সবচেয়ে পছন্দের খাবারগুলো রান্না করছি! সব খেতে হবে কিন্তু!

বৃষ্টি মায়ের কথার কোনো উত্তর না দিয়ে সোজা ওপর তলার দিকে চলে গেল। ওপর তলায় এসে নিজের রুমের দিকে এগিয়ে গেল সে। রুমের সামনে এসে দেখলো দরজাটায় তালা লাগানো। তা দেখে সে নিজের সাইড ব্যাগ থেকে একটা চাবি বের করে তালাটা খুলল। পাঁচ বছর ধরে তালা লাগানো ছিল বলে প্রথমে খুলতে একটু অসুবিধা হচ্ছিলো। কিন্তু বৃষ্টির কাছে হার মানলো তালাটি।
দরজা খুলে যেতেই এবার ভেতরে প্রবেশ করে ভেতর থেকে দরজাটা লক করে দিল বৃষ্টি। পেছনে ঘুরে তাকাতেই সে দেখলো পাঁচ বছর আগে নিজের ঘরটা যেমন দেখে গিয়েছিল আজও ঠিক তেমন ভাবেই পড়ে আছে তার ঘরটা। তবে যেখানে সেখানে মাকরাশা জাল বুনে আস্তানা গেড়েছে।
ব্যাগগুলো রুমে রেখে দিয়ে ফ্রেশ হওয়ার জন্য ওয়াশরুমের দিকে চলে গেল বৃষ্টি।
কিছুক্ষণ পর সে ফ্রেশ হয়ে আবার রুমে ফিরে এলো। টাওয়াল দ্বারা হাত-মুখ মুছতে মুছতে তার চোখ গিয়ে পড়লো ফ্রেম দিয়ে বাঁধাই করা একটা ছবির উপর। ছবিটা দেখে নিজের অজান্তেই চোখের কোণে জল এসে জমা হলো বৃষ্টির। হাত-মুখ মোছা শেষে ছবিটার দিকে এগিয়ে গেল সে! একটা টুলের সাহায্যে ছবিটা নামিয়ে বিছানায় গিয়ে বসলো সে! ছবিটার দিকে খানিকক্ষণ একমনে তাকিয়ে থেকে কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলো-

বৃষ্টি: আমায় ক্ষমা করো আকাশ! আমি তোমার ভালোবাসাকে সম্মান দিতে পারি নি। তবে আমি তো আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলাম বলো,, কিন্তু পারি নি!
কিন্তু আজ তোমার এই অবস্থা কেন? কেন তুমি ওভাবে পাগলের মতো রাস্তার ধারে পড়ে ছিলে! আচ্ছা তুমি সুস্থ আছো তো!


কথাগুলো ভাবতে ভাবতে কখন যে বৃষ্টি বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে ঘুমের দেশে চলে গেছে,, সে টেরই পায়নি!


বৃষ্টি খুব ক্লান্ত। খুবই ক্লান্ত। সে একটা লম্বা ঘুম দিক। ততক্ষণে চলুন তার জীবনের অভিশপ্ত ইতিহাসটা জেনে আসি।
সবাই জানতে চান তো আকাশ-বৃষ্টির সম্পর্কের কথা! আকাশ কি সত্যিই পাগল হয়ে গিয়েছে! সে কি কোনোদিন সুস্থ উঠবে না!
পাঁচ বছর ধরেই বা বৃষ্টি বাইরে ছিল কেন? আকাশ-বৃষ্টি যদি দু'জন-দু'জনকে ভালোবেসে থাকে তাহলে কেন আলাদা হতে হয়েছিল তাদের।
জানতে হলে অবশ্যই গল্পের সাথে থাকেতে হবে!
112 Views
16 Likes
2 Comments
4.8 Rating
Rate this:
(15)

মন্তব্য

সকল মন্তব্যগুলো (2)

Reader photo
পাঠক
20-Sep-2024, 11:17 AM

দারুণ দারুণ দারুণ হয়েছে

মোঃ আলমগীর হোসেন (আতিক)
মোঃ আলমগীর হোসেন (আতিক)
20-Sep-2024, 11:35 AM

ধন্যবাদ

Reader photo
রাজশ্রী
18-Sep-2024, 10:57 PM

চমৎকার হয়েছে