নীল প্রজাপতি পর্ব ২

এদিকে আদ্রিয়ানের ক্লাসমেটরা লুকিয়ে লুকিয়ে হাসছিল, আদ্রিয়ান এই দেখলে কী করত তা সবাই জানত। আদ্রিয়ান আহত হয়ে প্রমিকে শাস্তি কমাতে বলল। হঠাৎ নেহাকে প্রমি বলল, "কী? কমাবো?"
নেহা বলল, "ঠিক আছে আপু। আমি কমিশন দিলাম। উনি যেন কান ধরে দশবার কান ধরে উঠবস করে।"
সিনথিয়া আপু বলল, "নে আদ্রিয়ান, শুরু কর।"
এক প্রকার বাধ্য হয়ে আদ্রিয়ান জুনিয়রদের সামনে কান ধরে উঠবস করে আর সবাইকে গালি দিতে থাকে মনে মনে।
​শাস্তি শেষ হতেই সবাই জড়ো হয় ক্যান্টিনে। আদ্রিয়ান এদিকে কথা দিয়েই সবাইকে ধুয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে নেহা, কলি আর নেহার ক্লাসমেট কোয়েল ও আঁখি একটি টেবিলে বসে। বিষয়বস্তু ছিল আদ্রিয়ানের শাস্তি। ওদের কথাবার্তা কিছুটা কানে আসে, আর বলে,
"তোদের কারণে আমার মান-সম্মানের ফালুদা হয়ে গেল। এখন তো এটা জুনিয়রদের কাছে হট টপিক হয়ে গিয়েছে।" বলে সে তাকালো ওদিকে, দেখল ওদের সাথে নেহাও আছে আর ডায়েরিতে ও কী যেন লিখছে। হঠাৎ শুনতে পায়, "নেহা, চল এখুনি ক্লাস শুরু হয়ে যাবে।" শুনেই নেহা তাড়াহুড়া করে ব্যাগ গুছাতে যেয়ে পড়ে যায় ডায়েরিটা। ক্লাসের জন্য চলে যায় সে।
আদ্রিয়ানের ক্লাসমেটরা ক্লাসের জন্য চলে গেলেও আদ্রিয়ান কিছুক্ষণ বসে থাকে। এরপর উঠে চলে যায় ঐ টেবিলের কাছে, যেখানে নেহা বসে ছিল। তুলে নেয় ডায়েরিটা, যা নেহার ব্যাগ থেকে পড়ে গিয়েছিল। ডায়েরিটা নিজের ব্যাগে রেখে দিয়ে সেও চলে যায় ক্লাসের উদ্দেশ্যে।

​অন্যদিকে, মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে একটি নিষিদ্ধ সংগঠন, যা দেশকে ধ্বংস করার কাজে উঠে পড়ে লেগেছে। যাদের সিক্রেট কোড "Fly"। এই নিষিদ্ধ সংগঠনের লিডার আরিয়ান হোসেন খান। এ একসময় ছিল আদ্রিয়ানের বেস্ট ফ্রেন্ড। এখন সে আদ্রিয়ানকে পথের কাঁটা হিসেবে দেখে। তার স্ত্রী সাদিয়া ইসলামও প্রতিশোধ চায়, সে তাকে সবার সামনে অপমানিত করতে চেয়েছিল।

​"বস, অস্ত্রগুলো চলে এসেছে, আমরা কি এখনই অ্যাকশনে নামব ?" রিয়াদ বলল, আরিয়ানের ডান হাত নামে সে পরিচিত।
"এখনই না। পরিস্থিতি বুঝে তারপর আমরা আক্রমণ করব। ঠিক আছে।" আরিয়ান বলল।
ঠিক আছে, বস।" বলে চলে গেল রিয়াদ।

​ঐদিন রাতে, আদ্রিয়ান বসল নেহার ডায়েরি নিয়ে। ডায়েরির প্রথম পৃষ্ঠাতে একটা কবিতা ছিল যা পড়ে আদ্রিয়ান আনমনেই হারিয়ে যায়।

​খুব বেশকিছু চাই না আমি,
শুধু চাই নির্জন একটি প্রহর;
সেখানে থাকবে দুটি নাম,
তুমি আর আমি।
​অনেক বেশকিছুই চাই না আমি,
শুধু চাই
তুমি নামক এক সত্তাকে,
যাকে ধরে বেঁচে থাকব অনন্তকাল।

​শুধু চাই নির্জন এক রাত্রি,
সেখানে তুমি আর আমি তাকিয়ে থাকব
সমুদ্রের উপরের আকাশে ভেসে থাকা
এক রুপালি চাঁদের দিকে।
একে অপরের হাত ধরে,
উচ্চারিত হবে একটি শব্দ, "ভালোবাসি"।
একে অপরকে জড়িয়ে ধরে,
বসে থাকব সেখানে।
সেখানে বসে দেখব রাতের আকাশে
ভেসে বেড়ানো মেঘের নৌকাকে,
যাতে বসে আছে সেই রুপালি চাঁদ।
সমুদ্রের পাড়ে বসে শুনব তার গর্জন,
নীরব থাকবে চারপাশ,
যাকে বলব সাগরের শঙ্খ।
সেই শঙ্খ বাজায় বাতাসে।
​হঠাৎ দেখব, কালো মেঘগুলো ভেসে এসে,
ঢেকে দেবে চাঁদটাকে,
শোনাবে তার গর্জন, দেখাবে তার তেজ।
ভয়ে আমি ধরব জড়িয়ে তোমাকে,
তুমি বলবে আমায়,
"ভয় নেই, আমি থাকতে
কীসের এতো ভয় তোমার?"

​কতদিন অপেক্ষা করেছি,
একটা নির্জন প্রহরের।
কত করে চেয়েছি তোমাকে,
কিন্তু এলে না তুমি।
যা স্বপ্ন ছিল, স্বপ্নই রইল।
কিন্তু আমি তবুও
"নির্জন একটা প্রহর চাই।"

"আমিও তো এমন একটা নির্জন প্রহর চাই, সেখানে শুধু আদ্রিয়ান আর নেহা থাকবে। কেন বুঝ না তুমি নেহা, তুমি ছাড়া আর কাউকে যে আমি আমার পাশে কল্পনা করতে পারি না। ঠিক আছে, তোমার এ বিশ্বাস অর্জনের জন্য সবকিছু করব আমি।" আনমনেই বলল আদ্রিয়ান।

​অন্যদিকে নেহা তার ব্যাগে ডায়েরি না পেয়ে কাঁদতে থাকে, কারণ ডায়েরিটা যে তার ভীষণ প্রিয়। ডায়েরিটা তার মামা গিফট করেছিল। হঠাৎ মনে পড়ল নেহার, ক্যান্টিনে তাড়াতাড়ি করে ব্যাগ গুছাতে হয়তোবা পড়ে গিয়েছে।

​রাতে আদ্রিয়ান নিজের বুকের বাম পাশে ব্লেড দিয়ে কেটে একটা নাম খোদাই করল, যার থেকে কাটা মাংসের উপর থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ল বাথরুমের ফ্লোরে। নিজের কাজে সন্তুষ্ট হলেও ব্যথার জ্বালায় সারারাত আদ্রিয়ান ঘুমাতে পারেনি। নেহার কাল্পনিক অনুভবে সারা রাত কাটিয়ে দিল।

​নেহা তার ডায়েরিটা আর খুঁজে পায়নি। তাই সে পাওয়ার আশা ছেড়ে দেয়। ডায়েরি হারানোর দুদিন পর একদিন নেহা, জুলিয়া, আঁখি আর নেহালি ইভটিজিং এর শিকার হতে হতে বেঁচে যায়।
49 Views
0 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this:
(0)

মন্তব্য

কোন মন্তব্য নেই